পৌর কর্মীদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ঠেলে দিলো দুই নিম্নবিত্ত পরিবারকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে

পৌর কর্মীদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ঠেলে দিলো দুই নিম্নবিত্ত পরিবারকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে

 

রাজীব মুখার্জী, হাওড়া স্টেশনঃ  আজ হাওড়া স্টেশন চত্বরে ঘটলো একটি অবিস্মরণীয় ঘটনা। এটা ডিসেম্বর মাস। হালকা শীতের আমেজ লেগেছে। আর তাই সাধারণ মানুষের মধ্যে এই প্রবণতা বেড়েছে যে রাস্তার ধারে জঞ্জাল জড়ো করে সেই জঞ্জালে আগুন লাগিয়ে সেই আগুনের উত্তাপে একটু নিজের শরীরকে গরম করে নেওয়া প্রচেষ্টা। সবই ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু হঠাৎ সব বদলে গেলো। এই আগুন থেকেই ঘটলো এক মারাত্মক দুর্ঘটনা। এই ঘটনা ঘটল হাওড়া স্টেশনের পাশেই রেল মিউজিয়ামের লাগোয়া পার্কিংয়ের জায়গাতে।

এদিন দুপুরে এই পার্কিংয়ে গাড়ি লাগায় পোশাকের বস্তাভর্তি একটি লরি। গাড়ি পার্কিংয়ে রেখে নিশ্চিন্ত মনে গাড়ির ড্রাইভার এবং খালাসি দুজনেই দুপুরের খাবার খেয়ে একটু বিশ্রাম নেওয়ার জন্য বেরিয়ে যায়। আর যখন ফিরে আসে তখন দেখে তাদের গাড়িকে ঘিরে আশেপাশে বহু লোক জমে আছে এবং তাদের গাড়িতে দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুনে। সেই দৃশ্য দেখে তাদের চক্ষু চড়কগাছ। এটা কি হল! কিভাবে গাড়িতে আগুন লাগল! যে গাড়ি তারা রেখে গাড়ি বন্ধ করে নিশ্চিন্ত মনে খাবার খেতে গেছিলো সেই গাড়িতে কিভাবে ঘটলেই দুর্ঘটনা ! এই রকম হাজারো প্রশ্ন মনে আর চোখের সামনে দেখছে তাদের পেট চালানোর একমাত্র মাধ্যম সেই লরিটিতে দাউ দাউ করে আগুনে জ্বলছে।

গাড়ি চালক জ্বালা উদ্দিন লস্কর এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যান। তিনি বলেন, “গাড়ির সামনের কর্পোরেশনের লোকেরা জঞ্জাল জোড় করেছিল সেই জঞ্জালে আগুন লাগানো হয় এবং সেই আগুন ধীরে ধীরে এগিয়ে গাড়ির টায়ারে প্রথমে ধরে এবং পরবর্তীতে গোটা গাড়িতে আগুন লেগে যায়।” তিনি এই মুহূর্তে এটা বুঝতে পারছেন না যে কিভাবে তার সংসার তিনি চালাবেন, এই গাড়ি চালিয়ে যে রোজগার হয় সেই রোজগারে তার সংসার চলত।

[espro-slider id=16022]

স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, “এই লরিতে আগুন ধরেছে তার একমাত্র কারণ গাড়ির সামনে কর্পোরেশনের লোকেরা যে জঞ্জাল জোর করে রেখেছিলো সেই জঞ্জালে তারা শীতকালে আগুন পাবে বলে জ্বালিয়ে ছিল। তারপর তারা চলে যায় তখনও আগুন জ্বলছিল আর সেই আগুন থেকেই গাড়ির টায়ারে আগুন লেগে গোটা গাড়িতে আগুন লেগে যায়।”এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গাড়িতে প্রায় পনের-কুড়ি বস্তা রেডিমেড গার্মেন্টস ছিল, যে রেডিমেড গার্মেন্টস মঙ্গলা হাটে পৌঁছানোর কথা ছিল তা সম্পূর্ণরূপে জ্বলে যায়। তবে যে সময় গাড়িতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে সেই সময় তখনও চেষ্টা চলছে যদি কিছু মাল কিছু বস্তা যদি বাঁচিয়ে নেওয়া যায়।

স্থানীয়ভাবে রেলওয়ে মিউজিয়াম এর থেকে পাইপ লাইনে জল নিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়, সাথে খবর দেওয়া হয় দমকলকে। দমকলের ২ টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারপর দমকলের ইঞ্জিন থেকে আগুন নেভানোর কাজ শুরু হয় ততক্ষণে গাড়ির প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে গেছে। আর কিছু হারাবার নেই।

কর্পোরেশনের লোকেদের এই দায়িত্বজ্ঞানহীনতার ফল হিসাবে আজকে দুজন মানুষের রোজগার করার পথ বন্ধ হল এবং এই দুটি মানুষকে কেন্দ্র করে তাদের পরিবারের আর্থিক সংস্থানের জায়গাটাও আপাতত বন্ধ রইল, এই দায়িত্ব কে নেবে! যে গাড়ির মালিক তার না যে কর্পোরেশনের লোকেরা এই আগুনটা জ্বালিয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়ে এলাকা থেকে চলে গেল তাদের! এর কোন উত্তর এখনো অব্দি পাওয়া যায়নি। মাঝখান থেকে দুটো মানুষ এবং তার পরিবারকে ঠেলে দিল এই ঘটনা এক অনিশ্চয়তার ভবিষ্যতের দিকে।

You May Share This
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    2
    Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.