ব্যারাকপুর ডাঃ বি.এন.বসু মহকুমা হাসপাতালে প্রথম ল্যাপারোস্কোপিক কোলেসিস্টেকটমি অস্ত্রপচার

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

অরিন্দম রায় চৌধুরী, ব্যারাকপুরঃ আমরা আমাদের চারপাশের মানুষের কাছ থেকে হামেশাই শুনি যে তার নিজের গলব্লাডার পাথর ছিল। এবং শুধু এই কারণেই অস্ত্রোপচার করতে হয়েছিল। এই রোগ সম্পর্কে জানার আগে আমাদের শরীরের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশটি কীভাবে কাজ করে তা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। এটি হজম পদ্ধতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ যা লিভার এবং ছোট অন্ত্রে মধ্যে একটি সেতু হিসাবে কাজ করে। যকৃত থেকে পিত্ত (বাইল) নামক পাচক এনজাইম এর স্রোত নিরন্তর পরতে থাকে যা একটি থলির মধ্যে জমা হতে থাকে।

একটি সুস্থ ব্যক্তির লিভার সমগ্র 24 ঘন্টার মধ্যে প্রায় 800 গ্রাম বাইল উৎপাদন করে। লিভার এবং গল ব্ল্যাডারের মধ্যে, বাইল ডাক্ট নামক একটি ছোট টিউব রয়েছে, যার মাধ্যমে এটি গ্লোবডারকে পিত্ত প্রেরণ করে। যখন একজন ব্যক্তি শরীরের খাবারে যায়, তখন ব্লাডার একটি পেস্টের মত পিত্ত টেনে এনে ছোট অন্ত্রের উপরের অংশে পাঠায়, যাকে ডুওডেনিয়াম বলা হয়। এই থেকে, পাচন ক্রিয়া শুরু হয়।

পাচনের জন্য অতি জরুরী এই এনজাইমকে সুরক্ষিত রাখার প্রধান এই অঙ্গের(গলব্লাডার) প্রধান সমস্যা হল এর মধ্যে পাথরের উৎপত্তি যাকে গলব্লাডার স্টোন বলা হয়ে। আসলে গলব্লাডারের মধ্যে তরল বাইল জুস যখন সুখীয়ে আসে তখন চিনি ও অন্য মাইক্রোনিউট্রিএন্ট এক সাথে জমা হয়ে ছোট ছোট পাথররের টুকরোর আকার নেয় যাকে গলব্লাডার স্টোন বলা হয়ে। এইগুলি দুই রকমের হয়ে থাকে। একটিকে বলা হয়ে কোলেস্ট্রোল ও অন্যটিকে বলা হয় পিগমেন্ট। কোলেস্ট্রোল পাথর হলদে-সবুজ রঙের হয়ে। সাধারণত অবেসিটিতে ভুগছেন এমন মানুষের এই কোলেস্ট্রোল স্টোনের সমস্যা বেশী দেখা যায়।

সাধারণত শারীরিক সক্রিয়তা ও ব্যায়ামের অভাব, রোজকার খাওয়াদাওয়ায়ে অধিক মাত্রায় ঘি-তেল, লঙ্কা ও মশলার ব্যাবহারই এই সমস্যার মূল কারণ মনে করা হয়ে এমনকি অনেকদিন ধরে একনাগাড়ে গরভনিরোধক ওষুধের সেবন করা, অবেসিটি কমানোর ওষুধের সাইড ইফেক্ট বা হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি নেওয়া মহিলাদেরও এই রোগের আশঙ্কা বেড়ে যায়।

কখনও এই পিত্তাশয়ের মধ্যে পাথর কোন লক্ষণ ছাড়াই হয়ে থাকে আবার কখনও কখনও আবার কিছু লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়। আর পিত্তাশয় পাথর এর কিছু লক্ষণ হলঃ

  • পেটের উপরদিকের ডানদিকে ব্যাথা
  • বদহজম
  • মুখে টক টক ভাব
  • পেট ফুলে যাওয়া

জেনে রাখা ভাল যে এমন একটি সমস্যার জন্য অপারেশনের দরকার হয়ে যা কোন মহকুমার হাসপাতালে করা পরিণত কাঠামোর অভাবে সম্ভব ছিল না। কিন্তু এই ব্যাপারে একটি সুবর্ণ দিকের উন্মোচন করলো ব্যারাকপুরের ডাঃ বি এন বসু মহকুমা হাসপাতাল। বস্তুত দেখা যাচ্ছে বর্তমান হাসপাতালের সুপার ডাঃ সুদীপ্ত ভট্টাচার্যের সুপার হিসেবে কার্যভার গ্রহণ করার পর থেকেই একের পর এক অসাধ্য সাধন করে চলেছেন হাসপাতালের সুপার ডাঃ সুদীপ্ত ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে এই হাসপাতালের ডাক্তাররা।

ব্যারাকপুর ডাক্তার বিএন বসু মহকুমা হাসপাতালে ৪ঠা ডিসেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার এক গলব্লাডারের জটিল অপারেশন হল যা মহকুমা হাসপাতাল হিসেবে ব্যারাকপুরে তো প্রথম এবং অন্যান্য মহকুমাতে হয়নি । প্রসঙ্গত নয়না হরি নামের এক রোগিনী কয়েক দিন আগে ভর্তি হয়ে ব্যারাকপুর বিএন বসু মহকুমা হাসপাতালে গলব্লাডারে স্টোন নিয়ে। এরপর ডাক্তাররাও তাকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে অস্ত্রপচারের সিদ্ধান্ত নেন এর পর ৪ঠা ডিসেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার ল্যাপারোস্কোপিক কোলেসিস্টেকটমি মাধ্যমে অস্ত্রোপচারটি হলো। অস্ত্রোপচার দলের প্রধান ডাক্তার অমিতাভ ভট্টাচার্য জানান, “বিএন বসু মহকুমা হাসপাতালে এই ধরনের অপারেশন এই প্রথম যা সম্ভব হয়েছে বিধায়ক শীলভদ্র দত্তর দেওয়া একটি যন্ত্রের মাধ্যমে।” তিনি আরও বলেন, “এই বিষয়ে আমাদেরকে সমস্ত রকমের সহযোগিতা করেছেন বিএন হাসপাতালের সুপার ডাক্তার সুদীপ্ত ভট্টাচার্য আমরা খুব খুশি কারণ এই ধরনের অপারেশন এখানে হলে কলকাতার রোগীদের যেতে হবে না কষ্ট করে।”

ব্যারাকপুর ডাক্তার বিএন বসু মহকুমা হাসপাতাল যে আগামী দিনে এই অস্ত্রপচারের সাহায্যে আরও অনেক রুগীকে সুস্থ করে তুলতে পারবে তা বলাই বাহুল্য। আর কাউকে আগামী দিনে এই ধরনের রোগের চিকিৎসার জন্য মহকুমা থেকে কলকাতার হাসপাতালে দৌড়তে হবে না।

সম্পর্কিত সংবাদ

Leave a Comment