বাংলাদেশে আইনি জটিলতায় বিএনপির প্রার্থীরা: অনেকের বাদ পড়ার আশঙ্কা

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

মিজান রহমান, ঢাকাঃ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও বিএনপির অনেক প্রার্থী আইনি জটিলতায় রয়েছেন। শঙ্কা রয়েছে নানা মামলায় গ্রেফতার হওয়ারও। এ অবস্থায় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনের পথে কতটা শক্তি নিয়ে এগিয়ে যেতে, পারে তা নিয়ে সংশয়ে দলটির শীর্ষ নেতারা। এমন আভাস উঠে আসে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের কথাতেও।

৩০শে নভেম্বর বিকেলে গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন তফসিল ঘোষণার পর থেকে কোনো গ্রেফতার হবে না, কিন্তু সে অবস্থা দেখা যাচ্ছে না। মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন কমিশন ও সরকার যেভাবে নীলনকশা অনুযায়ী এগিয়ে চলছে, তাতে গণতন্ত্রের মুক্তি হয় কি না—সন্দেহ আছে। জানা যায়, বিএনপির দুই প্রার্থীকে জামিন না দিয়ে আটক করা হয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগ আরো দুই নেতাকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশনা দিয়েছেন। দুই দিনের রিমান্ডে রয়েছেন আরো এক প্রার্থী। এ অবস্থায় দলটির নীতিনির্ধারকরা আশঙ্কা করছেন, যাচাই-বাছাই পর্বে এসব নেতার মনোনয়ন বাতিল করে দিতে পারেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

এছাড়া রংপুরে জামায়াতের একজনের মনোনয়নপত্রই গ্রহণ করেননি রিটার্নিং কর্মকর্তা। এর আগে বাংলাদেশ হাইকোর্ট বিভাগ এক আদেশে বলেন, কোনো ব্যক্তি দুই বছরের বেশি দণ্ড বা সাজাপ্রাপ্ত হলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আমান উল্লাহ আমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ওয়াদুদ ভূঁইয়া, আবদুল ওহাব ও মশিউর রহমান দুর্নীতির মামলায় আদালতের দেওয়া দণ্ড ও সাজা স্থগিত চেয়ে আবেদন করলে হাইকোর্ট বিভাগ এই আদেশ দেন। এ দিকে দুটি আলাদা মামলায় গতকাল নরসিংদী-১ ও মাগুরা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী খায়রুল কবির খোকন এবং মনোয়ার হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন বিচারিক আদালত। এছাড়া ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইসরাখ হোসেনকে দুর্নীতির দুই মামলায় নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট বিভাগ।
বিএনপির নির্বাচন সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ সরকার বিএনপি প্রার্থীদের নির্বাচনের বাইরে রাখতে চেষ্টা করছে। তারা যেন নির্বাচনী কার্যক্রম চালাতে না পারেন, সেই চেষ্টাও করা হচ্ছে। রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর দায়ের হওয়া মামলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য নিপুন রায় চৌধুরীকে গত ২২শে নভেম্বর কারাগারে পাঠান আদালত। ঢাকা-৩ আসন থেকে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে তার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকা-৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোশাররফ হোসেন খোকন মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন।

তবে লালবাগ থানার ওসি শুভাস কুমার পাল জানান, নাশকতার একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই মামলায় তিনি দুই দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। অন্যদিকে যশোর-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী সাবিরা সুলতানাকে দ- ও সাজা দেন নিম্ন আদালত। আপিল বিভাগে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই রায় স্থগিত করেছেন বিচারপতি মো. রইস উদ্দিনের একক বেঞ্চ।

সম্পর্কিত সংবাদ

Leave a Comment