সি. এম .ও. এইচ. অসুস্থ, সুপার ব্যস্ত, চিকিৎসা শিকেয়,পালালো রোগী

সি. এম .ও. এইচ. অসুস্থ, সুপার ব্যস্ত, চিকিৎসা শিকেয়,পালালো রোগী

 

রাজীব মুখার্জী, হাওড়াঃ আজকে দুপুর ১ টা নাগাদ হাওড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরা পালিয়ে যাওয়ার ঘটলো এই ঘটনা। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগী পালিয়ে গেলো হাওড়া হাসপাতাল থেকে। পলাতক রোগীর নাম নারায়ণ সিং। বয়স প্রায় ৬০ বছর। এই ঘটনায় হাওড়া হসপিটালে ফের রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে নিয়ে প্রশ্ন চিহ্ন উঠলো। বেলা ১২টা নাগাদ পলাতক এক রোগীকে রাস্তায় ঘুরতে দেখে ও অসুস্থ বুঝতে পেরে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করালো এক যুবক। হাসপাতালের ট্যাগ দেখে ও হাতে স্যালাইনের চ্যানেল করা আছে দেখে চার্চ রোড থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় সম্রাট সামন্ত নামের এই ব্যক্তি। এই ঘটনায় ওই রোগী কিভাবে হাসপাতালের বাইরে গেল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল সুপার।

জনৈক ব্যক্তি সম্রাট সামন্ত চার্চ রোডের সামনে সেন্ট থমাস স্কুল থেকে তার ছেলেকে স্কুল থেকে নিয়ে আসার জন্য যাচ্ছিলেন সেই সময় তিনি দেখতে পান চার্চ রোড এর সামনেই রাস্তার ধারে এক অশীতিপর বৃদ্ধ বসে আছেন এবং তিনি আরও লক্ষ্য করেন তার বাঁ হাতে স্যালাইনের একটি চ্যানেল এবং সেখানে সাদা লিউকোপ্লাস্টের উপরে ২৬ নম্বর লেখা রয়েছে। ছেলেকে আনার তারা থাকায় সেই মুহূর্তে কিছু না বলে তিনি সোজা চলে যান স্কুল থেকে ছেলেকে নিয়ে ওই রাস্তা দিয়েই আসার সময় তখনো দেখেন ওই বৃদ্ধ ওখানে উদ্ভ্রান্তের মতো পায়চারি করছে। তিনি এগিয়ে এসে বৃদ্ধকে তার পরিচয় জিজ্ঞেস করেন, কি সমস্যা হয়েছে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কিছুই উত্তর দিতে পারেন নি। সেই মুহূর্তে তিনি বুঝতে পারেন ব্যক্তি সামনের হাসপাতাল থেকেই বেরিয়ে এসেছেন। তিনি তার বন্ধু বিকাশ জয়সওয়ালকে অনুরোধ করেন এবং এই লোকটিকে সেখান থেকেই একটি রিকশাতে বসিয়ে, রিক্সা নিয়ে সোজা এসে পৌঁছন হাওড়া সদর হাসপাতলে।

[espro-slider id=15657]

এরপর সেই বৃদ্ধ ব্যক্তি রিক্সাতে বসে থাকেন। এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বোঝা যায় তিনি কিছুই মনে করতে পারছেন না বা তিনি সে রকম কিছু বলতেও পারছে না। শুধুমাত্র তার নামটা জানা যায় হাসপাতাল সূত্রেই। এই অশীতিপর বৃদ্ধের নাম নারায়ন সিং। বয়স আনুমানিক ৬০ বছর।

এই ঘটনার বিষয়ে সুপার জানান, “তিনি বিষয়টা জানার সাথে সাথে হাসপাতালে কর্মীদের ওখানে পাঠিয়েছেন। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে যে একজন চিকিৎসাধীন রোগী কিভাবে হসপিটালের চত্বর ছেড়ে বাইরে চলে গেল এই বিষয়ে যাদের গাফিলতি রয়েছে নজরদারির তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হবে এবং তিনি বিষয়টা আরো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে এর তদন্ত করবেন”। ততক্ষনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ। যারা হাওড়া সদর হাসপাতালে যারা ডিউটি করছিলেন এবং আমরা কথা বলেছিলাম হাওড়া সি.এম.ও.এইচ. ভবানী দাসের সাথেও। তিনি জানান, “তিনি এই মুহূর্তে অসুস্থ ও এই মুহূর্তে বাড়িতে আছেন তো এই ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না তিনি খোঁজ নিয়ে জানাবেন”।

এখন হাওড়া সদর হাসপাতালে নিরাপত্তার যারা দায়িত্বে, এতো জন্য কর্মরত নার্স এবং যে বেসরকারি নিরাপত্তা রক্ষীরা দুদিকের গেটের সামনে দায়িত্বে আছেন তাঁদের এত জনের নজর এড়িয়ে এই অশীতিপর বৃদ্ধ লোকটি কিভাবে হাসপাতাল চত্বর ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন এবং প্রকাশ্য রাস্তায় ওই বাঁ হাতে স্যালাইনের চ্যানেল লাগানো অবস্থাতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এটাই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এই ঘটনা নিয়ে হাসপাতাল চত্বরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছেন এবং এই নিয়ে সাধারণ মানুষ যারা চিকিৎসার জন্য আসছেন তারা প্রশ্ন তুলছেন যে হাসপাতালের একজন রোগীকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করার পর সেই রোগীর দায়-দায়িত্ব নিরাপত্তা সমস্ত কিছুর দায়িত্ব হসপিটালের। এই গাফিলতি কাদের জন্য এবং এই গাফিলতির দায় ভার কার!

You May Share This
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.