ঝাড়গ্রাম জেলায় অরন্য সমৃদ্ধ পার্ককে ঘিরে নতুন করে তৈরী হতে চলেছে এক পর্যটন কেন্দ্র

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সন্দীপ ঘোষ, ঝাড়গ্রাম:

ঝাড়গ্রাম জেলায় অরন্য সমৃদ্ধ পার্ককে ঘিরে নতুন করে তৈরী হতে চলেছে এক পর্যটন কেন্দ্র। বনদফতরের হাত ধরে ঝাড়গ্রাম শহরের জামদা এলাকায় তৈরি হতে চলছে ইকো পার্ক। পাঁচ হেক্টর জমির উপর গড়ে উঠবে পার্কটি ।ব্লু প্রিন্ট তথা নকসা দিয়ে এদিনের অনুষ্ঠানে পার্কের শুভ উদ্বোধন হয়।জলাশয়,বোটিং,বাটারফ্লাই গার্ডেন,ফুলের বাগান,ঔষধি গাছের বাগান সহ পার্কটিকে একটি প্রাকৃতিক চেহারায় হাজির করতে চলছে বনদফতর। অরণ্য বেষ্টিত এই ইকো পার্কে শিশু সহ সবাই যাতে স্বচ্ছন্দে ঘুরতে ফিরতে পারেন তার জন্য ঘন গাছের সারির ভিতর দিয়ে সুন্দর রাস্তা করা হবে।গাছ গাছালিতে ঘেরা এই ইকো পার্কে বিশেষ আকর্ষন থাকবে বিভিন্ন দূর্লভ প্রজাতির অর্কিড,ক্যাকটাস। সব মিলিয়ে ঝাড়গ্রাম বন দফতরের সৌজন্যে ঝাড়গ্রাম শহরের বাসিন্দারা পেয়ে যাবেন একটি মনোরম পরিবেশের মধ্যে ইকো পার্ক। ২৪ শে মার্চ ঝাড়গ্রাম জেলার প্রথম এবং রাজ্যের দ্বিতীয় বন বান্ধব উৎসবে ঝাড়গ্রাম শহরের জামদার প্রস্তাবিত ইকো পার্কের নকসা প্রকাশ কারা হয়।

বন দফতর সূত্রে জানা যায়, জামদা সার্কাস ময়দানের কাছে বন দফতরের প্রায় পাঁচ হেক্টর জমির উপর পার্কটি গড়ে উঠবে। প্রথম পর্যায়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা খরচ হবে বলে জানা গিয়েছে। পার্যয়ক্রমে কাজ চলবে। বাউন্ডারি দিয়ে ঘেরা হবে ইকো পার্কটি। ২৪শে মার্চ পার্কটির নকসা প্রকাশ করেন বন দফতরের আধিকারিকেরা। এদিন ঝাড়গ্রামের গড়শালবনি ফুটবল মাঠে ঝাড়গ্রাম এবং খড়্গপুর বন বিভাগকে নিয়ে জেলা স্তরের বন বান্ধব উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। ২৫শে মার্চ বন দফতরের বিভিন্ন রেঞ্জ গুলিতে র‌্যালি, আলোচনা সভা সহ অরণ্য বাঁচাতে নানা ধরনের অনুষ্ঠান হবে।

ঝাড়গ্রামের ডিএফও বাসবরাজ হোলেইচ্ছি বলেন “ঝাড়গ্রামের জামদা এলাকায় বন দফতরের জমির উপর একটি ইকো পার্ক গড়ে উঠতে চলেছে। সেই পার্কটি কেমন হবে তার একটি ব্লু প্রিন্ট তথা নকসা এদিন অনুষ্ঠানে প্রকাশ করা হয়েছে।”

প্রধান মুখ্য বনপাল (সাধারন) সিদ্ধার্থ বারারি বলেন “বন বান্ধব উৎসব গত দু বছর ধরে শুরু হয়েছে। যৌথ বন পরিচালন ব্যবস্থা পশ্চিমবঙ্গ একটা সময় অগ্রনী ভূমিকা নিয়েছিল। যৌথ বন পরিচালন ব্যবস্থায় একটা সময় পুরস্কারও পেয়ছিলাম। এটা কেবল মাত্র বন কর্মীদের ভূমিকা নয় বন সংলগ্ন যারা থাকেন তাদের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। তাদের যথেষ্ট পরিশ্রমের ফল এটা। এটার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থকে মানুষ ছুটে আসেন আমরা কিভাবে করছি দেখার জন্য। এদিন অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে এলাকার বিভিন্ন বন সুরক্ষা কমিটি গুলিকে চেক প্রদান করা হয়। জাইকা প্রকল্পে ঋন প্রদান করা হয়। এছাড়ও শালপাতা সেলাই মেশিন,স্প্রে মেশিন,ধান ঝারাই মেশিন দেওয়া হয় বিভিন্ন বন সুরক্ষা কমিটি গুলিকে। তিনটি বন সুরক্ষা কমিটিকে মোট ত্রিশ লক্ষ টাকার চেক দেওয়া হয়। জাইকা প্রকল্পে মহিলাদের পনেরো লক্ষ টাকার লোনের চেক দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে বন দফতরের আধিকারিকেরা।

এদিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক মন্ত্রী চূড়ামনি মাহাতো,বিধায়ক সুকুমার হাঁসদা,প্রধান মুখ্য বনপাল(সাধারন)সিদ্ধার্থ বারারি,মুখ্য বনপাল (বন্য প্রান শাখা)শক্তি শঙ্কর দে,ঝাড়গ্রামের পুর সভার চেয়ারম্যান দূর্গেশ মল্লদেব,ঝাড়গ্রামের জেলা শাসক আর অর্জুন,ঝাড়গ্রামের ডিএফও বাসবরাজ হোলেইচ্ছি,ঝাড়গ্রামের এডিএম সমীর মজুমদার সহ প্রমুখ।

সম্পর্কিত সংবাদ