হাবড়ায় প্রকাশ্যে ঘটল তৃনমূল কর্মীদের চাঁদার জুলুম ও দাদাগিরি

হাবড়ায় প্রকাশ্যে ঘটল তৃনমূল কর্মীদের চাঁদার জুলুম ও দাদাগিরি

শান্তনু বিশ্বাস, হাবড়া:

মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসননিক বৈঠকের সাতদিনের ভিতর ৩ রা মার্চ হাবড়া থানার অন্তর্গত প্রতাপনগর এলাকার দেখতে পাওয়া যায় তৃনমূল কর্মীদের চাঁদার জুলুম ও দাদাগিরি। এই ঘটনার দরুন স্থানীয় তৃনমূল ছাত্র নেতা অনির্বাণ দাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

সুত্রের খবর, ৩ রা মার্চ সন্ধ্যাবেলায় হাবড়া থানার অন্তর্গত প্রতাপনগর এলাকায় প্রনব কুমার তালুকদার নামে একজন গাড়ি ব্যবসায়ীর দোকানে কয়েকজন যুবক চাঁদা আদায়ের জন্য যায়, কিন্তু সেই সময় দোকানে প্রনববাবুর বদলে তাঁর স্ত্রী রেখা দেবী এবং তাঁর ছেলে প্রদীপ তালুকদার উপস্থিত ছিলেন। মূলত চাঁদার বিষয় শুনে প্রনব বাবুর স্ত্রী রেখাদেবী তাদের জিজ্ঞাসা করলে তারা জানান ৪ ঠা মার্চ তৃনমূলের দলীয় সন্মেলন আছে। আর সেই মতেই রেখা দেবী ২০০ টাকা তাদের হাতে তুলে দেন। এরপরই স্থানীয় শ্রী চৈতন্য মহাবিদ্যালয়ের তৃনমূলের ছাত্র পরিষদের ছাত্র নেতা অনির্বাণ দাস বলেন, “আমরা পাঁচ কিংবা দশ হাজার টাকা চাঁদা নিতে এসেছি। দরকার পরে আমার ফোন থেকে পঞ্চায়েত প্রধান বিমল ঘোষের সাথে কথা বলুন। উনি আমাদের পাঠিয়েছেন।”

অভিযোগ, তালুকদার পরিবার এত পরিমান টাকা দিতে পারবেনা জানাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ওই যুবকরা। এরপরই তারা প্রনববাবুর স্ত্রী রেখাদেবীকে ধাক্কাদিয়ে ফেলে দেয় এবং তাঁর ছেলে প্রদীপ তালুকদারকে বেধড়ক মারধর করে। এমনকি যে বাড়িতে ঘর ভাড়া নিয়ে তারা গাড়ির ব্যবসা করছিল সেই বাড়ির ছেলে অভিজিৎ দাস ক্ষিপ্ত তৃনমূলের যুবকদের বাধা দিতে এলে তাকেও রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে জানা যায়। বর্তমানে দুজন যুবক অর্থাৎ প্রদীপ তালুকদার ও অভিজিৎ দাস গুরুতর অবস্থায় হাবড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

যদিও এ বিষয়ে পঞ্চায়েত প্রধান বিমল ঘোষকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “চাঁদা আদায়ের এই ঘটনার কথা তিনি শুনেছেন কিন্তু তিনি বা তাঁর দলের কেউই কারও কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে না বা তোলার কথাও বলেনি।” তিনি প্রায় একপ্রকার ঘটনার কথা অস্বীকার করেন। অপরদিকে ৪ ঠা মার্চ বেড়গুম দুই নম্বর পঞ্চায়েত এলাকায় দেখা যায় সন্মেলনের জন্য প্যান্ডেল তৈরি হচ্ছে ,সাজানো হয়েছে ফ্লেক্স ফেস্টুন দিয়ে।

পুলিশি সুত্রে খবর, ঘটনার দিন রাতেই অভিযুক্ত স্থানীয় তৃনমূল ছাত্র নেতা অনির্বাণ দাস সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হাবড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই অনির্বাণ দাসকে গ্রেফতার করেন পুলিশ। এমনকি ৪ ঠা মার্চ অভিযুক্ত অনির্বাণ দাসকে বারাসাত আদালতে পাঠানো হয়। আপাতত এই গোটা ঘটনার তদন্তে হাবড়া থানার পুলিশ।

উল্লেখ্য বর্তমানে এই ঘটনায় আতঙ্কিত গোটা তালুকদার পরিবার সহ এলাকার বাসিন্দারা।

You May Share This
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *