আহতদের সুস্থ করে তুলতে সব ব্যবস্থাগ্রহণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর – বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক

Share Bengal Today's News
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মিজান রহমান, ঢাকা:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় আহতদের সুচিকিত্সার মাধ্যমে দ্রুক সুস্থ করে তুলতে সম্ভব সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বিমান দুর্ঘনায় নিহতদের স্মরণে বৃহস্পতিবার শোক দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া আগামী শুক্রবার সারাদেশের মসজিদ, মন্দির, গির্জা এবং প্যাগোডাসহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ে দোয়া ও প্রার্থনা সভা পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার সারাদেশে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে এদিন জাতীয় পাতাকা অর্ধনমিত থাকবে। মুখ্য সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থ করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে নজিবুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনায় মৃত বাংলাদেশিদের দেশে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং আহতদের উন্নত চিকিত্সার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে বার্ন ইউনিটের দক্ষ চিকিত্সকদের সমন্বয়ে একটি চিকিত্সা দল কাঠমান্ডুতে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে এবং মৃতদের ডিএনএর নমুনা সংগ্রহের জন্য পুলিশের একটি দলকেও নেপাল পাঠানো হচ্ছে বলে জানান মূখ্য সচিব। তিনি বলেন, তারা (আহতরা) যদি রাজি হন তাহলে তাদেরকে আমাদের বার্ন ইউনিটে এনেও চিকিত্সা দেওয়া হবে। কারণ আমাদের বার্ন ইউনিটে খুবই উন্নত চিকিত্সা হয়। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে ‘গুরুতর আহত’ দুজনকে উন্নত চিকিত্সার জন্য তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান নজিবুর রহমান। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে অ্যাভিয়েশন নিরাপত্তা আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করার জন্যও প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান তিনি। সোমবার (১২ মার্চ) নেপালের কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলার একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ৭১ আরোহীর মধ্যে এ পর্যন্ত ৫১ জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে চার ক্রুসহ ২৬ জন ছিলেন বাংলাদেশি। এই দুর্ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সিঙ্গাপুর সফর সংক্ষিপ্ত করে একদিন আগেই মঙ্গলবার দেশে ফিরে আসেন। এরপর সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বুধবার সকালে তিনি নিজের কার্যলয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন। দুর্ঘটনার পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে উচ্চ পর্যায়ের এ বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, তিন বাহিনীর প্রধান, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত সংবাদ