31 C
Kolkata
Thursday, May 30, 2024
spot_img

নিউটাউনের পাথরঘাটা এলাকায় দুষ্কৃতি হামলা, মৃত ১

 

অর্ণব মৈত্র, নিউটাউনঃ ১৮ই নভেম্বর নিউটাউন পাথরঘাটা মন্ডল পাড়ার (মাল পাড়া)বাসিন্দা চঞ্চল মন্ডলকে ঘরে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালানোর অভিযোগ ৪ দুষ্কৃতিদের বিরুদ্ধে। এরপর তাঁকে নিউটাউনের বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তিনটি গুলি লাগে তার। জানা যায়, ঘটনার সময় এক দুস্কৃতিকে ধরে ফেলে তার ভাই দেবব্রত মন্ডল। সেই সময় তাকে বন্দুকের বাট দিয়ে মাথায় মেরে বাইকে করে চম্পট দেয়। যাওয়ার সময়ও গুলি চালায় বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্তে নিউটাউন থানার পুলিশ।

পুলিশি সুত্রে জানা যায়, চঞ্চল মন্ডল পেশায় একজন জমি মাপ জোপের (আমিন) কাজ করতো তার সাথে জমি কেন বেচারও কাজ করতেন। এই কাজের সাথে তার ভাই দেবব্রত মন্ডলও এক সাথে কাজ করতো। সঙ্গে তার একজন পার্টনারও ছিল। তার ভাই ও সেই পার্টনার বৃন্দাবন বিশ্বাসকেও জিজ্ঞাসা বাদ করে পুলিশ।

ভাই দেবব্রত মন্ডল এর দাবি, গতকাল ১৭ই নভেম্বর মুর্শিদাবাদ-এর বাসিন্দার পরিচয় দিয়ে রফিকুল শেখ নামে একজন গতকাল সকাল সাড়ে ৬ টা নাগাদ আসে মুর্শিদাবাদ এর একটা জমির কাগজ দিয়ে যায়। জমির প্লান করার জন্য। আর তার জন্য ৫০০ টাকা দেওয়ার কথা হয়। এরপর ১৮ই নভেম্বর দুপুরে ভাই ফোন করে প্লান নিয়ে যাওয়ার জন্য। সেই মতো ৭ টা নাগাদ দুষ্কৃতীরা বাড়িতে চলে আসে। প্রথমে মেয়ে যখন বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিল সেই সময় মেয়েকে জিজ্ঞাসা করে চঞ্চল বাড়িতে আছে কিনা। তখন মেয়ে বলে সে বাড়িতে নেই । এর পর মেয়ে ঘরে ঢুকে যায়। তখন দেবব্রতর সাথে তারা কথা বলে প্লান দিয়ে দেয় দুষ্কৃতীদের তার বিনিময়ে ৫০০ টাকা দেয় তার ভাইয়ের হাতে। তখন দুষ্কৃতীরা বলে তোমার দাদাকে ডাক কিছু কথা আছে। চঞ্চল সেই সময় পাথরঘাটা বাজারে ছিল। ভাই ফোন করে তাকে বাড়িতে ডাকে বাইক চালিয়ে বাড়িতে এসে বেশ কিছুক্ষন ঘরের মধ্যে তাদের সাথে কথাও বলে। এরপর বেরিয়ে যাওয়ার সময় দরজার কাছে আসতেই তাকে লক্ষ করে গুলি চালায় বলে অভিযোগ। তিনটি গুলি লাগে তার। এমনকি গুলি করে পালানোর সময় মৃতের ভাই দেবব্রত মন্ডল একজন দুষ্কৃতিকে ধরে ফেলে কিন্তু তারা তাকে বন্দুকের বাট দিয়ে কপালে মেরে গুলি চালাতে থাকে বলে সেই সময় ভয়ে ছেড়ে দেয়। এরপর তারা বাইকে করে চম্পট দেয়। তড়িঘড়ি চঞ্চলকে নিউটাউনের বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত বলে ঘোষণা করে ডাক্তার। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় নিউটাউন থানার পুলিশ। পরে ঘটনাস্থলে যায় বিধাননগর গোয়েন্দা শাখার পুলিশও।

এছাড়া আরও জানা যায়, এই ঘটনার পর পরিবারের প্রত্যেক এর সাথে কথা বলে পুলিশ। থানায় নিয়ে গিয়ে ভাই ও পার্টনারকে জিজ্ঞাসা বাদও করা হয়। মূলত মেন রাস্তা দিয়ে গলির মধ্যে কিছুটা যাওয়ার পর তার বাড়ি। রাস্তার দুপাশে অনেক বাড়ি আছে কিন্তু গুলি চলার সময় কেউ কোনো আওয়াজ পায়নি। কারণ তাদের দাবি সেই সময় বাজি ফাটছিলো। তবে পরে চিৎকার শুনে সবাই বাইরে বেরোয় এবং বাইক নিয়ে দুষ্কৃতিদের পালাতে দেখে বলে জানান। তবে কি কারণে এই খুন সেই বিষয়ে এখনও কিছুই জানা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশের অনুমান যেহেতু জমি জমা নিয়ে কাজ করতো সেই কারণেই কোনো টাকা পয়সা সংক্রান্ত বিবাদ না কি তার পিছনে অন্য কোনো রহস্য আছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Related Articles

Stay Connected

17,141FansLike
3,912FollowersFollow
21,000SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles