সন্দীপ ঘোষ, ঝাড়গ্রাম:
“বাঘ কো পাকড়না মুশকিল নেহি নামুমকিন হ্যায়”। এটাই যেনো সত্যি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সমস্ত কৌশল কেই মাত করে দিচ্ছে বাঘ মামা। এবার আবার বনদফতরের নতুন উদ্যোগ বাঘের সম্ভাব্য এলাকায় শাল গাছের উপর থেকে নজরদারি চালাতে গ্রামের লোক দের নিয়োগ করা হল। বনদফতর কে নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরাচ্ছে বাঘ মামা। তাবড় তাবড় বাঘ বিশেষজ্ঞ রাও ঘোল খাচ্ছেন লালগড়ের বাঘের কাছে। তারা ভেবে যে পদ্ধতিই বার করুন না কেনো। বাঘমামা তার ধারে কাছে ঘেসছেনা। ড্রোন দিয়ে নজরদারি শুরু হল, বাঘমামা নাকি বাঁকুড়ায়। বেঘোরে প্রান গেলো ২ বন কর্মী র। তার পরে সব চুপ। গোয়ালতোড়ে হাতে কামড় দিয়ে দক্ষিন রায় জানান দিলো ফিরে এসেছে সে। তারপর আজ লালগড়, তো কাল কোতোয়ালির বাগঘড়া ঘুরে বেরাচ্ছেন। উপায় বেগতিক দেখে সুন্দর বন থেকে আরো বিশেষজ্ঞদের আনা হল লালগড়ে বাঘ ধরার কাজে নতুন করে আনা হল বাঘ ধরার জাল। কিন্তু বাঘ কে ধরা কি অতই সোজা। অবশেষে ভেবে আবার নতুন পন্থা……
নির্দিষ্ট সময় এরা গাছের উপর থেকে নজর দারি চালাবে। দেখতে পেলেই তারা ফোন মারফৎ খবর দেবে সংশ্লিষ্ট দফতরে। আর সেই নির্দেশ অনুযায়ী, ৩১শে মার্চ সকালে দক্ষিন রায়ের দেখা মেলে রাঙামেটার জঙ্গলে। সেই সময় ঐ এলাকা পাহারার কাজে ছিলেন সুনিল মাহাত, কমল মাহাতরা। শুকনো পাতার আওয়াজ শুনে তারা সতর্ক হয়ে যান। ততক্ষনে অনেকটাই সামনে দক্ষিনরায়। ধিরে ধিরে পিছু হটতে থাকেন তারা। তাদের পায়ের আওয়াজে সতর্ক হয়ে যায় বাঘ মামাও। একলাফে রাস্তার উপর এসে দাঁড়ায়। আর তার পরেই পডিহার জঙ্গলে গা ঢাকা দেয়।
বাঘের এত সামনে পড়ে আতঙ্কিত কমল বাবুদের বক্তব্য বাঘের কথা অনেক শুনেছি। কিন্তু সামনে থেকে কখনো দেখিনি। এখনো আতঙ্কে আছি। এই ঘটনার পরেই বনদফতরের বিশেষ টিম ঘটনাস্থলে এসে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেন গাছ পাহাড়ার। তবে বাঘমামাও রেডি। এই ভাবে মাসের পর মাস বাঘ মামার সাথে চলছে বন দফতরের লুকোচুরি খেলা। তবে সমস্ত পদ্ধতি অবলম্বন করেও ব্যর্থ বন দফতর।