শ্বাশুড়ীর অত্যাচারে আত্মঘাতী গৃহবধূ, গ্রেফতার শ্বাশুড়ী

শ্বাশুড়ীর অত্যাচারে আত্মঘাতী গৃহবধূ, গ্রেফতার শ্বাশুড়ী

শান্তনু বিশ্বাস, বাগদা:

৩০ শে মার্চ নদীয়া জেলার হাঁসখালী থানার অন্তর্গত শিলবেরিয়া গ্রামে আত্মঘাতী বছর ১৯ এর গৃহবধূ। মৃতের নাম রিংকু ঘোষ। অভিযোগ, গৃহবধূর শাশুড়ী ও ননদের শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারে আত্মঘাতী গৃহবধূ। ঘটনায় গ্রেফতার মৃতের শাশুড়ী।

সুত্রের খবর, ,গত কয়েক মাস আগে বাগদা থানার অন্তর্গত নেতজীপল্লীর তন্ময় ঘোষের সঙ্গে বিয়ে হয় নদীয়া জেলার হাঁসখালী থানার অন্তর্গত শিলবেরিয়া গ্রামের নিমাই ঘোষের ছোট মেয়ে রিংকু ঘোষের। রিংকু ঘোষের বাবা নিমাই ঘোষ পেশায় কৃষক। দিন আনা দিন খাওয়া সংসারের অভাবের মধ্যে দিয়ে নিজের ১৭ কাটা জমি বিক্রি করে ধুমধামের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন।
পারিবারিক সুত্রে দাবী, জামাই তন্ময় ঘোষ কাজের সূত্রে বাইরে থাকে কিন্তু শাশুড়ী গৌরী ঘোষ ও ননদ তুলসী সাহা প্রায়ই তার মেয়ের উপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালাত।

অভিযোগ, ঘটনার দিন সকালে শাশুড়ী ও ননদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হওয়ার পর ফোনে মা কে সব জানায় রিংকু। কিন্তু তার পর থেকে আর ফোনে যোগাযোগ করতে পারেনি রিংকুর পরিবার। পরে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পান যে রিংকু গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে ছুটে আসলে রিংকুর শ্বাশুড়ী ও ননদ তাদের সঙ্গে দূর্বব্যাহার করে বলেও জানান। এরপর তারা বাগদা হাসপাতালে রিংকুর শাশুড়ী এই ঘটনার জন্য দায়ী বলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পাশাপাশি ঘটনার দিন রাতেই বাগদা থানায় মৃতের পরিবার তাঁর শাশুড়ি অর্থাৎ গৌরী ঘোষের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেবার অভিযোগ দায়ের করেন।

পুলিশি সুত্রে খবর, ৩০শে মার্চ রাতে বাগদা থানায় মৃতের পরিবার তাঁর শাশুড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ অনুযায়ী বাগদা থানার পুলিশ ঘটনার দিন রাতেই অভিযুক্ত গৌরী ঘোষকে আটক করে তদন্ত শুরু করেন।পরে তাকে গ্রেফতার করেন। ৩১ শে মার্চ গৌরী ঘোষকে বনগাঁ আদালতে তোলা হয়। বর্তমানে মেয়ের মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

You May Share This

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.