আমার জীবনকথা ভাগ-১২

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

হাওড়াবাসীর নানা রঙের দিনগুলি ভাগ-৭

রোটারিয়ান স্বপন কুমার মুখোপাধ্যায়

 

নিউমার্কেট-এ রাত্রি ১০ টা থেকে সকাল ৬ টা আর দিনের বেলায় হাওড়া রোডের ওপর একটি ছোট কারখানায় বেলা ১১ টা থেকে বিকেল ৫ টা। নিউমার্কেটে রাতের সমস্ত অসামাজিক কাজ দৃঢ়হস্তে সব বন্ধ করে দেওয়ার ফলে আমার কর্মস্থলের অনেক লোক ও সহকর্মীরা শত্রু হলেও আমার পরম সৌভাগ্য আমি লোকনাথ বল ও দুজন মেয়রের আস্থাভাজন হতে পেরেছিলাম। লোকনাথ বল আমাকে দিনের ডিউটিতে আণার ফলে আমি কারখানার কাজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হই। পরিবর্তে বাড়িতে কিছু ছাত্র পড়াতে শুরু করি- সংসারের আর্থিক প্রয়োজনে। সংসার বলতে আমার মা, অবিবাহিত মেজদি, ছোটো দুই পাঠরত বোন। বাড়িভাড়া, কাজের লোকের মাইনে , ইলেকক্টিক বিল , বোনেদের পড়ার খরচ , বাজার-হাট সবই ছিল।

এছাড়া পরিবারের পুজোপাঠ, জন্মদিন পালন , লোক-লৌকিকতা। বোণেরা আমায় বলতো- “তুমিই আমাদের বাবা”। কিন্তু মার্কেটের ওই বিষাক্ত পরিবেশে কাজ করতে মানসিকভাবে খুব খারাপ লাগতো । অবশেষে, ১৯৬০ সালের ১লা জানুয়ারি ইংল্যান্ডের Crawly, Susex based company, “The A.P.V.Engineering Co.ltd.” এর Indian Branch-এ, ২নং Jessore Road, DumDum, Calcutta-28-এ জুনিয়ার অফিসার পদমর্যাদার নতুন চাকরিতে যোগদান করলাম এবং এখানেই আমার কর্মজীবনের সুদীর্ঘ এগারো বছর কেটে গেল। ইংরেজ, আইরিশ, স্কচ ও অস্ট্রেলিয়ান প্রভৃতি বারো জন সাহেবের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাই এবং ওই কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর জ্যাক ব্রাউন ছিলেন আমার পালক পিতা। তাঁর আনুকুল্যে আমি ১৯৬২ সালে লন্ডনের Chartered Institute of Secretaries -এর অধীন ‘কোম্পানি সেক্রেটারিশিপ’ পরীক্ষায় অবতীর্ণ হই।

সমগ্র ভারত থেকে ২০৩ জন পরীক্ষা দেন। তাঁদের মধ্যে মাত্র তিন জন ওই পরীক্ষায় সাফল্যলাভ করে-যাঁদের মধ্যে আমি প্রথম শ্রেনিতে প্রথম স্থান অধিকার করি । এরপর ১৯৬৪ সালে, Institute of Commerce & Management, London থেকে MBA করি এবং ওদের ফোলোশিপ গ্রহীতা হই। র‍্যাঙ্কিং-এ ভারতে প্রথম এবং কমনওয়েলথ দেশসমূহের মধ্যে তৃতীয় স্থান লাভ করি । পরে ফেলো হই । ১৯৬৬ সালে West Bengal State Govt. এর লেবার ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক পরিচালিত Labour Welfare Diploma Course-এ বিগত পাঁচ বছরের 1st calss 1stদের Record Break করে 1st class 1st স্থানাধিকারী হয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করি ।

১৯৬৭ সালে National Institute of Personnel Management-এর Advance Course On Personnel Management Exam. প্রথম শ্রেনিতে পাশ করার পর N.I.P.M এর Corporate Membership লাভ করি । ১৯৬৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন IISWBM থেকে Post Gradute Diploma in Social Work পরীক্ষায় প্রথম শ্রেনিতে প্রথম স্থান অধিকার করি । ওই বছরেই Calcutta Productivity Council-এ Personnel Managment -এর উপর Refresher course করে Calcutta Management Association-এর Individual সদস্যপদ লাভ করি।

ইতিমধ্যে ১৯৬২ সালে হাওড়ার স্বনামখ্যাত বনেদি ব্যবসায়ী পরিবারে আমার ছোট বোন বন্দনার শুভবিবাহ অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৬৪ সালে আমার মেজদিদি প্রনতির বিবাহ হয় কলকাতার চোরবাগানের বিখ্যাত চাটুজ্যে পরিবারে। আর সেজবোন কল্পনার বিবাহ হয় ১৯৬৭ সালে বর্ধমানের ব্যানার্জি পরিবারে। আমার বড় ভগ্নীপতি গোপাল গাঙ্গুলি শেওড়াফুলির চ্যাটার্জিপাড়া লেনের অধিবাসী। বর্তমানে Reserve Bank of India-র অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল ম্যানেজার এবং ঢাকুরিয়ায় নিজস্ব ফ্ল্যাটে বসবাস করেন ।

আমার মেজো ভগ্নীপতি রুঞ্জিত চ্যাটার্জি ক্লাইভ রো-তে Tulshidas Jewraj-এ Law Cum Export Manager ছিলেন। কয়েক বছর আগে পরলোক গমন করেছেন । আমার সেজো ভগ্নীপতি জগন্নাথ ব্যানার্জি স্টেট ইলেকট্রিসিটি বোর্ডের ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত। জোকার সত্যেন পার্কের নিজস্ব বাড়িতে বসবাস করেন। আমার ছোট ভগ্নীপতি বয়স্ক মানুষ-নাম মনোতোষ ব্যানার্জি। হাওড়া পঞ্চাননতলায় নিজস্ব বাড়িতে বসবাস করে। আমার বড়, মেজো ও সেজো বোন ও মেজো ভগ্নীপতি আজ ইহলোকে নেই।

 

সম্পর্কিত সংবাদ

Leave a Comment