ঝাড়গ্রামে দুস্থ শিশুর পড়াশুনার দায়িত্ব নিল দুই কলেজ পড়ুয়া ছাত্র

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সন্দীপ ঘোষ, ঝাড়গ্রামঃ

বাবা মা হারানো এক দুস্থ শিশুর পড়াশুনার দায়িত্ব ভার নিয়ে নজির গড়লেন ঝাড়গ্রামের দুই কলেজ পড়ুয়া ছাত্র। শারীরিক অসুস্থার কারনে গত কয়েক মাস আগে পরলোকগমন গমন করেছেন শিশুটির বাবা। মা সংসার ছেড়েছেন আগেই। যার ফলে আপাতত ছোটো শিশুটির ঠাঁয় হয়েছে কাকা কাকিমার সংসারে। তাই পড়শুনার ইচ্ছা থাকলেও কে তাঁকে স্কুলে ভর্তি করাবে, কে তার খরচ বহন করবে। শিশুটির পড়শুনায় আগ্রহ দেখে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ঝাড়গ্রাম শহরের দুই কলেজ পড়ুয়া ছাত্র তারা নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে শিশুটিকে ভর্তি করিয়েছে এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেনীতে। প্রয়োজনীয় খাতা, কলম, রাবার, কল কিনেও দিয়েছে তারা। আগামীতে শিশুটির পড়াশুনা যাতে ভালো ভাবে এগোতে পারে তার জন্য দায়িত্বও নিয়েছে তারা।

ঝাড়গ্রাম শহরের কদমকানন এলাকার শিরিষ চক পাডা়র ছোট্ট শিশু ডাক্তার মল্লিক কয়েক মাস আগে তারা বাবা পল্টন মল্লিককে হারিয়েছে। অত্যন্ত দরিদ্র এই পরিবারটি। শিশুটি বর্তমানে তার কাকা অনু মল্লিকের বাড়িতে থাকেন। ডাক্তার স্বপ্ন দেখে আর পাঁচটা ছেলে মেয়ের মতো সেও পড়াশুনা করে বড় হতে চায়। কিন্ত বাধ সেজেছে তার দারিদ্রতা। তার এই ইচ্ছা দেখে এগিয়ে এসেছে কলেজ পড়ুয়া দুই ছাত্র।

কদমকাননের বাসিন্দা ঝাড়গ্রাম রাজ কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র প্রতিম মৈত্র এবং বাছুরডোবার বাসিন্দা কেশিয়াড়ি কলেজের ইঞ্জিনিয়ারিং-এর দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র দেবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়। এই দুই ছাত্র নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে ডাক্তার মল্লিক কে এলাকার শিরিষচক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করায়। এর সাথে নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে ডাক্তারকে স্কুল ব্যাগ,খাতা, কলম, রবার, কল কিনে দিয়েছে। আগামীতেও তার পড়াশুনা যাতে এগিয়ে যায় তার জন্য ব্যবস্থা তারা করবে বলে জানিয়েছে দুই যুবক।

প্রতিম ও দেবজ্যোতিরা জানান, “শিশুটির পড়াশুনায় যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। তার বাবা গত হয়ে যাওয়ার কারনে পড়াশুনা করার মতো তার পরিবেশ নেই। অত্যন্ত দিন দরিদ্রতার সাথে দিন কাটাচ্ছে শিশুটির। শিশুটির পড়শুনার ইচ্ছা দেখে আমরা এগিয়ে এসেছি। আমাদেরকে পাশে পেয়ে শিশুটা হয়তো একদিন ভালো জায়গায় পৌছাতে পারবে। তাই আমরা প্রথমেই ডাক্তার কে এলাকার শিরিষচক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছি। আমাদের নিজেদের অন্যান্য খরচ কমিয়ে টাকা বাঁচিয়ে ওর জন্য খরচ করবো। ভবিষ্যতে আরো অর্থের প্রয়োজন হলে আমরা শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে সাহায্য নেব। এমনকি শিশুটি পড়াশুনা চালিয়ে যেতে চাইলে আমরা তার পাশে আছি।

সম্পর্কিত সংবাদ