জম্মু কাশ্মীরে পাকিস্তান বর্ডারে গুলিতে নিহত বিএসএফ জওয়ান বিনয় প্রসাদের শেষ শ্রদ্ধা

Spread the love
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    2
    Shares

 

রাজীব মুখার্জী, হাওড়াঃ জম্মু কাশ্মীরে পাকিস্তান বর্ডারে গুলিতে নিহত হাওড়ার বাসিন্দা এক বিএসএফের জওয়ান। পাকিস্তানের দিক থেকে ছুটে আসা গুলিতে নিহত বি.এস.এফের এসিস্টেন্ট কমান্ড্যান্টবিনয় প্রসাদ। গত পরশু সকাল ১০:৪৫ মিনিটে ঘটনাটি ঘটে ভারত পাকিস্তান বর্ডারে। মৃত সেনা জওয়ানের নাম বিনয় প্রসাদ। বয়স ৩৫ বছর। হাওড়া শহরের ডবসন রোডের বাসিন্দা ছিলেন।

সুত্রের খবর, বছর ছয়েক আগে বি.এস.এফ.এ যোগদান করেন বিনয়। ত্রিপুরা, বাংলাদেশ, মেঘালয়ের মত সীমান্তে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। কিছুদিন আগে তাকে পাঠানো হয় কাঠুয়া জেলার জম্বু বর্ডারে। সেখানেই কর্তব্যরত অবস্থায় বুধবার পাকিস্তানের দিক থেকে ছুটে আসা একটি গুলি লাগে তার পেটে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় ওই জওয়ানের।


মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ডিসেম্বরেই ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন তিনি। এরপর জানুয়ারিতে কাজে যোগদান করেন তিনি। তবে এবার যাওয়ার সময় সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন নিজের স্ত্রী ও এক বছরের ছোট্ট মেয়েকে। বিনয়ের বন্ধু সরফরাজ আহমেদ জানান, ছোটবেলা থেকেই খুব সাহসী হিসাবেই পরিচিতি ছিল বিনয়। তাই ওই বয়সেই নিজেকে আর্মির জন্য প্রস্তুত করতে থাকেন তিনি। এরপর বিএসএফে যোগ দেন। কিছুদিন আগে ছুটিতে বাড়িতে এসেও তিনি জানিয়ে ছিলেন জম্মু কাশ্মীরের খারাপ পরিস্থিতির কথা। সেই সঙ্গে বলেছিলেন যেকোনো পরিস্থিতিতে তিনি দেশের জন্য কর্তব্য নিবারণে এগিয়ে যাবেন। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি যে খারাপ খবর এসে পৌঁছাবে তা আশা করেননি কেউই। এদিন সেই জোয়ানের মৃতদেহ নিয়ে দেশাত্মবোধের আবেগে ভাসলো হাওড়ার সালকিয়া। গত পরশুদিন যে সেনা জওয়ান জম্মু-কাশ্মীরের সীমান্তে কর্তব্যরত অবস্থায় পাক অনুপ্রবেশকারী জঙ্গিদের গুলিতে শহীদ হয়েছিলেন। এদিন সেই জওয়ানের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় তাঁর মৃতদেহ।

গতকাল দিল্লীর আর্মি হেডকোয়ার্টার থেকে বিশেষ বিমানে করে কলকাতা বিমানবন্দর হয়ে ফোর্ট উইলিয়ামে পৌঁছায় তাঁর কফিন বন্দি দেহ। ফোর্ট উইলিয়াম থেকে সুসজ্জিত আর্মি ট্রাকে তাঁর কফিন বন্দি দেহ মুড়ে দেওয়া হয় দেশের জাতীয় পতাকা। সেনাবাহিনীর নিজস্ব ভঙ্গিমায় সম্মানের সাথে তাঁর কফিনবন্দি দেহ এসে পৌঁছায় হাওড়া এসি মার্কেট সংলগ্ন তাঁর ডবসন রোডের বাড়িতে। এদিন তাঁর দেহ আসার খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাওড়া এসি মার্কেটে সাধারন মানুষের ঢল নামে। হাওড়ার এই বীর সেনানীকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে জমায়েত হয় অসংখ্য সাধারণ মানুষ। ফুলের স্তবক দিয়ে তার কফিন সাজানো হয়েছে।এরপর তাঁর বাড়ি থেকে ১১:৪০ এর সময় তাঁর কফিন বন্দি দেহ নিয়ে সুসজ্জিত মিছিল পৌঁছায় হাওড়া সালকিয়ার বাঁধাঘাটে।

এদিন পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সেনাবাহিনীর গান স্যালুট এর মাধ্যমে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। অসংখ্য অগণিত মানুষ সামিল ছিলেন এদিন তাঁর শেষ যাত্রায়।এই বীর সেনানীর প্রতি তাদের অন্তরের ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা জানাতে শেষ মুহূর্তে হাওড়া সালকিয়া বাঁধাঘাট এলাকায় ছিল শুধু অগণিত মানুষের মাথা। এদিন এই বীর সেনাকে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের সমবায় মন্ত্রী অরূপ রায়, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী লক্ষী রতন শুক্লা সহ অনেকে।

সম্পর্কিত সংবাদ

Leave a Comment