কাঠুয়া ধর্ষণ কান্ডের চার্জশিটে উঠে এল নয়া তথ্য

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ওয়েব ডেস্ক, বেঙ্গল টুডেঃ

বিগত ১০ ই জানুয়ারি জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠুয়া গ্রামে আট বছরের একটি মেয়েকে অপহরণ করে একদল দুষ্কৃতীরা। সেখানে একটি মন্দিরের মধ্যে মেয়েটিকে বন্দি করে রেখে টানা সাতদিন ধরে চলে গণধর্ষণ। খালি পেটে মেয়েটিকে দেওয়া হয় ঘুমের ওষুধ, পায়নি একফোঁটা খাবার। এরপর খুন করার আগে, মেয়েটিকে আরও একবার ধর্ষণ করে এক পুলিশকর্মী। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে চার্জশিট মোতাবেক, উত্তরপ্রদেশ থেকে এক ব্যক্তিকে ফোনে জম্মু ও কাশ্মীরে ডেকে আনা হয় লালসা চরিতার্থ করতে। ১৭ জানুয়ারি জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয় আসিফার দেহ।

সুত্রের খবর, এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সাঞ্জি রামের লক্ষ্য ছিল, রাসসানা এলাকা থেকে বাখরেওয়াল সম্প্রদায়কে হটানো। আর তাই বাখরেওয়াল সম্প্রদায়ের আট বছরের ওই মেয়েটিকে শিকার বানিয়ে বাকিদের মনে ভয় ধরাতে চেয়েছিল। এই ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন পুলিশ অফিসারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের নাম দীপক খাজুরিয়া, সুরেন্দর ভার্মা, পারভেশ কুমারু, সাঞ্জি রামের নাবালক ভাইপো ও সাঞ্জি রামের ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কাঠুয়ার একাংশের দক্ষিণপন্থী মানুষ আবার ধর্ষকদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বলেও জানা যায়।

অপরদিকে সম্প্রতি কোর্টে ট্রায়াল হিসেবে পেশ করা পুলিশের চার্জ শিটে উঠে এসেছে অনেক নতুন তথ্য। জানা যায়, জম্মু ও কাশ্মীর সরকারের দুই বিজেপি মন্ত্রী চৌধুরী লাল সিং এবং চন্দর প্রকাশ গঙ্গা ধর্ষকদের সমর্থনে যে মিছিল বেরিয়েছিল সেই মিছিলে ছিলেন।

কাশ্মীরে সাম্প্রদায়িকতার অস্বস্তিমূলক পরিবেশের মধ্যেও একজন কাশ্মীরি পণ্ডিত পুলিশ অফিসার এই অমানবিক ঘটনার তদন্ত চালিয়ে গিয়েছেন। তিনি হলেন রমেশ কুমার জাল্লা, ক্রাইম ব্রাঞ্চের সর্বোচ্চ পুলিশ সুপার। ঘটনার যথেষ্ট প্রমাণ না পাওয়া যাওয়া অবধি তদন্ত চালিয়ে গিয়েছেন এবং ৯ ই এপ্রিল কোর্টে চার্জশিট জমা দেন। ৯০ দিনের সময়সীমা থাকলেও ১০ দিন আগেই হাইকোর্টে চার্জশিট পেশ করা হয়।

চার্জশিটে অভিযুক্তদের তালিকায় চারজন পুলিশ এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকুরিজীবীর নাম ছিল। আসিফা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার মূলে এদেরই হাত ছিল বলে দাবি করা হয়েছে চার্জশিটে।

এছাড়া আরও জানা যায়, ধর্ষিতা মেয়েটির পরিবার কাশ্মীরের ‘বাখারওয়াল’ সম্প্রদায়ের অন্তর্গত। ‘বাখারওয়াল’রা কোথাও স্থায়ীভাবে বসবাস করেন না। যে সময় থেকে মেয়েটি নিখোঁজ হয়েছিল তার কিছুদিন আগেই তার পরিবার পূ্র্ব জম্মু থেকে ৪৫ কিমি দূরে পাহাড়ের উচ্চভূমিতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল। চার্জশিটে বলা হয়েছে বাখারওয়ালদের সেই জায়গা থেকে উৎখাত করার জন্যই হিন্দুবাদী দলের এই পরিকল্পনা।

প্রসঙ্গগত এই কেসের কর্মকর্তা আর কে জাল্লা, তিনি তদন্তের কাজে জম্মুতে রাজ্য ক্রাইম ব্রাঞ্চে গিয়েছিলেন। এক্ষেত্রে নাভিদ পীরজাদা নামের এক পুলিশ যুবক তাঁকে খুবই সাহায্য করেন। মূলত বিস্ময়কর, জটিল কেস সমাধানের ক্ষেত্রে নাভিদের সুনাম আছে। প্রথমে জাল্লা ও নাভিদ কারওই ধারণা ছিল না, দফতরেরই অনুজ অফিসাররা এই ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। অভিযুক্তরা পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন ব্যাপারটিকে স্থানীয় কিশোরের ‘কামোন্মাদনা’ বলে চেপে যেতে গিয়েছিল বলেও জানা যায়।

সম্পর্কিত সংবাদ