হাজারেরও বেশি চোরাই মোবাইল উদ্ধার, সঙ্গে একাধিক ল্যাপটপ, ধৃত ২

হাজারেরও বেশি চোরাই মোবাইল উদ্ধার, সঙ্গে একাধিক ল্যাপটপ, ধৃত ২

অরিন্দম রায় চৌধুরী ও শান্তনু বিশ্বাস, কোলকাতাঃ

ছোট থেকেই আমরা সকলেই শুনে অভ্যস্ত “বিন্দু খুঁজতে গিয়ে সিন্ধু” বা “কেঁচো খুড়তে গিয়ে কেউটে” বের হওয়ার কথা। এবার উল্টোডাঙ্গায় ঠিক তাই হল। কী বলা যায়? “বিন্দু খুঁজতে গিয়ে সিন্ধু”, না কি “কেঁচো খুঁড়তে কেউটে”? না, এই ঘটনা তথাকথিত “বিন্দু খুঁজতে গিয়ে সিন্ধু” না বললেও এ যে এক্কেবারে “কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে কেউটে” বার হল তা বলাই বাহুল্য। গত ২০শে মার্চ, চুরি যাওয়া মাত্র তিনটি মোবাইল উল্টোডাঙার একটি গোডাউন থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করে উল্টোডাঙার পুলিশ। কিন্তু ২০শে মার্চ, সেই চুরি যাওয়া তিনটি মোবাইল খুঁজতে গিয়েই ২১শে মার্চ খোঁজ মিলল পুরো একটি চক্রের এবং হাজারের উপর মোবাইল ও ল্যাপটপের।

উদ্ধার হওয়া মোবাইল

উল্ল্যেখ্য তদন্তের শুরুতেই এলাকার আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্তকারী অফিসার দ্রুত চিহ্নিতও করে ফেলেন সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের। যাদের মধ্যে একজন, বেলগাছিয়া রোডের বাসিন্দা সঞ্জীব পাল, যে চুরিটা করেছিল। ধরা পড়ল, অপকর্মের কথা স্বীকারও করল জিজ্ঞাসাবাদে। এবং এই জিজ্ঞাসাবাদের সূত্রেই আভাস মিলল হিমশৈলের, উদ্ধার হওয়া তিনটে মোবাইল ছিল যার চূড়া মাত্র। জেরায় অবশেষে নিজের এক সঙ্গীর কথা জানাল সঞ্জীব। প্রশ্ন কে এই সঙ্গী? সঙ্গীর নাম প্রেমশঙ্কর ভগৎ, যার লেকটাউন এলাকায় ইলেকট্রনিক্সের যন্ত্রপাতির দোকান আছে। চোরাই মোবাইল বিক্রির বন্দোবস্ত এই প্রেমশঙ্করই করে থাকে, কবুল করল সঞ্জীব। ধরা হল প্রেমশঙ্করকে। উল্টোডাঙা থানার বিশেষ দল তল্লাশি চালাল প্রেমশঙ্করের দোকানে। এবং তল্লাশি করতে গিয়ে চোখ কপালে অফিসারদের। পাঁচ-দশটা নয়, কুড়ি-পঁচিশটা বা ষাট-সত্তরটাও নয়, উদ্ধার হল ১০৪৬ টা মোবাইল ফোন, সঙ্গে একাধিক ল্যাপটপও। কি? ভাবছেন লেখাটা ঠিক পড়লেন কিনা? হ্যাঁ, ঠিকই পড়লেন, লেখার ভুল নয়, এক হাজার ছেচল্লিশ!

ধৃত সঞ্জিব পাল ও প্রেমশঙ্কর ভগৎ

এই চক্রের কাজই হলো মোবাইল-ল্যাপটপ চুরি করা এবং সেগুলি অন্যত্র বিক্রি করা। কিন্তু বর্তমানে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল হওয়াতে চুরি যাওয়া মোবাইল খুঁজে বের করা অনেকটাই সহজ হয়ে গেছে তাই মোবাইল বিক্রি না হলেও মোবাইলের যন্ত্রাংশ বিক্রি করতো এই চক্র। প্রেমশঙ্করের থেকে জানা যায় দু’-একদিনের মধ্যেই উদ্ধার হওয়া মোবাইলের সিংহভাগ দোকান থেকে সরিয়ে অন্যত্র পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল প্রেমশঙ্করের। যাতে বাদ সাধলেন উল্টোডাঙা থানার অফিসাররা। মোবাইল গুলোর মধ্যে কিছু হালফিলের নতুন স্মার্ট আবার কিছু বহু পুরনো মডেলের মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে এদের কাছ থেকে। এর মধ্যে অধিকাংশই বিক্রি করা হত। যেগুলি বিক্রি হত না, তার যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে আলাদা আলাদা ভাবে বিক্রি করত অভিযুক্তরা।

(দাঁড়িয়ে) বাঁদিক থেকে সাব-ইনস্পেকটর প্রকাশ চন্দ্র মন্ডল, সাব-ইনস্পেকটর সোমনাথ ঘোষ, সাব-ইনস্পেকটর কৌশিক বোস, (বসে) ইনস্পেকটর অতীন্দ্র মন্ডল, অ্যাডিশনাল ওসি উল্টোডাঙা থানা এবং ইনস্পেকটর মানব চন্দ্র দাস, ওসি উল্টোডাঙা থানা

জাল কতটা বিস্তৃত, ফোনগুলো কবে, কোথায়, কতদিন ধরে চুরি হয়েছিল, চোরাই মোবাইলের ক্রেতাদেরও কোন চক্র রয়েছে কিনা, যাচাই করার কাজ চলছে বিস্তারিত ভাবে এছাড়া পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে তদন্তকারী অফিসারেরা। প্রথমে তিনটি মোবাইল চুরির অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছিল উল্টোডাঙা থানার পুলিস আঁখেরে ২৪ ঘন্টার মধ্যেই হদিশ মিললো আস্ত একটি মোবাইল চোর চক্রের।

You May Share This
  • 9
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    9
    Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *