পুলিশের সাহায্যার্থে সম্পত্তি সহ নিজের বাড়িতে ফিরলেন এক বৃদ্ধ

পুলিশের সাহায্যার্থে সম্পত্তি সহ নিজের বাড়িতে ফিরলেন এক বৃদ্ধ

শান্তনু বিশ্বাস, অশোকনগর:

অশোকনগর থানার অন্তর্গত বনবনিয়া মিলন সংঘ এলাকায় বেনু গোপাল শুর রায় নামে ৭২ বছরের এক বৃদ্ধকে তাঁর স্ত্রী, ছেলে এবং মেয়ে দিনের পর দিন মানসিক অত্যাচার করেন। অভিযোগ, তাকে দিনের পর দিন ধরে তাকে খেতে দেয় না। এমনকি মাঝে মাঝে তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বার করে দেয় বলেও অভিযোগ।

সুত্রের খবর, অশোকনগর থানা অন্তর্গত বনবনিয়া মিলন সংঘ এলাকার বেনু গোপাল শুর রায় বয়স কালে মার্চেন্ট নেভিতে কর্মরত ছিলেন তিনি। বর্তমানে বয়সের ভারে এখন তিনি আর কোন রকম কাজ করতে পারেন না। বেনু বাবুর আরো অভিযোগ সাত কাটা জায়গার ওপর তার বাড়ি সেটা হাতিয়ে নেবার জন্য তার স্ত্রী ছেলে মেয়েকে সাথে নিয়ে এরকম কাজ করছে। মূলত দীর্ঘদিন ধরে তাদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে ওঠেন বেনু গোপাল বাবু। আর সহ্য করতে না পেরে ২রা এপ্রিল বিকেল বেলায় অশোকনগর থানার দ্বারস্থ হন বেনু গোপাল শুর রায়।

পুলিশি সুত্রে খবর, ২রা এপ্রিল বৃদ্ধ বেনু গোপাল শুর রায় অশোকনগর থানায় এসে তাঁর স্ত্রী শেফালি সুর রায় এবং মেয়ে সুস্মিতা সুর রায় এবং ছেলে বিজয় সুর রায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, তারা তাকে খেতে দেয়না এবং মারধর করে মাঝে মধ্যেই বাড়ি থেকে বার করে দেয়। এরপর অশোকনগর থানা বেনু বাবুর অভিযোগ শুনে থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক পলাশ চ্যাটার্জি এস আই বলাই ঘোষকে নির্দেশ দেন বৃদ্ধ বেনু বাবুকে সাথে করে নিয়ে তার নিজের বাড়িতে ঢুকিয়ে দেবার জন্য। সেই মতো অশোকনগর থানার এস আই পুলিশের গাড়িতে করে বৃদ্ধ বেনু বাবুকে নিয়ে যান তার বাড়িতে। বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় তার স্ত্রী সহ ছেলে ও মেয়ে কেউই বাড়িতে ছিলেন না। তবে পুলিশ বৃদ্ধকে তার নিজের ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে আসেন এবং থানার ফোন নাম্বার দিয়ে আসেন বেনু বাবুকে যদি আর কোন দিন অত্যাচার হয় সেক্ষেত্রে যেন পুলিশকে সাথে সাথে খবর দেওয়া হয়। পাশাপাশির বাড়ির লোকজনের সাথেও পুলিশ কথা বলেন বলেও জানা যায়।

উল্লেখ্য এদিন অশোকনগর এলাকায় পুলিশের এহেন মানবিক কাজে খুশি অশোকনগর এলাকা সহ স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে কি বৃদ্ধ হলেই কি সন্তানদের অত্যাচার পাওয়ার আশার স্বপ্নই দেখছেন বেনু বাবুর মতো আর সকল বর্তমান সমাজের বৃদ্ধ বৃদ্ধারা। তাদের মধ্যেও কি ঠিক একই চিন্তা বাসা বাঁধছে।

You May Share This

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.