বিরোধী জোটের বার্তা দিদি ও ভাইয়ের

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

রাজীব মুখার্জী, নবান্ন, হাওড়াঃ তিনি এলেন, দেখলেন এবং জয় করলেন। সম্প্রতি গোটা দেশ জুড়ে বি. জে. পি. বিরোধী মুখ হিসাবে উঠে আসছে মমতা ব্যানার্জীর নাম। সারদা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে সরব হয়েছেন বি. জে. পি. বিরোধিতার মুখ হিসাবে তা নোট বন্দি হোক বা সম্প্রতি এনে. আর. সি. ইস্যুতে। তাই গোটা দেশ বাঁচাতে বিজেপির বিরুদ্ধে একজোট হতে হবে এটা এই মুহূর্তে মমতা ব্যানার্জীর পরিকল্পনা। সেই পরিকল্পনাতে সমর্থন দেওয়ার রাস্তাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আজকে বিকেলে নবান্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকের পর এমনটাই দাবি করলেন চন্দ্রবাবু নাইডু।

অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর সুরেই মমতা বলেন, দেশকে বাঁচাতে বিজেপির বিরুদ্ধে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আজকে বিকেলে সরাসরি নবান্নে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেন চন্দ্রবাবু নাইডু। বৈঠক শেষে অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মমতাদির সঙ্গে দেখা করতে এখানে এসেছি। এই দেশের দীর্ঘদিনের নেতা হিসেবে আমার এই দায়িত্বটা আছে। আজ এই দেশ সাম্প্রদায়িক শক্তির হাত থেকে বাঁচাতে হবে, ভারতের গণতন্ত্র বাঁচাতে হবে। সমস্ত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে বাঁচাতে হবে। সিবিআই, ইডি, আয়কর বিভাগ, আরবিআই বা ক্যাগ প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই আজ বিপদের মুখে। নোট বাতিল একটা বড় ভুল ছিল সেটা বি. জে. পি. র নেতারাও অন্দরমহলে স্বীকার করেন। এই মুহূর্তে মুদ্রাস্ফীতি ও পেট্রোল ডিজেলের দাম লাগাম ছাড়া ভাবেই বেড়ে আছে। সারা দেশজুড়ে বাড়ছে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা। দেশের সংখ্যালঘুরা আজ ভীষণ আশঙ্কিত। যারা বি. জে. পি.-র এই মানুষ মারার নীতির বিরোধিতা করছেন সেই রাজনীতিকদের সি.বি.আই. দিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে। আজকের সময়ের দাবি আমাদের নিজের দেশ বাঁচাতে হবে। প্রথম থেকেই বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সামনে শীতকালীন অধিবেশন তার আগেই আমাদের এক হতে হবে। এই শক্ত কাজটি একমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই তা সম্ভব”।


প্রসঙ্গত আগামী ১৯শে জানুয়ারি তৃণমূলের ব্রিগেড সমাবেশে হাজির থাকার আশ্বাসও দেন চন্দ্রবাবু নাইডু। তিনি বলেন, “আমাকে দিদি আমন্ত্রণ করেছেন। সামনের জানুয়ারিতে ব্রিগেড সমাবেশে আসছি”। এর পাশাপাশি চন্দ্রবাবু স্পষ্ট করেন, সংসদের আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনের আগে ডিসেম্বরেই বৈঠকে বসতে চলেছেন বিরোধী নেতা নেত্রীরা। ওই বৈঠকেই ঠিক হবে আগামীর রূপরেখা”।

চন্দ্রবাবুর সুরেই কথা বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, “দেশের স্বার্থে জোট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দেশের স্বার্থে আমরা আলোচনা করছি। অরবিন্দ কেজরিয়াল যখন সমস্যায় পড়েছিলেন, তখন সবাই একসঙ্গে গিয়েছিলাম। এখনও একসঙ্গে কাজ করছি আমরা। বি.জে.পি. সরকারের বিরুদ্ধে একজোট আমরা। নিজের দেশ বাঁচাতেই হবে। আগামী ১৯শে জানুয়ারিতে সবাই আসছেন এই রাজ্যে। সামনের ডিসেম্বর মাসে বি. জে. পি. বিরোধী জোটের বৈঠক হবে। লোকসভা ভোটের প্রচারের ব্যস্ততা মেটার পর বৈঠক করে ভবিষ্যত কর্মপন্থা নিয়ে সর্বদলীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে”।
এনডিএ ছাড়ার পর বিজেপি বিরোধী দলগুলিকে এক ছাতার তলায় আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু।

ইতিমধ্যেই দিল্লিতে গিয়ে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করে এসেছেন তিনি। আজকের বৈঠকের পর চন্দ্রবাবু নাইডুর দাবি, গণতন্ত্র বাঁচাতেই বিরোধীদের জোট করতে হবে। চন্দ্রবাবুর সুরে রাহুল গান্ধীও জানিয়ে দেন, কংগ্রেসও পুরানো অতীত ভুলে এগোতে চান। দাক্ষিণাত্যে কর্ণাটকে গিয়ে এইচডি দেবগৌড়া ও তাঁর ছেলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামীর সঙ্গেও দেখা করবেন চন্দ্রবাবু নাইডু।

সম্পর্কিত সংবাদ

Leave a Comment