শিগগিরই শুরু হবে বর্জ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মিজান রহমান, ঢাকা:

আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে নারায়ণগঞ্জে প্রস্তাবিত বর্জ্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রের টেন্ডার আহ্বানের নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। খুব দ্রুত যাতে নারায়ণগঞ্জের প্রস্তাবিত পাঁচ মেগাওয়াটের বর্জ্য বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাস্তবায়ন হয় সে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি)। ২১ মার্চ বুধবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে পিডিবির বর্জ্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সচিব মীনা মাসুদ উদ-জামান ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এএসএম এহতেশামুল হক। এ সময় নসরুল হামিদ বলেন, নারায়ণগঞ্জে বর্জ্য বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপনে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ রয়েছে। এ জন্য তিনি সেখানে ১০ একর জমি দিয়েছেন। সেখানে দ্রুত বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপন করা হবে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়ৎ আইভী। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস, পিডিবি,র চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ, নারায়নগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ানসহ বিদ্যুৎ বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভি বলেন, ‘দুই বছর আগে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী সিটি করপোরেশনগুলোর বর্জ্য দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র করার লক্ষ্যে মেয়রদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই সময় অন্যান্য সিটি করপোরেশনের মেয়ররা বিদ্যুৎ বিভাগের বিষয়টির সঙ্গে একমত না হলেও আমি সম্মত ছিলাম। কারণ আমি চাই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার  মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন হোক।’ আইভী প্রতিমন্ত্রীর প্রতি আহবান জানান যাতে দ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হয়। কোন কারণে যেন মাঝপথে বর্জ্য বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ঝুলে না থাকে। তিনি বলেন, ‘দেশের সব সিটি করপোরেশন বা পৌরসভায় যেন ময়লা ব্যবস্থাপনার জন্য সরকার জমির ব্যবস্থা করে সে বিষয়ে যাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়। তিনি প্রতিমন্ত্রীকে বলেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে ময়লা ব্যবস্থাপনার জন্য জমির ব্যবস্থা করতে। তাতে দেশের সবগুলো সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা উপকৃত হবে।’ এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশণ একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। সেখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জরুরি। তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য বিদ্যুৎকেন্দ্রকে অন্যান্য এলাকার জন্য উদাহরণ হিসেবে তৈরি করতে নির্দেশ দিয়েছেন পিডিবিকে। নসরুল হামিদ আরও বলেন, পরিচ্ছন্ন নগরীর জন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য। শহরের আকার দিনে দিনে বড় হচ্ছে, যত্রতত্র ময়লা ফেলার সুযোগ নেই। ডাম্পিং স্টেশন প্রয়োজন। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে একদিকে যেমন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিক হবে অন্যদিকে শক্তি উৎপাদন সম্ভব হবে। পরিবেশবান্ধব দুষণমুক্ত ও স্মার্ট সিটি বিনির্মাণে বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবহার করতে হবে। ঢাকা শহরে প্রতিদিন প্রায় নয় হাজার টন বর্জ্য হয়। ৮০ থেকে ১০০ টন বর্জ্য হতে এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। সে হিসেবে ৯০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ ঢাকা সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকা হতে উৎপাদন সম্ভব। এতে শহর পরিস্কার হওয়ার পাশাপাশি ময়লা ডাম্পিং এর সুনির্দিষ্ট স্থান হবে। বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস বলেন, ‘বর্জ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র একটু ব্যয়বহুল প্রকল্প। বিদ্যুতের দাম একটু বেশি পড়বে। তবু প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে হবে। আশা করছি প্রকল্পটি এক দেড় বছরের মধ্যেই শেষ হবে।’ পিডিবি সুত্রে জানাযায়, তিন থেকে পাচঁ মেগাওয়াটের আইপিপি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। সেখানে এরই মধ্যে সিটি করপোরেশন প্রায় ২৩ একর জমি অধিগ্রহণ করেছে। তবে ১০ একর জমির মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। জ্বালানি হিসেবে সিটি করপোরেশনের নাগরিকদের ব্যবহৃত বর্জ্য ব্যবহার করা হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ