একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে চরম অমানবিকতরা ছবি

একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে চরম অমানবিকতরা ছবি

স্বর্ণেন্দু রায়, পশ্চিম মেদিনীপুরঃ একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে চরম অমানবিকতরা ছবি চন্দ্রকোনায়। উপায় না থাকলেও অসহায় বাবা মা তাদের নিজের মেয়েকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখতে হয়। এরকম ঘটনার সাক্ষী পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা দু নম্বর ব্লকের ৪ নং কুঁয়াপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ধামকুড়িয়া গ্রাম। ওই গ্রামেরই অরুন রায় পেশায় ক্ষুদ্র চাষী। জমি বলতে মেরেকেটে বিঘা দুয়েক। স্ত্রী অর্চনা রায় ও দুই মেয়ে সোমাশ্রী, অর্পিতাকে নিয়ে সংসার। দুই মেয়েই প্রতিবন্ধী।

বড় মেয়ে সোমাশ্রী জন্ম থেকেই একশো শতাংশ প্রতিবন্ধী এবং ছোট মেয়ে অর্পিতা কান শুনতে পাইনা। এমতবস্থায় অভাবের সংসারে স্বল্পসঞ্চয়ের মধ্যেও বড়মেয়ের চিকিৎসার সবরকম চেষ্টা করে সর্বশ্রান্ত এখন। অরুন বাবুর অভিযোগ, শেষে প্রশাসন থেকে স্থানীয় বিধায়কের কাছে সাহায্যর আবেদন করেও কোনও সাহায্য মেলেনি।

যদিও বিধায়ক ছায়া দোলই ঘটনার কথা স্বীকার করে বলেন, নিজে ওই ব্যক্তির বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিয়ে দেখা করে আসছিলেন। দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখার বিষয়টি জানতেন না ওটা খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন এবং আর্থিক সাহায্যর বিষয়েও প্রশাসনের সাথে কথা বলার প্রতিশ্রুতি দেন। সরকারি সাহায্যে না পাওয়ার কথা ঠিক নয়।ইতিমধ্যে ওই ব্যক্তির দুই মেয়ে সরকারের মানবিক প্রকল্পের টাকা পাচ্ছেন। আর কোনও সাহায্যর ব্যবস্থা করা যায়কিনা দেখছি। আর নিজের মেয়েকে যাইহোক দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা অন্যায়। এটা জানা ছিলো না। দেখছি এটা নিয়ে কি করা যায় এমনই জানান চন্দ্রকোনা দু নম্বর ব্লকের বিডিও শাশ্বত প্রকাশ লাহিড়ী।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানা যায়, জন্ম থেকেই বিকলাঙ্গ ও একশো শতাংশ প্রতিবন্ধী এগারো বছরের বড় মেয়ে সোমাশ্রী ছোট মেয়ে অর্পিতাও আশি শতাংশ প্রতিবন্ধী কানে শুনতে পাইনা। অরুন বাবু চাষের কাজে রুজিরোজগারের টানে বাড়ির বাইরে থাকেন স্ত্রী অর্চনা দেবীকেই দুই মেয়েকে সামলাতে হয়। বড় মেয়ে মানসিক বিকারগ্রস্ত হওয়ায় বাধ্য হয়েই বাড়ির উঠানে সারাদিনই খুটির সাথে দড়ি দিয়ে পায়ে বেঁধে রাখতে হয়। এই দৃশ্য দেখে বাবা মায়ের চোখে জল এলেও কিন্তু উপায় নেই বলে জানান তারা।

বেশ কয়েকবার বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিলো প্রতিবন্ধী বড় মেয়ে সোমাশ্রী। মেয়ের সন্ধান পেতে হিমশিম খেতে হয়েছিলো। এই অবস্থায় বাড়ি থেকে পালিয়ে কিছু ঘটে যাওয়ার আশঙ্কায় এবং বাড়ির কাজের চাপেই বাধ্যতামুলক খুঁটিতে দড়ি দিয়ে এভাবেই বেঁধে রাখতে হয় কাঁদতে কাঁদতে এমনই জানান মা অর্চনা ও বাবা অরুন রায়। ছোট মেয়ে কানে শুনতে পায়না। ধার দেনা করে অনেক কষ্টে ষাট হাজার টাকা দিয়ে কানের মেশিন কিনে লাগিয়েছেন। ছোট মেয়ে অর্পিতাকে এবছরই স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেনীতে ভর্তি করেছেন। সরকারি কোনও সাহায্যের আশায় অসহায় বাবা মা। একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে দেশ যখন ডিজিটাল হচ্ছে সেখানে এরকম দৃশ্য চরম লজ্জার।

You May Share This
  • 6
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    6
    Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.