28 C
Kolkata
Sunday, July 14, 2024
spot_img

তারেকের দিকেই তাকিয়ে বাংলাদেশে বিএনপির প্রার্থীরা

মিজান রহমান, ঢাকাঃ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষায় রয়েছেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। তারা তাকিয়ে আছেন লন্ডনের দিকে। অনেকে তারেক ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন। নানামুখী চাপে রয়েছেন তারা। একদিকে মনোনয়নে দলের ভেতর একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী, অন্যদিকে রয়েছে ২০ দলীয় জোট এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের চাহিদা। সব মিলিয়ে ৩০০ আসনে বিএনপির সাড়ে চার হাজার প্রার্থীর দিন কাটছে টানাপড়েনে। নির্বাচনের জটিল হিসাবের মধ্যে পড়েছেন তারা।

সূত্র জানায়, দলীয় প্রার্থী মনোনয়নে তারেক রহমানের কৌশলী প্রশ্নের ভিত্তিতে কোনো প্রার্থীই শঙ্কামুক্ত নন। তারা ভাবছেন, সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তারেক রহমান লন্ডনে বসেই দলীয় মনোনয়ন চুড়ান্ত করবেন। এ জন্য প্রার্থীদের অনেকে সরাসরি তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে নিজের মনোনয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করে তারেকপন্থি দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। তাদের মাধ্যমে লন্ডনে লবিং-তদবিরের পথ খুঁজছেন। কেউ কেউ লন্ডনের পথে পাও বাড়িয়েছেন।

২০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের জন্য আসন ছাড় দিয়ে এরই মধ্যে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন চুড়ান্ত করেছেন তারেক রহমান। যেখানে মামলা, ঋণখেলাপি কিংবা অন্য কোনো কারণে কারো প্রার্থিতা বাতিল হলে দ্বিতীয়জনকে চুড়ান্ত মনোনয়ন দেবেন। ওই প্রার্থীও কোনো কারণে নির্বাচন না করতে পারলে তৃতীয়জনকে বেছে নেওয়া হবে। চুড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় ৩ জনের নাম রাখায় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বাড়তি চাপে রয়েছেন।

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের অংশ হিসেবে তারা নির্বাচনে যাচ্ছেন। এ নির্বাচনে আসন বণ্টন নিয়ে জোটের শরিকদের মধ্যে কোনো সমস্যা হবে না। সবাই বাস্তবতার ভিত্তিতে যোগ্য ও শক্তিশালী প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনার ব্যাপারে একমত। এ বিষয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবেন।

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মনোনয়ন সাক্ষাৎকার বোর্ডে তারেক রহমানের করা কিছু প্রশ্ন নিয়ে দ্বিধায় রয়েছেন অনেকেই। প্রার্থিতা চুড়ান্ত করার লক্ষ্যে বহুদিন ধরে দলের জন্য কাজ করে যাওয়া নেতারাও রয়েছেন অস্থিরতায়। তারা বলছেন, তারেক রহমান যেভাবে প্রশ্ন করেছেন তাতে সন্দেহ হচ্ছে মনোনয়ন তালিকা হয়তো আগেই তৈরি করা হয়েছে। সাক্ষাৎকার নিতান্তই 'আইওয়াশ'। অনেকে আবার বিষয়টি তাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে দেখেছেন।

দিনাজপুর-১ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী মামুনুর রশীদ চৌধুরী বলেন, মনোনয়ন বোর্ডে ভিডিও কনফারেন্সে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপস্থিতি আমাদের জন্য বড় প্রাপ্তি ছিল। তিনি বেশ সৌহার্দপূর্ণ কথা বলেছেন। তবে তার প্রশ্ন শুনে তাৎক্ষণিকভাবে চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। তিনি দলের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে বলেছেন। তার কথা মতোই কাজ করব।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা এখন প্রার্থী তালিকা চুড়ান্ত করছি। জোট ও ফ্রন্ট পৃথকভাবে প্রার্থী তালিকা চুড়ান্ত করছে। তবে এখনই আমরা তালিকা ঘোষণা করছি না। মনোনয়নপত্র জমা ও যাচাই-বাছাই পর্যন্ত সময় আছে। দলের যোগ্য প্রার্থীরাই চুড়ান্তভাবে মনোনীত হবেন।

অন্যদিকে নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন এবং ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে কয়েকটি বিষয় নিয়ে দলটির সিনিয়র নেতাদের অলিখিত মতানৈক্য দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। সংস্কারপন্থিদের মনোনয়ন প্রদানে ইচ্ছুক নন তারেক রহমান। কিন্তু বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য মনে করেন, অধিকাংশ সংস্কারপন্থিই এলাকায় অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং জনপ্রিয়। তাই তাদের মনোনয়ন দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের আসন ছাড়ের বিষয়টিও রয়েছে। সেই জায়গায় তারেক রহমানের আসন বিন্যাসের ছক অনুযায়ী ২০ দলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্টের জন্য মোট ৫০ থেকে ৬০টি আসন রাখা হয়েছে।

এছাড়া ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দলীয় চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ঘোষিত ভিশন ২০৩০-এর আদলে একটি দলীয় ইশতেহার তৈরি করা হয়েছে। আগামী ২-১ দিনের মধ্যেই তা জাতির সামনে প্রকাশ করার কথা রয়েছে। এছাড়াও তারেক রহমান নির্বাচনী প্রার্থিতায় অনেক সিনিয়র নেতাকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন।

এক্ষেত্রে ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া সহ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে তারেকের পক্ষ থেকে। যার সঙ্গে অন্য নেতারা একমত হতে পারছেন না। তাদের মতে, দলের দুর্দিনে যারা দলকে আগলে রেখেছেন তাদের বাদ দেওয়াটা বেইমানি হবে। এসব বিষয়ে তারেকের চেয়ে খালেদা জিয়ার মতামতের প্রতি বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছেন সিনিয়র নেতারা। এ লক্ষ্যে তারা দলীয়প্রধান খালেদা জিয়ার সঙ্গে শীঘ্রই দেখা করবেন বলে জানা গেছে।

Related Articles

Stay Connected

17,141FansLike
3,912FollowersFollow
21,000SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles