ইচ্ছেবাড়িতে বিজয়া সম্মেলনে বসলো চাঁদের হাট, মায়া সম্মানের পালক পবিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মুকুটে

ইচ্ছেবাড়িতে বিজয়া সম্মেলনে বসলো চাঁদের হাট, মায়া সম্মানের পালক পবিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মুকুটে

দশমীর শেষ বেলা
শুরু হল সিঁদুর খেলা,
চোখের জলে বিদায় বেলা
মা দুগ্গার ফেরার পালা।
বিদায়ের সুর বাজছে ঢাকে
মা চললেন কৈলাসে।

 

ভাস্কর চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি, বেঙ্গল টুডেঃ বিদায়মলীন বিজয়া দশমী আমাদের কাছে খুবই কষ্টের, বেদনাদায়ক; মিষ্টিমুখ করিয়ে রাঙা সিঁদুরে রাঙিয়ে মাতৃ প্রতিমা নিরঞ্জন করে তারপর মাকে বিদায় দেওয়ার পালা। চোখের জলে বিদায় দিয়ে এসে মিষ্টিমুখ কিন্তু বিজয়ার বিষাদকে কিছুটা কাটিয়ে মিষ্টিময় করে তোলে অবশ্যই। তারপর পুরাতন রীতি মাফিক সেই গুরুজনদের প্রণাম, সমবয়সী তথা ছোটোদের সাথে কোলাকুলি। দুঃখ যন্ত্রণাকে দূরে সরাতে আমরা অনেক সময় বিজয়া সম্মিলনীর আয়োজন করে থাকি। একসাথে বিজয়ার আড্ডা, নাচ, গান, খাওয়া-দাওয়া আরো কত কি। এমনই বিজয়ার পরবর্তী এক সন্ধ্যায় বৃহস্পতিবার, শহর শিলিগুড়ির সুভাষপল্লী স্থিত আজাদ হিন্দ সরণীর অতি পরিচিত বুটিক কাম রেঁস্তোরা ইচ্ছেবাড়িতে অনুষ্ঠিত হয় বিজয়া সম্মেলন। বসেছিল এক চাঁদের হাট। কথা, গান, কবিতা, গল্প, নাটক ও নৃত্যে ভরপুর মহলে ভোরে ওঠে এদিনের সন্ধ্যা।

[espro-slider id=18966]

প্রতিবারের মত এবছরেও ইচ্ছেবাড়ির কর্ণধার অভয়া বসু বিজয়া সম্মেলনের আয়োজন করেন। শুধু তাই নয় “মায়া সম্মান ২০১৯” স্মারকও প্রদান করা হয়। “মায়া সম্মান ২০১৯”-এ ভূষিত হলেন বিশ্বখ্যাত সেতার বাদক পবিত্র চট্টোপাধ্যায়। উত্তরের এই ভূমিপুত্র পবিত্রের সেতারে হাতে খড়ি অনেক ছোটবেলায় তাঁর পিতা প্রবীর চ্যাটার্জির কাছে। এরপর ১৯৮০ সালে শিলিগুড়িতে আকাশবাণীর শিশু মহল দিয়ে শুরু হয় তাঁর পথ চলা। ১৯৮৩ সালে প্রথম শিশুশিল্পী হিসেবে আকাশবাণীর এক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এলাহাবাদে। এরপর দেশে-বিদেশে নানান ধরনের অনুষ্ঠানে সেতার বাদক হিসেবে ভবিষ্যতের পথকে আরও সুগম করে তুলেছেন। ১৯৯২ সাল থেকে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে জলপাইগুড়ির স্বপন কুমার দাসের কাছে শিক্ষা লাভ করেন। ২০০৪ সালে মাইহার ঘরানার বিশ্ববিখ্যাত সেতার বাদক স্বর্গীয় পন্ডিত দীপক চৌধুরীর কাছে। বর্তমানে তিনি সমস্ত গুণীজনদের থেকে প্রাপ্ত শিক্ষালাভ ও পন্ডিতদের ঘরানা থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজে এক বাদ্যশৈলীতে সেতার উপস্থাপন করেন যা বিষ্ণুপুর মাইহার ঘরানার সংমিশ্রনে করা হয়। এদিন ইচ্ছেবাড়ির তরফ থেকে শিল্পীর হাতে এই সম্মান তুলে দেন উত্তরবঙ্গের প্রখ্যাতা নৃত্যশিল্পী সঙ্গীতা চাকী। এই “মায়া সম্মান” হল প্রকৃত অর্থে একজন শিল্পীকে তাঁর গুণের, তাঁর সাধনার, তাঁর আত্মোৎসর্গতার সঠিক মর্যাদা জানানোর ওপর নাম। পবিত্র চট্টোপাধ্যায়ের অনবদ্য সেতারের বাদনশৈলী মুগ্ধ করেছিল গোটা ইচ্ছেবাড়ির অন্দরমহল। তাঁর সাথে তবলায় সহযোগিতা করেছিলেন অপূর্ব ব্যানার্জী।

[espro-slider id=19001]

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন সঞ্চালক সুবীর ভট্টাচার্য। এদিন বিশিষ্ট সুজন ব্যক্তিবর্গরা কথায়, গানে, কবিতায় এক্কেবারে আলোকময় করে রেখেছিল ইচ্ছেবাড়ির আঙিনা। কথায় ছিলেন শুভময় সরকার, সুজিত দাস প্রমুখরা। যে সমস্ত সঙ্গীত শিল্পীরা এদিনের প্রাঙ্গণ ভরিয়ে তুলেছিল তাঁদের সুমধুর গানে তাঁরা হল দেবালয় গাঙ্গুলী, সোহিনী গুপ্ত, রাজশি মজুমদার, বুলবুল বোস, সাত্যকী চক্রবর্তী ও মৌসুমী দাসগুপ্তের মতো বিশিষ্টজনেরা।

[espro-slider id=18975]

 

সবশেষে আমাদের বিষাদ ভুলিয়ে আনন্দে উদ্দীপ্ত করতে দামামা নাট্যগোষ্ঠীর প্রযোজনায় ও বৈদ্যনাথ মুখোপাধ্যায়ের রচনায় এক হাস্য কৌতুক নাটক “শ্বাশুড়ি টাকার কল” উপস্থাপন করে শিলিগুড়ির বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব পার্থ চৌধুরী এবং তাঁর সহযোগীতায় ছিল ধ্রুবজ্যোতি বিশ্বাস ও উজ্জয়নী দেব মুখার্জী।

[espro-slider id=19016]

You May Share This
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *