ফুটপাতে বেপরোয়া মোটরসাইকেল

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মিজান রহমান, ঢাকা:

২৫শে মার্চ সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ ফার্মগেট-শাহবাগ সড়কে দীর্ঘ যানজট। ফার্মগেটের একটু সামনে ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ। হঠাৎ একটি মোটরসাইকেল ফুটপাতে উঠে হর্ন বাজাতে বাজাতে বেপরোয়া গতিতে তাদের পাশ দিয়ে যেতে থাকে। হতবাক হয়ে পথচারীরা ফুটপাতের দুই পাশে ছিটকে পড়েন। এতে দুজন পথচারী কিছুটা আহত হন। প্রতিবাদ করলে দুই মোটরসাইকেল আরোহী উল্টো তাদের গালাগাল করেন। রাজধানীতে এমন ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক। প্রায় প্রতিদিনই পথচারীদের সঙ্গে মোটরসাইকেল চালকদের ঝগড়া হাতাহাতিতে গড়াচ্ছে। সড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে চলার পথ ফুটপাতে প্রায়ই মোটরসাইকেল উঠে পড়ে। সকাল কিংবা রাত ফুটপাত ধরে নিশ্চিন্তে হাঁটার অবস্থা নেই রাজধানীবাসীর। পেছন থেকে বিকট শব্দে হর্ন বাজিয়ে সাইড চাচ্ছেন মোটরসাইকেল চালক। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনাসহ নানা অঘটন ঘটছে। ফুটপাতের নিরাপত্তা আইন ও ফুটপাতে মোটরসাইকেল চালানো নিয়ে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও এদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

জানা যায়, ২০১২ সালের ৫ই মার্চ হাইকোর্ট ফুটপাতে মোটরসাইকেল চলাচল করতে না দিতে মহানগর পুলিশকে নির্দেশ দেন। কিন্তু এরপরও বন্ধ হয়নি ফুটপাতে মোটরসাইকেল চলাচল। সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হিসাব অনুযায়ী, ২০১০ সাল পর্যন্ত নগরীতে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ১০ হাজার ৮১টি। প্রতি বছরই এই সংখ্যা বাড়ছে। ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সংখ্যা ৪ লাখ ৩৭ হাজার ২৬। এর বাইরে আছে অবৈধ মোটরসাইকেলও। তার চেয়ে বেশি আছে লাইসেন্স ছাড়া চালক।

রাজধানীর ফার্মগেট থেকে পান্থপথ, গুলিন্তান, পল্টন, মালিবাগ, মগবাজার ফ্লাইওভার, খিলগাঁও ফ্লাইওভার, রামপুরা, মৌচাক, বাড্ডা, কুড়িল, গাবতলী, শ্যামলী থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত এলাকায় এই প্রতিবেদক গত তিন দিন সরেজমিন গিয়ে মোটরসাইকেলের বেপরোয়া চালানোর চিত্র প্রত্যক্ষ করেছেন। সেখানে দেখা যায়, পুলিশের সামনেই দ্রুতগতিতে চলে যাচ্ছেন মোটরসাইকেল চালকরা। তীব্র হর্ন দিয়ে দুরন্ত গতিতে ফুটপাতের ওপর দিয়েই চলাচল করছেন। সময় বাঁচাতে নিয়মের বাইরে চলাচল করছেন মোটরসাইকেল চালকরা। সিগন্যালে দীর্ঘ সময়েও যখন ট্রাফিক পুলিশের হাতের ইশারা মেলে না তখন তারা একটু এদিক সেদিক দিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহাখালীর এক ট্রাফিক সার্জেন্ট জানান, মোটরসাইকেল ধরতে যাওয়াটা রীতিমতো বিব্রতকর। কেউ নেতা, কেউ মিডিয়া কর্মী, কেউবা পুলিশ। ধরলেই ফোন আসে। কারওয়ানবাজারে কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শ্রবণা শফিক দীপ্তির সঙ্গে।

তিনি জানান, শুধু পেছন থেকে ধেয়ে আসা নয়, কেউ কেউ ইভটিজিংও করেন। বিরক্তিকরভাবে হর্ন বাজানো হয়। কিছু বললে, উল্টো বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার কাজী রোমানা নাসরিন বলেন, ফুটপাতে বাইক চালকদের ঠেকাতে মাঝে মধ্যেই বসেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এর দরুন মামলাও হয়। তবে ট্রাফিক বিভাগে লোকবল কম থাকায় সব জায়গায় তদারকি করা সম্ভব হয় না। এ বিষয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ আকতার জাহান বলেন, আইন ভঙ্গকারীদের কঠোর শাস্তি দিলেই ফুটপাতে মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা কমে আসতে পারে। তিনি বলেন, শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থাই নয়, এর পাশাপাশি জনসচেতনতাও বাড়াতে হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ