ঝাড়গ্রামের জুলজিক্যাল পার্কে বাড়তি হরিণদের রেসকিউ সেন্টারে নিয়ে যাবার ভাবনা বনদফতরের

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সন্দীপ ঘোষ, ঝাড়গ্রাম:

ঝাড়গ্রামের মিনি জু তথা জুলজিক্যাল পার্কে হরিণদের রয়েছে সুস্থ ভাবে থাকার জন্য জায়গার অভাব। এক কথায় হরিণের সংখ্যা দিনে দিনে প্রজননের মাধ্যমে বৃদ্ধি পেয়ে গায়ে গায়ে ঠেকে যাবার পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে। হরিণদের খাদ্যের কোন অভাব নেই। শাল জঙ্গলে মোড়া এই জু তে খাবার রয়েছে ভুরি ভুরি। গত সাড়ে চার বছরে এই জুলজিক্যাল পার্ক থেকে হরিণ গুলোকে রাজ্যের কোন রেসকিউ সেন্টারে পাঠানো হয়নি। এভাবেই বিগত কয়েক বছর ধরে ক্রমশ বেড়ে চলেছে চিতল হরিণের সংখ্যা। হরিণ গুলো যাতে ভালো ভাবে থাকতে পারে সেইজন্য বাড়তি হরিণ গুলোকে অন্যত্র পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন দফতর।

বন দফতর সুত্রে জানা যায়, ইতি মধ্যে ঝাড়গ্রামের জুলজিক্যাল পার্কের হরিণগুলোকে রাজ্যের অন্যত্র কোন রেসকিউ সেন্টার বা অন্য কোন জঙ্গলে ছাড়ার জন্য ঝাড়গ্রাম বন বিভাগ থেকে রাজ্য বন বিভাগপর শাখাকে জানানো হয়েছে। এছাড়াও বন দফতর সুত্রে জানা যায় এই জু তে যে জায়গায় সুস্থ ভাবে থাকার জন্য থাকা উচিত ৩২ – ৩৪ টি। সেই জায়গাতে তা ছাপিয়ে এখন প্রায় ৪০ এর দোর গড়ায়। বর্তমানে ঝাড়গ্রামের এই মিনি জুতে মোট হরিণের সংখ্যা ১৪০ টি। যার মধ্যে চিতল ও স্পটেড হরিণ আছে ১২৬ টি,৮ টি বার্কিং ডিয়ার ও বাকী গুলো সব সম্বর হরিণ।

ঝাড়গ্রামের বন বিভাগের আধিকারিক বাসবরাজ হোলেইচ্চি বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে ঝাড়গ্রামের জুলজিক্যাল পার্ক থেকে হরিণ অন্যত্র সরানো হয়নি। এই ছোট্ট জায়গাতে যে সংখ্যক হরিণ থাকার কথা তার চাইতে হরিণ অনেক বেড়েছে। তাই আমরা ইতিমধ্যে বিষয়টি রাজ্য বন বিভাগের শাখাকে জানিয়েছি। যা নির্দেশ আসবে সেই মতো হরিণ গুলোকে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

উল্লেখ্য ঝাড়গ্রাম ব্লকের ধবনি বিটের অন্তর্গত ঝাড়গ্রাম জুলজিক্যাল পার্ক ৩২ একর জমির উপর অবস্থিত। এখানে পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন বন্য প্রানীদের উদ্ধার করে আনা হয়। এখানে হরিণ, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, সাপ, ফিসিংক্যাট, লেপার্ড সহ বিভিন্ন জন্তু জানোয়ার রয়েছে। বর্তমানে এই মিনি জু কে পূর্নাঙ্গ চিড়িয়াখানাতে রুপান্তরিত করার প্রক্রিয়া চলছে। জু কে সম্প্রসারন করার কাজ চলছে। এমনকি এই জু তে দর্শকের আকর্ষণ বৃদ্ধির জন্য সম্প্রতি নিয়ে আসা হয়েছে লেপার্ড।

বন দফতর সুত্রে আরও জানা যায়, আগামী দিনে এই জু তে আরো বেশী সংখ্যক জন্তু জানোয়ার আনার পরিকল্পনা রয়েছে। বন দফতরের আধিকারিকেরা জানাচ্ছেন যে এই পার্কে থাকা হরিণদের খাদ্যের কোন অভাব নেই। তাদের থাকার জন্য প্রয়োজনের তুলনায় জায়গা কম হচ্ছে তাই হরিণ গুলো স্বাচ্ছন্দে ঘুরে বেড়াতে পারছে না। যেহেতু খাবারের পরিমান অনেক তাই প্রজনন ও বেশী হচ্ছে। আর দিনে দিনে হরিণের সংখ্যা বাড়ছে।কিছু গুলো হরিণ অন্যত্র সরানো না হলে পরে সমস্যা আরো বাড়তে থাকবে।

সম্পর্কিত সংবাদ