বাংলাদেশের বাজারে নতুন চাল

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

মিজান রহমান, ঢাকাঃ বাংলাদেশে কৃষকদের ঘরে নতুন চাল ওঠার সঙ্গে সঙ্গে স্বস্তি এসেছে বাজারে। কমেছে চালের দাম। বাজারে নতুন চাল পুরোপুরি উঠলে দাম আরও কমে আসবে বলে জানাচ্ছেন পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা। দাম কমায় স্বস্তিতে ক্রেতারাও। শুক্রবার ও শনিবার ছুটির দিনে বাংলাদেশের রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কেজিতে চার থেকে পাঁচ টাকা কমেছে বিভিন্ন ধরনের মোটা ও চিকন চালের দাম। রাজধানীর পাইকারি চালের বাজার কারওয়ানবাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজারেও দেখা গেছে, আসতে শুরু করেছে নতুন চাল।

বিক্রেতারা বলছেন, গত দু-তিন মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে কমছে চালের দাম। কিছুদিন আগেও ৫৮-৬২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া চাল এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকায়। কেজিপ্রতি ৩০-৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে স্বণার্, পাইজাম, আটাশ, গুটি সহ মোটা জাতের চাল। খুচরা বাজারেও কমেছে চালের দাম। তবে, এখনো পাইকারি বাজারের সঙ্গে পাথর্ক্য অনেক। পাইকারি বাজারে ৪৫-৫০ টাকা কেজি দরে মিনিকেট চাল বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫৮-৬০ টাকায়। ৪০ টাকার কমে মিলছে না মোটা চালও। মোহাম্মদপুর শিয়া মসজিদ বাজারে খুচরা ও পাইকারি দরে বিক্রি হয় চাল। তবে কৃষি মাকের্ট খুচরা বাজারের চালের দরের চেয়ে এ বাজারের পাইকারি দর বেশি। চালের দাম কমার প্রভাব খুব একটা দেখা যায়নি স্থানীয় মুদি দোকান ও খুচরা দোকানেও।

মোহাম্মদপুর কৃষি বাজারের তিতাস এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. আব্দুল মতিন বলেন, “চালের দাম কম। গত তিন-চার মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে চালের দাম কমছে। নতুন চাল কিছু কিছু আসছে। পুরোপুরি নতুন চাল বাজারে এলে দাম আরও কমে যাবে।”

বিক্রেতারা আরও জানান, “চালের দাম কমতে শুরু করলে চাহিদা কমে যায়। ফলে বিক্রিও কম হয়।” ‘ক্রেতারা মনে করেন, দাম আরও কমবে, তাই বিক্রি কমে যায়। আবার যখন দাম বাড়ে তখন বিক্রি বাড়ে। ক্রেতারা মনে করেন, দাম আরও বাড়বে।’ দেশে ভারতীয় চাল আসছে, যা চালের দরপতনের অন্যতম কারণ বলেও মনে করছেন বিক্রেতারা।

একই বাজারের পাইকারি চালের আড়ত ‘মেসাসর্ বিলচাঁন্দক রাইস এজেন্সি’র বিক্রেতা আনিছ বলেন, “চালের দাম কমায় কিছুটা ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়েছে পাইকারি ব্যবসায়ীদের। ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হলে কারো কিছু যায় আসে না। এটা নিয়ে কারো মাথাব্যথাও নেই। আমাদের ক্ষতিপূরণ কেউ দেয় না। কেউ জানতেও চায় না।”

তিনি আরও বলেন, “ক্ষতি তো রাস্তায়ও হয়। সন্ত্রাসীরা ট্রাকগুলো আটক করে নিয়ে যায়, জাহাজ ডুবে যায়। আমরাও দাম কমার ফলে যে ক্ষতি হয় তা এইভাবেই মেনেনি।” তবে চালের দাম কমায় স্বস্তিতে আছেন সাধারণ মানুষ। মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত এবং দরিদ্রদের জন্য সুখবর বয়ে এসেছে।

ক্রেতা ইউনূস জানান, চালের দাম কম থাকুক এটা তাদের সারা বছরের প্রত্যাশা। সামান্য আয় দিয়ে বেশি দামের চাল কিনতে বিপাকে পড়তে হয়। পেশায় প্রাইভেটকার চালক ইউনূস বলেন, “আমি যার গাড়ি চালাই, তারা খান নাজিরশাইল। আমরা তো আর দামি চাইল খেতে পারি না, আমরা খাই পাইজাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘মোটা চাইল খাওয়ার পরও টানাটানি লাগে। চল্লিশ টাকা, পাঁচচল্লিশ টাকা কেজি থাকে। এই দামে চাল কেনা আমাদের পোষায়?’ ক্রেতা দিদারুল বলেন, ‘চাল সহ সকল পণ্যের দাম কম থাকবে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আমরা এটাই আশা করি। কিন্তু বছরের অন্যান্য সময় এই চাল কিনতেই ঝামেলা হয়। সরকারের উচিত, এই দিকটা দেখা।’

সম্পর্কিত সংবাদ

Leave a Comment