বাংলাদেশের নদীর সাথে দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা জড়িত

বাংলাদেশের নদীর সাথে দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা জড়িত

 

মিজান রহমান, ঢাকাঃ দেশের ভেতরে ও চারপাশে বয়ে চলা বিভিন্ন নদীর সাথে আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার। নদীকে দখল ও দূষণ থেকে রক্ষা করতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ১৮ই নভেম্বর রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ রিভার ফোরাম-২০১৮’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশে নদী রক্ষায় আন্দোলন করা সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণে এ অনুষ্ঠান হয়। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের নদী আজ সমস্যাসংকুল, তাই আমাদের জীবনও আজ সমস্যাসংকুল। নদীর সাথে আমাদের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা জড়িত। নদী দেখলে আজ কান্না পায়। বুড়িগঙ্গা দখল হয়ে গেছে। ধলেশ্বরী দখল হচ্ছে। তুরাগের ওপর তৈরি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল সেন্টার। এটা কীভাবে হয়? আপনারা স্থানীয় প্রশাসনকে চাপ দিন। সভাপতির বক্তব্যে পিকেএসএফের চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহমদ ফোরাম গঠনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

তিনি বলেন, নদী দখল হচ্ছে, জলাশয় দখল হচ্ছে ও ব্যাংক দখল হচ্ছে। আমাদের এসব দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। দূষণ সাধারণ মানুষ করে না। নদী রক্ষার্থে জনআন্দোলন জোরদার করা জরুরি। রিভারাইন পিপলের মহাসচিব শেখ রোকন স্থানীয় পর্যায়ে নদী আন্দোলনের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেন, নদী সুরক্ষার ক্ষেত্রে ধারণা ও সমাধান সব সময় ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া হয়। মাঠ পর্যায়ের নদীকর্মীদের কথা শোনা হয় না। কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ে যারা নদী রক্ষায় প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করছে, যারা সমস্ত চাপ-তাপ সহ্য করছে, তাদের আন্দোলন সম্পর্কে জানতে চাই। আমরা এই পার্থক্য দূর করতে চাই। আমাদের এই মিছিল বড় করতে চাই।

অক্সফামের কর্মসূচি পরিচালক এম বি আখতার বলেন, আমাদের নদীর জীববৈচিত্র্য বাঁচাতে হবে। সেক্ষেত্রে বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার দিকে জোর দিতে হবে। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন নারী অধিকার নেত্রী খুশি কবীর, ধরলা নদী সুরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক এস এম আব্রাহাম লিঙ্কন ও পিকেএসএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জসিমউদ্দিন। দিনব্যাপী এই আয়োজনে তিনটি কারিগরি অধিবেশনে আলোচনা হয়। সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল করিম। রিভারাইন পিপলের সভাপতি ড. মাসুদ পারভেজ রানার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক ডা. আবদুল মতিন, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, ‘লিসেনিং টু দ্য গ্রাসরুটস’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে নদী সুরক্ষায় সক্রিয় ৬৩টি নদী অঞ্চলের ৮০টির বেশি নাগরিক ও তরুণ সংগঠন অংশ নেয় এই ফোরামে। এতে নদী সুরক্ষায় তৃণমূল সংগঠনগুলো তাদের অভিজ্ঞতা, প্রত্যাশা ও সাফল্যের গল্প বলেন। বাংলাদেশ রিভার ফোরাম-২০১৮ আয়োজন করে নদীবিষয়ক নাগরিক সংগঠন রিভারাইন পিপল। সহ-আয়োজক হিসেবে ছিল জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন, পিকেএসএফ এবং সুইডিশ সরকারের অর্থায়নে দক্ষিণ এশীয় আন্তঃসীমান্ত নদীবিষয়ক প্রকল্প ট্রোসার সহযোগী সংস্থা অক্সফাম ইন বাংলাদেশ, সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্সেস স্টাডিজ (সিএনআরএস) ও গণউন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে)।

You May Share This
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *