Friday, January 27, 2023
spot_img

বেহালার জেমস লং সরণিতে উদ্ধার ডিপ ফিজ্রে রাখা বৃদ্ধার দেহ

ওয়েবডেস্ক, বেঙ্গল টুডেঃ

৫ই এপ্রিল বেহালার  জেমস লং সরণিতে বাড়ির ভিতরে বড়ো ডিপ ফিজ্রের ভেতর থেকে উদ্ধার হয় এক বৃদ্ধার মৃতদেহ। জানা যায়, তিন বছর ধরে রাসায়নিক দিয়ে মায়ের মৃতদেহ সংরক্ষণ করেছিলেন মৃত বৃদ্ধার ছেলে শুভব্রত মজুমদার। মৃতের নাম বীণা মজুমদার।

সুত্রের খবর, শুভব্রত বাবা-মায়ের সঙ্গেই বেহালার ওই বাড়িতে থাকতেন। তিনি লেদার টেকনোলজি নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। আগে তিনি বানতলার চর্মনগরীর একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন। বর্তমানে বেকার ছিলেন শুভব্রত। এমনকি তাঁর বাবা গোপাল মজুমদার ও মা বীণাদেবীও সরকারি চাকরি করতেন।

এছাড়া জানা যায়, বছর দুয়েক আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন বীণাদেবী। হাসপাতালেই মৃত্যু হয় তাঁর। হাসপাতাল থেকে মায়ের মৃতদেহ বাড়িতে নিয়ে আসেন শুভব্রত। প্রতিবেশীদের তিনি জানিয়েছিলেন দেহ পিসহেভেনে রাখা হয়েছে। কিন্তু বীণাদেবীর দেহ সৎকার করা হয়েছিল কিনা প্রতিবেশীরা সে বিষয়ে কিছু জানতেন না।

পুলিশি সুত্রে খবর, ৪ ঠা এপ্রিল রাতে বেহালা থানার পুলিশ গোপন সুত্রে খবর পেয়ে শুভব্রত মজুমদারদের বাড়িতে তল্লাশী চালিয়ে ওই বৃদ্ধার মৃতদেহ উদ্ধার করেন। দেহ উদ্ধারের পর দেখা যায়, পেটের উপরের অংশ থেকে নাভি পর্যন্ত কাটা ছিল। মনে করা হচ্ছে মৃতদেহের দুর্গন্ধ এড়াতে শরীরের ভেতর থেকে দ্রুত পচনশীল অংশগুলি বের করে নেওয়া হয়েছিল। তবে এক্ষেত্রে পুলিশের অনুমান, লেদার টেকনোলজিতে জ্ঞানী বৃদ্ধার ছেলে শুভব্রতই একাজ করেছে। কারন তল্লাশির দরুন তার ঘর থেকে একাধিক কেমিকেলের বোতলও উদ্ধার করেন পুলিশ।

অপরদিকে বৃদ্ধার স্বামী গোপালবাবু (৮৯)র কাছে স্ত্রীর ডেথ সার্টিফিকেট দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে অস্বীকার করেন বলেও জানা যায়।

এর পাশাপাশি জানা যায়, বীণাদেবীর দেথ সার্টিফিকেট বাড়িতে রেখে অবৈধভাবে তার লিভিং সার্টিফিকেট জোগাড় করেছিলেন শুভব্রত। তিনি মায়ের নামে মোটা টাকা পেনশনও তুলতেন। বর্তমানে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন বেহালা থানার পুলিশ। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত শুভব্রত মজুমদার(৪৫) এবং তাঁর বাবা গোপাল মজুমদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে বেহালা থানার পুলিশ।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
3,681FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles