Monday, August 15, 2022
spot_img

কবে ফিরবে মানুষের হুঁশ?

অরিন্দম রায় চৌধুরী, ব্যারাকপুরঃ

দীর্ঘদিন ধরেই সাধারন মানুষের কল্যাণের স্বার্থে কলকাতা পুলিশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশও বহু পদক্ষেপ গ্রহন করে চলেছে। এমনকি বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্ধ্যোপাধ্যায়ও এই উদ্দেশ্যকে স্বার্থক করতে ‘সেভ ড্রাইভ অ্যান্ড সেভ লাইভ’ নামক একটি প্রকল্প গ্রহণ করেন। সম্প্রতি এই উদ্যোগের স্বার্থে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের উদ্যোগে ঘটা করে অনুষ্ঠিত হয় ‘সেফ ড্রাইভ ,সেভ লাইভ’ অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ভাবে মানুষকে বোঝানো হয় ট্রাফিক আইন মেনে চলার কথা যার মধ্যে বিশেষতঃ কানে মোবাইল ,হেলমেট না পড়া ,স্পীড লেজারগানের মাধ্যমে ওভার স্পীড , ট্রিপল রাইডিং ,সিগনাল ভায়োলেটিং এর মত সচেতনতাই প্রাধান্য পেয়েছিল। মনে করা হয়েছিল যে মানুষ হয়তো কিছুটা হলেও সচেতন হবে কিন্তু প্রতিদিন মানুষের মধ্যে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে সেই একই অসচেতনতার ভাব। এখনও প্রতি দিনই বহু মানুষ তাদের জীবনে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তাঘাটে চলাচল করে চলেছেন। প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে হেলমেট ছাড়া বাইক নিয়ে চলাচল। কখনও কানে মোবাইল দিয়ে কথা বলতে বলতে গাড়ী চালানোর দৃশ্য। এমনকি রাস্তা পার হওয়ার সময়ও মানুষ সেই মোবাইলে কথা বলতে বলতে একই ভাবে নিজেকে বিপদে ফেলছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায় শুধু মাত্র হেলমেট ছাড়া বাইক চালাতে গিয়ে রাস্তায় বাইক দুর্ঘটনা ঘটলে মাথায় চোট লেগেই বেশীর ভাগ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তারপরও বাইক চালকরা বিন্দুমাত্র সচেতন হন নি এখনও, যার প্রমাণ ৯ই মার্চ হাতে নাতে মিললো। ৯ই মার্চ ব্যারাকপুর কমিশনারেটের ট্রাফিক অফিসার ইন চার্জ, বিজয় ঘোষের হাতে আটক একজন বাইক আরোহী তার সাথে ৩টি বাচ্চাকে নিয়ে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছেন অথচ কারোর মাথায় কোন প্রকার হেলমেট নেই।

অথচ তিনি দিব্যি বলে চলেছেন “কি করবো চার চাকা কেনার পয়েসা নেই তাই বাইকেই ৪জন সওয়ার হয়েছি।” পুলিশ অফিসারের হাজার বোঝানোর পরও কি এতটুকু সচেতন হয়েছেন তিনি? এখন এটাই লাখ টাকার প্রশ্ন সকলের কাছে। উল্লেখ্য ৮ই মার্চ রাতে ব্যারাকপুর নর্থ গেটের কাছে হওয়া একটি বাইক দুর্ঘটনায় বছর ২২ এর এক যুবক শুধুমাত্র তাঁর মাথায় থাকা হেলমেটের জন্য প্রানে বেঁচে যান। ঘটনায় প্রকাশ এদিন রাতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কিমি গতিতে বাইক নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন ওই যুবক আর ঠিক সেই সময় একজন ভদ্রলোক হটাৎই রাস্তা পাড় হতে গিয়ে ঘটে দুর্ঘটনা। রাস্তা পার হওয়া ভদ্রলোককে বাঁচাতে গিয়ে যুবকটি সজোরে তাঁর বাইকের ব্রেক কষেন কিন্তু ব্রেকের ঠেলায় বাইকটিকে আর সামলাতে না পেরে সজোরে ধাক্কা মারেন রাস্তা পার হওয়া ভদ্রলোককে এবং সে নিজেও ছিটকে পড়ে রাস্তার উপরে। পরে অবশ্য সেই ট্র্যাফিক পুলিশের সহযোগিতায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসার পর আহত বাইক আরোহী নিজেই স্বিকার করেন,”আজ শুধু আমার মাথায় হেলমেট থাকায় এ যাত্রায় বেঁচে গেলাম।” মূলত এই ধরনের ঘটনা দেখেও মানুষ যদি নিজে নিজেকে সচেতন না করেন এবং প্রতিদিন সামান্য অবহেলার জন্য নিজেদের প্রান হারাবার জন্য মৃত্যুর দিকে নিজেকে ঠেলে দেন তাহলে কবে বলা যাবে “পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এখন সচেতন”।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
3,432FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles