জঙ্গলমহলে বাঘ ও বনদফতরের লুকোচুরি অব্যাহত, লালগড়ে ফের বাঘের পদ চিহ্ন ও বিষ্ঠা।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সন্দীপ ঘোষ, ঝাড়গ্রামঃ

জঙ্গলমহলের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বাঘের আতঙ্ক অব্যাহত। বাঘের হদিশ না মিললেও লালগড়ের জঙ্গলে ফের বাঘের পায়ের ছাপ ও বিষ্ঠাকে ঘিরে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। লালগড়ের মধুপুর জঙ্গলের পাশে একটি খালের ভেতরে বাঘের পায়ের ছাপ ও বাঘের বৃষ্ঠা পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি গ্রামবাসীদের। এমনকি বাঘকে খালের ভেতরে বসে থাকতে দেখেছেন বলে জানান স্থানীয় মানুষজনেরা। যার ফলে নতুন করে আবারও বাঘের আতঙ্ক ছড়িয়েছে লালগড় এলাকার বিভিন্ন গ্রামে।

বনদফতর সুত্রে জানা যায়, বাঘ আর লালগড় এলাকায় নেই, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বাঘটি বাঁকুড়ার জঙ্গলে চলে গিয়েছে। বনদফতরের দাবি মধুপুরের জঙ্গলের খালের পাশে যে বাঘের পায়ের ছাপ গুলি পাওয়া গিয়েছে সে গুলো পুরোনো পায়ের ছাপ। গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক থাকার কারনে ওরা নতুন ছাপ বলছে। তবে বর্তমানে বনদফতরের কর্মীরা লালগড় এলাকার বিভিন্ন জঙ্গলে নজরদারি চালাচ্ছেন।

উল্লেখ্য প্রায় দেড় মাস ধরে লালগড় জঙ্গলে বাঘ রয়েছে এই আতঙ্ক ছড়াই লালগড়ের বিভিন্ন এলাকায়। বিভিন্ন জায়গায় বাঘের পায়ের ছাপ পাওয়া গিয়েছিল। তার পরেই বনদফতরের পক্ষ থেকে লাগানো সি সি টিভি ক্যামেরায় রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ছবি ধরা পড়ে। আর তার পর থেকেই এলাকাতে আরো বেশী করে আতঙ্ক ছড়াতে থাকে। বনদফতর বাঘকে ধরার জন্য সুন্দর বন থেকে বাঘ বিশেষঞ্জ বিশেষ টিম ও চারটি খাঁচা নিয়ে আসেন লালগড় এলাকায়। খাঁচায় টোপ হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছিল একটি ছাগল। উল্লেখ্য লালগড়, বিনপুর, ধেড়ুয়া, শালবনি সহ জঙ্গল লাগোয়া গ্রাম গুলিতে এমনই বাঘের আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বাঘের ছবি ওঠার পর থেকে আতঙ্ক যেন দ্বিগুন হয়েছে। ইতস্তত বাঘের পায়ের ছাপ মিললেও এখনো অধরাই থেকে গেছে বাঘ বাবাজি। বনদফতর বিস্তর চেষ্টা করেও বাঘকে খাঁচাবন্দী করতে পারেনি।

অপরদিকে বাঘের সাথে মাঝে মধ্যে দলমার দামালরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে লালগড় এলাকার বিভিন্ন গ্রামে । হাতির চরিত্র সম্পর্কে বেশ কিছুটা ধারনা থাকলেও বাঘের সম্পর্কে একেবারেই ধারনা নেই এলাকাবাসীর। তাই বেশ আতঙ্কেই রয়েছেন স্থানীয়রা। এমনকি কিছুদিন আগে বাঘের হদিশ পেতে বা বাঘের অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য আনা হয়েছিল ড্রোন ক্যামেরা। কিন্তু তাতেও বাঘের ছবি ধরা পড়েনি।

এবিষয়ে মেদিনীপুর রেঞ্জের ডিএফও রবীন্দ্রনাথ সাহা বলেন, যেহেতু গ্রামবাসীদের মধ্যে একটা বাঘের আতঙ্ক রয়েছে যার জেরে পুরানো পায়ের ছাপ গুলিকেই তারা দেখাচ্ছেন। নতুন করে কোনও বাঘের পায়ের ছাপ এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে আমরা বাঁকুড়া বনদফতরের সাথে কথা বলে বাঘের শেষ খবর হিসাবে জানতে পারি ইতিমধ্যে বাঘটি বাঁকুড়ার জঙ্গলেই রয়েছে। তবে বনদফতরের কর্মীরা বিভিন্ন জঙ্গল গুলিতে নজরদারি চালাচ্ছে।

সম্পর্কিত সংবাদ

Leave a Comment