আমার জীবনকথা- ভাগ- ৪

আমার জীবনকথা- ভাগ- ৪

চুঁচুড়া-আমার জন্মস্থানের মাহাত্ম্য

রোটারিয়ান স্বপনকুমার মুখোপাধ্যায়

 

১৯৩৪ সালে ১ লা আগস্ট হুগলি জেলার প্রানকেন্দ্র চুঁচুড়া বড়বাজারের ঘড়ির মোড় থেকে বর্তমান লঞ্চঘাটে যাবার পথে রাস্তার মাঝখানে যে মায়ের মন্দির আছে ঠিক তাঁর পেছনে লাগোয়া ত্রিতল বাড়িতে আমার জন্ম হয়।মায়ের মন্দিরের দু’পাশ দিয়ে দুটি রাস্তা বেরিয়ে ওই বাড়ির পূর্বদিকের লাগোয়া রাস্তায় মিশেছে। অর্থাৎ আমার জন্মবাড়ির তিনদিকে রাস্তা ও পশ্চিমদিকে মায়ের মন্দির। ওই বাড়ির চারিদিকে বাড়ি ও মাঝখানে উঠোন।

হুগলি জেলায় আমার জন্মের জন্য আমি নিজেকে গৌরবাহ্নিত মনে করি তার প্রথম কারন, আমার দীক্ষাগুরু শ্রীশ্রীঠাকুর সীতারামদাস ওঙ্কারনাথ জন্মগ্রহন করেন হুগলি জেলার কেওটা গ্রামে। দ্বিতীয় কারন, আমার পরম গুরুদেব দাশরথী দেব জন্মগ্রহন করেন এই জেলার দিগসুই গ্রামে। তৃতীয় কারন, শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব এই জেলার কামারপুকুর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। চতুর্থ কারন, রাজা রামমোহনের মতো বিশ্ববন্দিত সমাজ সংস্কারক ও আধুনিক মননশীলতার মূর্তপ্রতীক এই জেলার রাধানগর গ্রামে জন্মলাভ করেন। পঞ্চম কারন, এই জেলার ও বাংলার আর এক প্রানপুরুষ ভূদেব মুখোপাধ্যায়ের জন্মস্থান। ষষ্ঠ কারন, ভারতবিখ্যাত শিক্ষাবিদ ও বিচারক বাংলার বাঘ স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের জন্মস্থান এই জেলার জিরাট গ্রামে। সপ্তম কারন, বাংলা সাহিত্যের সুবিখ্যাত কথা-সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মস্থান হুগলির দেবানন্দপুরে। অষ্টম ঐতিহাসিক কারন, ইংরেজ, ডাচ, ফ্রেঞ্চ, অস্ট্রেলিয়ান প্রভৃতি বিদেশিরা প্রথম তাঁদের উপনিবেশ স্থাপন করে হুগলি জেলার উত্তরপাড়া, শ্রীরামপুর, চন্দননগর, চুঁচুড়া, ব্যান্ডেল ও ত্রিবেণী অঞ্চলে। নবম কারন, হাজী মহম্মদ মহসীনের মতো দানবীর ও গরিবের বন্ধুর জন্মস্থান হুগলি। দশম কারন, আমার পিতামহ প্রথম বাঙালি সিভিল সার্জেন হিসাবে এই জেলার দায়িত্ব গ্রহন করেন এবং এই জেলায়ই অবসর গ্রহন করে যে বাড়িতে ডাক্তারি শুরু করে জেলার সর্বশ্রেষ্ঠ ডাক্তাররূপে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন সেই বাড়িতেই পরবর্তীকালে আমার জন্ম হয়।

১৯৩৬ সালে আমার সেজো বোন কল্পনার ও ১৯৩৯ সালে আমার ন’বোন ঝরনার জন্ম হয় এই বাড়িতে আর আমার ছোট বোন বন্দনার জন্ম হয় ১৯৪১ সালে বালির বাড়িতে। আমার বড়দিদি মিনতির জন্ম হয় ১৯৩০ সালে বড়িশার বাড়িতে এবং অবিবাহিত কালে ওই বাড়িতেই মানুষ হয়। আমার মেজদিদি প্রনতির জন্ম হয় যদিও বড়িশার বাড়িতে তবে লালন-পালন হয় আমাদের সঙ্গে।

আমার জীবনের প্রথম ছয় বছর ৫ মাস চুঁচুড়ার বাড়িতে আমি পালিত হয়েছি তারপর আমার পিতামহ চুঁচুড়ার বাড়ির পাঠ চুকিয়ে ১৯৪০ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষদিকে সকলকে নিয়ে বালির বাড়িতে পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করেন।

আজও আমি চুঁচুড়ার মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ কারন ১৯৭০ সাকের ২রা মার্চ চুঁচুড়ার কনকশালী নিবাসী সুবিখ্যাত আইনজীবী কৃষ্ণপ্রসাদ ভট্টাচার্য ও মঞ্জু ভট্টাচার্যর কনিষ্ঠা কন্যা শাশ্বতীর সঙ্গে আমার শুভবিবাহ অনুষ্ঠিত হয়।

                                                                                                                                                                                        ক্রমশ…. 

You May Share This
  • 6
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    6
    Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *