নিখোঁজ বেলপাহাড়ীর এনভিএফ কর্মী

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সন্দীপ ঘোষ, ঝাড়গ্রাম:

মেদিনীপুরের পুলিশ লাইনের কাজে যোগ দিতে গিয়ে নিখোঁজ বেলপাহাড়ীর এনভিএফ কর্মী। প্রায় ৪ মাস আগে থেকে নিখোঁজ রয়েছেন ওই এনভিএফ কর্মী। আদিবাসী দরিদ্র পরিবারটি তাদের ছেলেকে হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছেন কিন্তু কোথাও খোঁজ পাওয়া যায়নি। অপরদিকে নিঁখোজ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ পুলিশ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ পরিবারের।

বেলপাহাড়ি থানার প্রত্যন্ত গ্রামীন এলাকা জামবনি গ্রামের যুবক মনোরঞ্জন সর্দার গত প্রায় ৪ মাস ধরে কাজে যোগ দিতে গিয়ে আর বাড়ি ফিরে আসেনি।

পরিবার সুত্রে জানা খবর, গত ১১ ই নভেম্বরের থেকে তার আর খোঁজ মেলেনি। মনোরঞ্জন ২০১২ সালে মেদিনীপুর পুলিশ লাইনে এনভিএফ হিসেবে কর্মরত। গত নভেম্বর মাসে কিছুদিন বাড়িতে ছুটি কাটিয়ে ৯ ই নভেম্বর কাজে যোগ দিতে মেদিনীপুর পুলিশ লাইনে যান। মনোরঞ্জন প্রতি সপ্তাহে একটি দিন তার গ্রামের বাড়িতে বাবা মায়ের কাছে আসতেন।এবার কাজে যোগ দিতে গিয়ে তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি বা বাড়ির সঙ্গে আর যোগযোগও করেননি। প্রায় কুড়ি দিন কেটে যাওয়ার পর তার পরিবারের লোকেরা মেদিনীপুর পুলিশ লাইনে মনোরঞ্জনের অন্যান্য বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারেন তাকে ১১ই নভেম্বর থেকে পুলিশ লাইনে আর দেখা যায়নি। তারপর থেকে আত্মীয় পরিজনের বাড়ি বাড়ি খোঁজ করেও তার পরিবার কোন খোঁজ পায়নি।

বেলপাহাড়ির প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দা মনোরঞ্জনের বাবা রাসবিহারী সর্দার,মা শঙ্করী সর্দার খুবই গরীব। জঙ্গলে কাঠ,পাতা সংগ্রহ করে তাদের দিন চলে। খুব কষ্ট করে ছেলের পড়াশুনা করিয়ে ছিলেন তারা। পরিবারের এই বড় ছেলের আয়ের উপর তাদের সংসার চলে। ছেলেকে গত প্রায় ৪ মাস ধরে খুঁজে চলেছেন পরিবারটি। অসহায় এই আদিবাসী পরিবারটি হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন থানায়।

অভিযোগ, মেদিনীপুর পুলিশ লাইন, কোতয়ালি থানা বা বেলপাহাড়ি থানা নিখোঁজের অভিযোগ নিতে অস্বীকার করছে। তাদের বিভিন্ন থানায় পাঠানো হচ্ছে। এই বিষেয়ে নিখোঁজ মনোরঞ্জনের মা শঙ্করী সর্দার বলেন, “আমরা গরীব মানুষ। ছেলে খুঁজে পাওয়ার জন্য নানা জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছি। কোথাও পাইনি। মেদিনীপুর পুলিশ লাইন যেখানে ছেলে এনভিএফের কাজ করত সেখানে , কোতয়ালি থানা , বেলপাহাড়ি থানা ঘুরে বেড়াচ্ছি। পুলিশ অভিযোগ নিচ্ছে না। এক থানা থেকে অন্য থানায় ঘুরে বেড়াচ্ছি। জানি না কেন এমন করছে। কেউ আমার ছেলেকে খুঁজে দাও। আমরা জানি না কিভাবে ছেলে কে ফিরে পাব। অনেক কষ্ট করে ছেলেকে পড়িয়ে বড় করেছি। আমাদের সম্বল।” এক বুক করুন আর্তি নিয়ে কথা গুলো বলছিলেন শঙ্করী সর্দার। অপরদিকে মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার আলোক রাজোরিয়া বলেন, “পরিবারটি কোতয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করুক। আমি বিষয়টি দেখছি।”

সম্পর্কিত সংবাদ

Leave a Comment