এবার টুসু উৎসবকে সামনে রেখে এক অভিনব উদ্যোগ মানবাধিকার সংস্থার

এবার টুসু উৎসবকে সামনে রেখে এক অভিনব উদ্যোগ মানবাধিকার সংস্থার

অর্ণব মৈত্র, হিঙ্গলগঞ্জঃ উওর ২৪ পরগণা জেলার হিঙ্গলগঞ্জ স্বরুপকাঠী দুলদুলি এলাকায় টুসু উৎসবকে সামনে রেখে এক অভিনব উদ্যোগ নিতে দেখা গেল হাবড়ার টিপিএম হিউম্যান রাইটস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন নামে এক মানবাধিকার সংস্থাকে।
কথায় বলে মানুষ মানুষের জন্য। তা আবারও প্রমানিত হল এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কার্যকলাপের মাধ্যমে। সম্প্রতি পৌষপার্বণে টুসু উৎসবে মেতে ওঠেন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ। যাদের মধ্যে অনেকেরই সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায়। তার উপর আবার সংসারের জোয়াল। এরই মধ্য দিয়ে টুসু উৎসব করেন এই আদিবাসী সম্প্রদায়।

আর তাদের এই উৎসবের জন্য গত কয়েকবছর ধরে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন টিপিএম হিউম্যান রাইটস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন নামে হাবড়ার একটি মানবাধিকার সংস্থা। এদিন নৃত্য গান পুজা পার্বনের মধ্য দিয়ে পালিত হয় এই উৎসব।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিভিন্ন জায়গার আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্যদের নিয়ে এক অভিনব চড়ুইভাতি করেছিল টিপিএম হিউম্যান রাইটস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন নামে এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। যেখানে শিশু পাচার, আগুন, আর্সেনিক নিয়ে সচেতনতা, শিক্ষা জগতে শিক্ষক এবং ছাত্রদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা সহ ইয়ং যুবক ও বৃদ্ধ -বৃদ্ধাদের নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করা হয়। যা ব্যাপক ভাবে সাড়া ফেলে ওই এলাকা সহ আদিবাসীদের মধ্যে। হিঙ্গলগঞ্জ থেকে আসা সদস্যদের মধ্যেও এর প্রভাব পড়ে। টিপিএম হিউম্যান রাইটস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ও আদিবাসী সিধু কানু ক্লাবের সহযোগিতায় বৃদ্ধ -বৃদ্ধা ও শিশুদের নিয়ে যেমন খুশি আঁকো প্রতিযোগিতা করা হয়। এদিন আশি বছরের দৃষ্টিহীন বৃদ্ধা আদরমনি মুন্ডা সহ প্রায় পয়এিশ জন মহিলা এবং পুরুষ, শিশুরা এই অঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন।

শুধু তাই নয়, ইট মাথায় নিয়ে “ইট কটা বড়ই রে -কঠিনের কাম” গানে ইট নিয়ে নৃত্য করেন স্বরুপ কাঠী আদিবাসী দল। বালকদের একশো মিটার দৌড় প্রতিযোগীতা, তিরন্দাজ প্রতিযোগীতা, বালকদের নিজের লেজ নিজে রক্ষা করো প্রতিযোগীতা, বালিকাদের বস্তা দৌড় ইত্যাদি হয় অনুষ্ঠানে। শুধু তাই ই নয়, এদিন যেমন খুশি আঁকো, যেখানে অংশগ্রহন করতে দেখা যায় বেশ কিছু বৃদ্ধা মহিলা সহ পুরুষ ও শিশুদেরকে। এরপর বেলা গড়াতে না গড়াতে টুসু নৃত্য ও গানে মেতে ওঠেন স্থানীয় ও বহিরাগত শিল্পীরা। কানমারি থেকে আগত কানমারি মোহনবাগান এস এইস জি ঝুমুর সম্প্রদায় ও স্থানীয় স্বরূপকাঠি আদিবাসী ঝুমুর সম্প্রদায় গান গেয়ে ফেললেন, “হানি রোজ বিহান সাজ বেলায় -তোকে ডাকবো মায়”, গানে নৃত্য করেন।

অপরদিকে সংস্থার তরফ থেকে পিছিয়ে পড়া মানুষকে শিশু পাচার নিয়ে সচেতনতার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ রোধ এবং পড়াশুনা নিয়ে বিস্তারীত আলোচনা করেন সংস্থার কর্নধার সঞ্জীব কাঞ্জিলাল। দেওয়া হয় বস্ত্রও। এর পাশাপাশি কেন তারা এই উদ্যোগ নিয়েছেন সে বিষয়েও আলোচনা করা হলে সংস্থার কর্নধার সঞ্জীব কাঞ্জিলাল জানান,আমরা সরকারি বা বেসরকারি কোন সাহায্য পাইনা। নিজেদের উদ্যোগেই সামাজিক কাজ করার চেষ্টা করি। আমাদের মুল লক্ষ্য পিছিয়ে পড়া মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি পড়াশুনা করানো।

ইতিমধ্যে অঙ্কন ও ফ্রি পড়ানোর মধ্য দিয়ে আমরা ওদের মধ্যে ডুকতে পেরেছি। এবার আমরা ওদের নিয়ে (যারা পড়াশুনা এক দম জানেন না, শিশু ও বৃদ্ধ) তাদের নিয়ে প্রত্যেক সপ্তাহে বসবো। লক্ষ্য একটাই পড়াশুনা। পনেরো দিন অন্তর বিরিয়ানী বা ভালো কিছু খাওয়ানোর পাশাপাশি সঙ্গে যিনি মাসের প্রত্যেকদিন উপস্থিত হবেন পড়াশুনার জন্য, তাকে বস্ত্র দেওয়ার চিন্তা ভাবনা নিয়েছি আমরা। এর ফলে অনেকেই এগিয়ে আসবেন পড়াশুনা করতে। এমনটাই আশা আমাদের।

টুসু উৎসব কমিটির মহাদেব মুন্ডা জানান, টুসু মা কে আমরা আদিবাসী ঠাকুর হিসাবে মেনে আসছি, তাই পৌষ সংক্রান্তিতে টুসু পুজা উপলক্ষে টুসু মেলার আয়োজন করি আমরা।

You May Share This
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.