একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠল সিপিএম পরিচালিত পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে

একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠল সিপিএম পরিচালিত পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে

সন্দীপ ঘোষ, ঝাড়গ্রাম:

কাজের অসম্পূর্ণতা, স্থানীয় মানুষকে কাজ থেকে বঞ্চিত, অর্থ তছরুপ সহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠল সিপিএম পরিচালিত পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়ে বিডিওকে লিখিত অভিযোগ জানায় গ্রামবাসীরা। ঘটনাটি গোপীবল্লভপুর এক ব্লকের সাতমা গ্রামপঞ্চায়েতের অন্তর্গত সাংড়ো পশ্চিম সংসদের বারোমেনিয়া গ্রামে বিভিন্ন উন্নয়েনের কাজে টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে।

প্রশাসনের একটি সূত্রে খবর, সাতমা গ্রামপঞ্চায়েতের পক্ষ থকে বারোমেনিয়া গ্রামে ৩৩ লক্ষ টাকার প্রজেক্টের কাজ হওয়ার কথা ছিল। এই টাকায় এলাকায় পুকুর খনন, জমি সমতল, এলাকায় একটি সাব মার্সেবেল পাম্প বসানো এবং সব থকে বড় যে কাজ তা হল এলাকায় একটি বড় কংক্রিটের ডাস্টবিন তৈরি। যেই ডাস্টবিনটিতে বর্জ্য পদার্থ থেকে জৈব সার তৈরি হবে। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ কোন কাজই সেই ভাবে হয়নি। পুকুর খননের কাজ মেশিন দিয়ে করা হয়েছে। স্থানীয় মানুষদের কাজ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। হাতে গোনা কয়েক জনকে কাজ দেওয়া হলেও তাদের কোন টাকা দেওয়া হয়নি। পুকুরের কাজ সম্পুর্ন করা হয়নি।

এমনকি ডাস্টবিনের কাজ নামকেওয়াস্তে করা হয়েছে। কোন কাজই সম্পুর্ন করা হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলেছেন এত গুলো টাকা কোথায় গেল। যদিও এই অভেযোগ সম্পর্কে জানতে সাতমা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান বিনাপানি শিট কে বারংবার ফোন করা হলে তিনি ফোন তোলেন নি। গ্রামবাসীরা এলাকার উন্নয়ন কেন বন্ধ হয়ে গেল এবং বরাদ্দ অর্থ কোথায় গেল এই বিষয় গুলি নিয়ে গোপীবল্লভপুর এক ব্লকের বিডিওকে গত ২০ শে মার্চ লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন।

অপরদিকে বিডিও বিশ্বনাথ চৌধরী বলেন, “পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেব। এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা রবীন নায়েক বলেন, “দুটো পুকুর খনন, জমি সমতল, পাম্প বাসানো, ডাস্টবিন এই কাজ গুলির কোনটাই হয়নি। পুকুর কাটার কাজ সামান্য হয়েছে। তাও আবার মেশিন দিয়ে। যে কয়েক জনকে কাজে লাগানো হয়েছিল তাদের টাকাও দেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের প্রশ্ন এত গুলো টাকা কোথায় গেল।”

উল্লেখ্য গোপীবল্লভপুর এক ব্লকের সাতমা গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট আসন ৯টি। এর মধ্যে সিপিএম ৬টি, তৃণমূলের ২টি এবং বিজেপির একটি আসন রয়েছে।

স্থানীয় মুন্ডাকাটা ৮নম্বর যুব তৃণমূলের বুথ সভাপতি হরিশ দন্ডপাট বলেন, “প্রায় ৩৩ লক্ষ টাকার কাজ। কোথায় গেল এত টাকা। ২৫% কাজ হয়েছে কিনা সন্দেহ। পঞ্চায়েত প্রধান এবং ভারপ্রাপ্ত ঠিকাদার এক যোগে উন্নয়নের টাকা আত্মসাৎ করেছে। যে টুকু কাজ হয়েছে তাও মেশিন দিয়ে করানো হয়েছে।”

You May Share This
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

[mwrcounter start=98529386]