38 C
Kolkata
Monday, April 15, 2024
spot_img

বাংলাদেশে জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালাস চেয়ে খালেদা জিয়ার আপিল

 

মিজান রহমান, ঢাকাঃ জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাত বছরের সাজা থেকে খালাস চেয়ে আপিল করেছেন বিএনপি চেয়ার পার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। ১৮ই নভেম্বর রবিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ২০ যুক্তিতে খালাস চেয়ে আপিল করেন ব্যারিস্টার নওসাদ জমির। আপিলে ৪১ পৃষ্ঠার মূল আবেদনের সঙ্গে বিচারিক আদালত থেকে আসা ৬৩২ পৃষ্ঠার নথিপত্র মিলিয়ে মোট ৬৭৩ পৃষ্ঠার নথিপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।

হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কেএম হাফিজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এই আপিল শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী একেএম আমিন উদ্দিন মানিক। এর আগে, গত ২৯শে অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। ওইদিন রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থিত ঢাকার ৫ নম্বর অস্থায়ী বিশেষ জজ ড. মো. আখতারুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সাত বছরের কারাদণ্ড ছাড়াও খালেদা জিয়াকে ১০ লাখ জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত।

মামলার অপর তিন আসামিকেও সাত বছরের কারাদণ্ড সহ প্রত্যেককে ১০ লাখ জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত। এছাড়া ট্রাস্টের নামে কেনা ৪২ কাঠা জমি বাজেয়াপ্ত করে তা রাষ্ট্রের অনুকূলে নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৬ মামলার মধ্যে এটি দ্বিতীয় মামলার রায়। এ মামলার অপর আসামিরা হলেন- খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তৎকালীন সহকারী একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। এদের মধ্যে হারিছ চৌধুরী পলাতক। খালেদা জিয়া সহ তিন জন কারাগারে রায়েছেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়া সহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ই আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০১২ সালের ১৬ই জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া সহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়। মামলায় বিভিন্ন সময়ে ৩২ জন সাক্ষ্য প্রদান করেন। দুদকের করা আরেক মামলা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সনকে গত ৮ই ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান। রায় ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়াকে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি এই কারাগারে রয়েছেন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৩১শে অক্টোবর খালেদা জিয়ার সাজা আরও পাঁচ বছর বাড়িয়ে ১০ বছর করেন হাইকোর্ট।

Related Articles

Stay Connected

17,141FansLike
3,912FollowersFollow
21,000SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles