নাতির বিয়ের বৌভাতে উপহার হিসেবে ৯৩ বছর বয়সে চক্ষু দান করে চির নিদ্রায় বিদায় নিলেন ঠাকুমা

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শান্তনু বিশ্বাস, হাবড়াঃ নাতির বিয়ের সেরা উপহার হিসাবে চক্ষু দান করে চির নিদ্রায় বিদায় নিলেন বছর ৯৩ বয়সী ঠাকুমা। এক নজির বিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকলেন দাস পরিবারের সকল সদস্য সহ হাবড়া হাসপাতালের উপস্থিত রোগীর আত্মীয়-স্বজন থেকে শুরু করে সাধারন পথ চলতি মানুষ।

পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে খবর, নদীয়া জেলার হরিনঘাটা থানার ঝিকরা বটতলা এলাকার বাসিন্দা বছর ৯৩-র পারুল দাস মঙ্গলবার দুপুরে নাতির বৌভাতের অনুষ্ঠানের জন্য তরিঘড়ি করে ঘরে ফেরার পথে হঠাৎ মাথা ঘুরে আচমকাই পড়ে যায়। বাড়িতে তখন নাতি সঞ্জীব দাসের ধুমধাম করে বৌভাতের ‌আয়োজন চলছিল। গ্রামবাসি থেকে শুরু করে আত্মীয় পরিজনদের ভীড়। পরিবারের সদস্য ও উপস্থিত আত্মীয়রা মিলে তরিঘরি হাবড়া হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তাকে অক্সিজেন ও স্যালাইন দেওয়া হয়। কিন্তু কিছু সময় বাদে‌ই সব শেষ। দাস পরিবারের নতুন সদস্যের আগমন বাড়িতে নববধূ রুপে আর অন্যদিকে পুরনো সদস্যের চির বিদায়। গোটা হাবড়া হাসপাতাল চত্বর স্তব্ধ কিছু সময়ের জন্য। পারুল দেবীর মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙ্গে পরলেন দাস পরিবার। তবে মৃত্যুর আগে পারুল দেবী রেখে গেলেন দাস বাড়ি আর সম্পত্তি সহ ৯ ছেলে আর ১ মেয়ে ও ১৯ জন নাতি আর নাতনিদের।

একান্নবর্তী পরিবারের সদস্যদের সিদ্ধান্ত হয় পারুল দেবীর চোখের আলোয় দেখবে দুটি অন্ধ মানুষের মধ্যে দিয়ে। তাই চক্ষু দানের সিদ্ধান্ত নেন তারা। খবর দেওয়া হয় ব্যারাকপুরে অবস্থিত দিশা আই হাসপাতালে, দ্রুত চিকিৎসকেরা এসে পারুল দাসের চোখের “কর্নিয়া” সংগ্রহ করেন। পরিবারের এই মহান উদ্দ্যেগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সকলেই।

পুত্রবধূ সুলেখা দাস বলেন, “মায়ের এই মৃত্যু সত্যি মানতে কষ্ট হচ্ছে। খুব হাসিখুশি থাকতে ভালোবাসতেন সবসময়। সংসারে আমাদের কোন ঝামেলা নেই আমরা সবাই এক সাথে একই পরিবারে মিলে মিশে থাকি। শাশুড়ি মায়ের চোখের আলো আমাদের থেকেও অনেক বেশি শক্তিশালী ছিলেন। আমরা চাই সমাজের প্রত্যেকটি মানুষ এভাবে এই ধরনের মহত কাজে এগিয়ে আসলে সমাজ অনেকটাই এগিয়ে যাবে।”

নাতি প্রদ্বীপ দাস বলেন, “কলকাতা অঙ্গদান করছে একের পর এক অনেক মানুষ। আমার ঠাকুমার চোখ দিয়ে যদি কারো চোখের আলো ফিরে পায় ওটাই আমাদের কাছে অনেক আনন্দ।”

সম্পর্কিত সংবাদ

Leave a Comment