28 C
Kolkata
Sunday, July 14, 2024
spot_img

বাংলাদেশে শেষ হলো রাসমেলা

 

মিজান রহমান, ঢাকাঃ আকাশে চাঁদের হাসি। হালকা কুয়াশায় ভেজা জোছনার আলো। সারারাত কেউ ঘুমাননি। পূর্ব আকাশে ভোরের পূর্ণিমা তিথির নতুন সূর্য ওঠার অপেক্ষা। উষালগ্নে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের হাজার হাজার নর-নারী। পূণ্যার্থী ও দর্শনার্থীদের মিলন মেলায় পরিণত হয় গোটা সৈকত। বঙ্গোপসাগরে মানতকারীরা মাথার কেশ ন্যাড়াসহ প্রায়শ্চিত্ত ও পিণ্ড দান করেন। পূণ্যের আশায় বেলপাতা, ফুল, ধান, দূর্বা, হরীতকী, ডাব, কলা, তেল, সিঁদুর সমুদ্রের জলে অর্পণ করেন। পরে পূণ্যার্থীরা উলুধ্বনি ও মন্ত্রপাঠ করে গঙ্গাস্নানের মধ্য দিয়ে শেষ করেন এ বছরের রাসমেলা। পরে আগত পূণ্যার্থী ও দর্শনার্থীরা শুক্রবার সকালে নিজ গন্তব্যে ফিরে যান।

এ বছর রাসলীলা উৎসবে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রায় একলাখ পূণ্যার্থী ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে বলে জানিয়েছেন রাসমেলা উদযাপন কমিটি। ২২শে নভেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার শ্রী রাম চন্দ্র দাস। রাস পূজা উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিপুল চন্দ্র হাওলাদারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চেীধূরী, বরিশাল রিজিওন ট্যুরিস্ট পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম, পটুয়াখালী জেলার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুর রহমান, কলাপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব তালুকদার ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানভির রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এরপর মূল মঞ্চে সারারাত বাংলাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পীরা গানে গানে মাতিয়ে তোলেন দর্শনার্থীদের। পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পীরাও সুযোগ পান মঞ্চে গান পরিবেশনের। মন্দিরের সামনে শ্রী কৃষ্ণের নাম যজ্ঞ ও উলুধ্বনীর মধ্য দিয়ে রাত শেষ হয়। রাসমেলা উদযাপন কমিটির সভাপতি কাজল বরণ দাস জানান, প্রায় দুশো বছর পূর্ণিমা তিথিতে এ রাসলীলা উৎসব ও মেলা চলে আসছে। দ্বাপর যুগে মানুষের দুঃখ-দুর্দশা, হিংসা, হানাহানি দেখে দুষ্টের দমন ও সৃষ্টের লালনের জন্য স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নাম ধারণ করে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন। সরেজমিনে দেখা গেছে, শুক্রবার সকালে পূর্ণিমা তিথি লাগার সঙ্গে সঙ্গে হাজার হাজার পূণ্যার্থীরা উলুধ্বনি দিতে দিতে এক যোগে সমুদ্রে গঙ্গাস্নানে ঝাঁপিয়ে পড়েন। সমুদ্রে স্নান শেরে শ্রী শ্রী রাধা কৃষ্ণের যূগল দর্শন শেষে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত পূণ্যার্থী ও দর্শনার্থীরা নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে শুরু করেন।

অপরদিকে কুয়াকাটা হোটেল মোটেল সূত্রে জানা গেছে, এ বছর রাসমেলা ও গঙ্গাস্নান উৎসবে আবাসিক হোটেলগুলোর কোনো রুম খালি ছিলো না। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে ব্যাপক লোকের সমাগম হয়েছে। অন্যান্যবারের চেয়ে এ বছর মেলায় ব্যবসায়ীদের বেচা কেনা খুবই ভালো হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। কলাপাড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানভির রহমান বলেন, সকল প্রস্তুতির পাশাপাশি রাস উৎসবে আগত সকল তীর্থ যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসন প্রস্তুত ছিলো। কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই এবারের রাসমেলা সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

Related Articles

Stay Connected

17,141FansLike
3,912FollowersFollow
21,000SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles