ভুয়ো বিলের অভিযোগ, গাফিলতির ডে এড়ালো বেসরকারি নার্সিংহোম

Spread the love
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    2
    Shares

 

রাজীব মুখার্জী, হাওড়াঃ এই রাজ্যের বেসরকারি নার্সিং হোম গুলোর অনেক অভিযোগ অতীতেও উঠেছে ভুয়ো বিল, সঠিক পরিষেবা না দেওয়া, ভুল চিকিৎসার প্রভৃতি, আজ আবার হাওড়ার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে উঠলো ভুয়ো বিলের অভিযোগ। গতকাল দুপুর সোয়া ১ টা নাগাদ হাওড়া নিবাসী গোপাল আগারওয়াল তাঁর দাদা মুকুট বিহারি আগারওয়ালকে জৈন হসপিটালে ভর্তি করান, তার দাদার পায়ের একটি ঘায়ের চিকিৎসা করার জন্য। আজ বিকেলে তিনি ও তার বাড়ির লোক যখন তার দাদাকে দেখতে হয় যান তখন তাঁর হাতে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ থেকে ৬.৫০০/- টাকার বিল ধরানো হয়।

তিনি মূলত দাদার একটি পায়ের ঘায়ের চিকিৎসা করার জন্য দাদাকে নার্সিংহোমে ভর্তি করেন। বিল দেখে তিনি অভিযোগ করেন বলে অনেক ভুলত্রুটি আছে বলে। তিনি বিল চেক করে দেখেন এই বিলে অনেক ত্রুটি। গোপাল আগরওয়াল বলেন, “আমাকে নার্সিংহোম থেকে ৬.৫০০/- টাকার বিল দেয়। এই বলে দেখানো যে গতকাল ৭৫ টি ও আজকে সারাদিনে ৭৬ টি ওষুধ দেওয়া হয়। এ -জেড নামের ওষুধ। আপনারাই বলুন একজন মানুষ সারাদিনে এতো ওষুধ খেতে পারে! আমি শুনেছি এই নার্সিংহোমে অন্য অনেক রোগীর বিলে এরম অনেক ভুল আছে। এরম ভুয়ো বিল তৈরি করা হয়। আজ আমি দেখে গেছি বলে ধরা পড়লো। আমি নার্সিংহোমের কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ জানিয়েছি থানাতেও লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। আমাকে বলা হয় আগে ওষুধের দাম দিতে হবে তারপর বিল দেওয়া হবে। আমাকে যে বিল দেওয়া হয়েছিল অভিযোগ করার পর সেই বিল ছিঁড়ে দেওয়া হয় নার্সিংহোমের ফার্মাসি থেকে। আমি এর সঠিক ব্যবস্থা চাই।”

অভিযোগটি গুরুতর, এই ধরণের অভিযোগ অনেক বেসরকারি নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে আগেও উঠেছে আবার উঠলো, তাঁর বয়ান অনুযায়ী তার দাদাকে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৭৬ টি ট্যাবলেট দেওয়া হয় এ-টু জেড নামের একটি ট্যাবলেট যার এক একটির দাম দিলে ৮০ টাকা করে লেখা রয়েছে। এই বিল দেখে গোপাল আগরবাল অভিযোগ দায়ের করেন শিবপুর থানায় ও বেসরকারি নার্সিংহোমের তত্বাবধায়কের।

তিনি স্পষ্ট জানান যে একজন রোগী কিভাবে ২৪ ঘন্টায় ৭৬ টি ট্যাবলেট খেতে পারে! আমরা কথা বলেছিলাম ওই নার্সিংহোমের ম্যানেজমেন্ট এর সাথে ডক্টর বিপ্রদাশ চ্যাটার্জী তিনি মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্টের সাথে, তিনি খুব সাফ ভাষায় সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন এবং খুব স্পষ্ট ভাষায় জানালেন যে, “রোগীর পরিবারের তরফ থেকে যে অভিযোগ জানানো হয়েছে বিল ছিঁড়ে দেওয়ার সেটা হয় না এটা সম্ভব নয় কারণ রোগী যখন ভর্তি রয়েছে, তার আমরা চিকিৎসা করছি সেই রোগীর চিকিৎসার জন্য যে বিল দেওয়ার প্রয়োজন সেই বিলটা রোগীর বাড়ির লোকেদের দিতেই হবে আমাদের এবং সেই ভিত্তিতেই তিনি চিকিৎসা পরিষেবার জন্য টাকা দেবেন এবং যে ওষুধ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটেছে সেই বিষয়ে তিনি বলেন যে হয়তো কোন ভুল হয়েছে বা কম্পিউটারে যখন বিলটি তৈরি করা হচ্ছে সেখানে কোন ভাবে মিস টাইপ হয়ে হয়তো ৫ টা মেডিসিন এর জায়গায় ওটা ৭৫-৭৬ হয়ে গেছে। এটা তারা দেখছেন এবং যদি কোন ভুল থাকে তো সেটা নিশ্চিন্তভাবেই ঠিক করে নেওয়া হবে এবং নার্সিংহোমের প্রতি যে অভিযোগগুলো করা হয়েছে সেই অভিযোগগুলো তিনি সরেজমিনে দেখবেন। কারণ এই যে ঘটনা ঘটেছে সেই ঘটনা হওয়া উচিত নয়।”

রোগীর ভাই গোপাল আগরবাল যে অভিযোগ করেছেন তাতে তিনি খুব স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে তাঁর দাদার যে মেডিকেল বিল দেওয়া হয়েছে তাকে, তাতে তার দাদার চিকিৎসার জন্য বিগত ২৪ ঘন্টায় যে বিলের পরিমান তাতে প্রচুর গড়মিল আছে এবং তিনি অন্যান্য প্রেসেন্ট পার্টির সঙ্গে কথা বলেছেন তাদের থেকেও তিনি যা জেনেছেন যে রকম বহু লোকের বিলেই গরমিল আছে এবং এই নার্সিংহোমে এরকম গরমিল সমেত বিল তৈরি করা হয় যেহেতু এই বিলটি তার চোখে পড়েছে ও গরমিলটা ধরা পড়েছে তাই আজকে যখন তিনি অভিযোগ জানিয়েছেন নাসিংহোম কর্তৃপক্ষের কাছে, তারা আশ্বাস দিয়েছে এই বিষয়টাকে তারা গুরুত্ব সহকারে দেখবেন কিন্তু এরকম বিল যে অন্যান্য রোগীর সাথেও হয় সেটা অন্য রোগীর বাড়ির তরফ থেকে তাকে জানিয়েছেন তারা। আমরা কথা বলেছিলাম শিবপুর থানার ইন্সপেক্টর ইনচার্জ যিনি তিনি খুব স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বিল সংক্রান্ত বিষয়গুলো তারা চেক করতে পারেনা না, তাই তিনি এই বিষয়টা তারা হাওড়া সি.এম.ও. এইচ.এর কাছে পাঠিয়েছে যা ব্যবস্থা করা তিনিই করবেন।

সম্পর্কিত সংবাদ

Leave a Comment