আসাম থেকে ধৃত ভুয়ো ডাক্তার

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

অরিন্দম রায় চৌধুরী, বেঙ্গলটুডেঃ

পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন জেলায় কিছুদিন আগেই ধরা পরে বেশ কিছু ভুয়ো ডাক্তার। এলাকায় যারা বেশ রমরমা পসার ফেঁদে বসেছিলেন। অজস্র মানুষের প্রাণ নিয়ে করছিলেন খেলা। এবার আর পশ্চিমবঙ্গ নয়, সুদূর আসাম থেকে ধরা পড়লো ভুয়ো ডাক্তার।

ডাঃ মিঠুন চৌধুরী, রেডিওলজিতে এম. ডি.। কলকাতায় একাধিক বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত। আসামের শিলচর থেকে এক শুভানুধ্যায়ী ডাক্তারবন্ধু ফোন করে গত মাসের শেষাশেষি জানালেন, ডাঃ মিঠুন চৌধুরী নামেই এক ডাক্তার রমরমিয়ে চিকিৎসা চালাচ্ছেন আসাম এবং ত্রিপুরার বিভিন্ন শহরে। ভালই পসার। রোগীর ভিড় লেগেই থাকে চেম্বারে। ডিগ্রির বহর সমীহ করার মতো। MBBS, MD, DM (Rheumatology) FIPM (USA)। শুনে আকাশ থেকে পড়েছিলেন ডাক্তারবাবু।

তবে একই পেশায় একই নামের দু’জন থাকা মোটেই আকাশ থেকে পড়ার মতো অস্বাভাবিক কিছুই নয়। কিন্তু অস্বাভাবিক ঠেকেছিল শিলচরে থাকা এই ডাক্তারবাবুর এক বন্ধুর। ডাক্তারবাবুর পরিচিত কয়েকজন আসামের ডাঃ মিঠুন চৌধুরীর কাছে চিকিৎসা করিয়েছিলেন। এবং প্রেসক্রিপশন দেখে তাদের খটকা লেগেছিল যথেষ্ট। ফোনে খবরটা জানিয়েছিলেন কলকাতার চিকিৎসকবন্ধুকে, “তোর নামে এখানে এক ডাক্তার বেশ জাঁকিয়ে বসেছে। কোথাও একটা গোলমাল লাগছে।”

গোলমাল যে কিছু একটা রয়েছে, কলকাতার ডাক্তারবাবু আন্দাজ করতে পারলেন খোঁজখবর নিয়ে। মেডিক্যাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার ওয়েবসাইট ঘাঁটাঘাঁটি করে দেখলেন, কই, মিঠুন চৌধুরী নামে কোন রেজিস্টার্ড ডাক্তারের খোঁজ আসাম বা ত্রিপুরায় পাওয়া যাচ্ছে না। অবশেষে অভিযোগ দায়ের করলেন ভবানীপুর থানায়।

অভিযোগ পেয়েই সঙ্গে সঙ্গে গোয়েন্দা বিভাগের “Anti-Fraud” শাখার অফিসাররা রওনা দিলেন আসাম। সেখানের ডাঃ মিঠুন চৌধুরীর চেম্বারে গিয়ে সরাসরি হানা দেওয়া হল। জানতে চাওয়া হল, “আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ডাক্তারই নন আপনি। সত্যি? তা হলে স্বীকার করুন। আর যদি মিথ্যে হয়, ডিগ্রি দেখান, রেজিস্ট্রেশন নম্বর বলুন।”

প্রশ্নের উত্তরে ডাক্তারবাবু ভারি সপ্রতিভ ভঙ্গিতে তার ডিগ্রির কাগজপত্র বার করে দিলেন। দিলেন রেজিস্ট্রেশন নম্বরও যা যথারীতি ৫৯১০৭। দেখা গেল নম্বরটি আসলে কলকাতার রেডিওলজিস্ট মিঠুন চৌধুরীর ডাক্তার হিসাবে অনেক বছর আগের পাওয়া রেজিস্ট্রেশন নম্বর। চেপে ধরা হল M.B.B.S.-M.D. ইত্যাদি ডিগ্রিধারীকে। খুঁটিয়ে দেখা হল কাগজপত্র। এবং জেরায় কবুল করতে বাধ্য হলেন শিলচরের মিঠুন চৌধুরী, ডাক্তার নন। ভুয়ো ডাক্তার। তিনি কিছু বইপত্র পড়ে ডাক্তার সেজে বসেছিলেন। বানিয়েছিলেন জাল সার্টিফিকেট, ব্যবহার করতেন স্বনামের কলকাতাস্থিত চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর।

গ্রেফতার করা হয়েছে ভুয়ো ডাক্তারবাবুকে। আনা হচ্ছে কলকাতায় বিচারের জন্য।

সম্পর্কিত সংবাদ