বিয়ে করলে বেল, না করলে জেল! কাঠগড়ায় শর্তাবলির মাধ্যমেই পরিণতি পেল প্রেম!

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

অরিন্দম রায় চৌধুরী, কোলকাতাঃ

বর্তমানে প্রায় সকলের হাতেই রয়েছে স্মার্ট ফোন আর সকলকেই দেখা যায় ব্যাস্ত, হয় ফেসবুক নাহয় হোয়াটস অ্যাপ নিয়ে। আর সেই ফেসবুকেই পরিচয় হয় নানান লোকের সাথে। কেউ কেউ এমনই সাধারণ বন্ধু হয়ে থাকে আবার কেউ কেউ হয়ে ওঠে খুবই নিকট বন্ধু, আবার কেউ কেউ তো একে অপরের প্রেমেই পরে যায়, যেমন এই ক্ষেত্রে হয়েছে বলে দাবী। আর তারপরই চলে জমজমাট প্রেম ও সেই প্রেমই যখন পরিণতির লক্ষ্যে এগোতে শুরু করে তখনই ঘটে বিপত্তি। শ্রীরামপুরের তরুণী প্রেমিকের ডাক পেয়েই পৌঁছে গিয়েছিলেন উত্তরপ্রদেশে। তারপর সেখানেই জোর করে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। যথারীতি বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের পর বিয়েতে আপত্তির অভিযোগ ওঠে।

এরপরই হাইকোর্টে মামলা গড়ানোর পরই ঘটনার পারদ পৌঁছে যায় একেবারে সপ্তমে। সেখানে উভয়পক্ষের সওয়াল শোনার পর বিচারপতির শর্ত, আর সেই শর্ত ধর্ষককের উদ্যেশে। বিয়ে করলে মিলবে বেল, না হলে কাটাতে হবে জেলে। এরপরই শর্তের সঙ্গে বিচারপতি ধমকও দেন ধর্ষককে। শেষমেশ বিয়েতে রাজি হওয়ায় জামিন পান অভিযুক্ত যুবক।

এদিন বিচারপরি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি ওঠে। আইনজীবীদের কর্মবিরতি চলায় অভিযোগকারিনী তরুণী নিজেই সওয়াল করেন। আর অভিযুক্তের তরফে সওয়াল করেন অভিযুক্তের জামাইবাবু। অবশেষে বিচারপতির দেওয়া শর্ত মেনে নেওয়ায় ব্যক্তিগত ৩০ হাজার টাকার বন্ডে জামিন দেওয়া হয় অভিযুক্ত যুবক রবিকে।

দুই পরিবারকে তাদের এই সমস্যা মিটিয়ে নেওয়ার জন্য ৩০ দিন সময় দেওয়া হয়ে এবং অভিযুক্ত যুবক শ্রীরামপুর পুরসভা এলাকার বাইরে যেতে পারবে না বলেও শর্ত আরোপ করা হয়। যদিও অভিযুক্তের পরিবারের দাবি তাঁদের ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে। এরই পাশাপাশি এমন প্রশ্নও উঠেছে যে বিশ্বাসভঙ্গের পর আদালতের ধমকে আর শাস্তির ভয়ে কি কোনও সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে! তবুও সামাজিক স্বীকৃতির কথা চিন্তা করে আদালতের এই উদ্যোগ বিশেষ ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সম্পর্কিত সংবাদ