শারদ সন্মান ও দীপ সন্মান ২০১৮ জনসংযোগের এক নতুন মাত্রা যোগ করলো হাওড়ার পুলিশ কমিশনারেট

Spread the love
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

 

রাজীব মুখার্জী, শরৎ সদন, হাওড়াঃ কারেজ, কেয়ার, কমিটমেন্ট। হাওড়া পুলিশের প্রতীকের তিনটি শব্দ। যার নিদর্শন অতীতেও আমরা পেয়েছি। আজ শরৎ সদনের অনুষ্ঠানে তাঁর প্রমান দিলো হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট। এই প্রথম পুলিশের চেনা ছন্দের বাইরে গিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে জনসংযোগের যে অতিহ্য বহন করে আসছে হাওড়া পুলিশ তারই নিদর্শন সাহসের সাথে করে দেখালো হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট। বাঙালির প্রাণের উৎসব দুর্গা পুজোকে আরেক ধাপে এগিয়ে নিয়ে গিয়ে খুব যত্নের সাথে তারই সফল প্রয়াস দেখিয়েছিল “শারদ সন্মান ও দীপ সন্মান ২০১৮” পরিকল্পনার মধ্যে দিয়েই। সেই পরিকল্পনার শেষ পর্যায়ের অনুষ্ঠান আজ অনুষ্ঠিত হলো হাওড়া ময়দান স্থিত শরৎ সদনে।

এদিন একেবারে ঘড়ির কাঁটা ধরে ৬ টা ৬ মিনিটে শুরু হয়ে গেছিলো অনুষ্ঠান। মঞ্চে তখন ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ দফতরের প্রতিমন্ত্রী লক্ষী রতন শুক্লা গান গাইছেন, সাথে হাওড়া পুলিশ পরিবারের কিছু বাছাই করা সদস্য নৃত্য পরিবেশন করছেন। গান ও নৃত্যের সুন্দর যুগলবন্দীতে মঞ্চ তখন মোহময়ী রূপ নিয়েছে। নির্বাক উপস্থিত দর্শকবৃন্দ। সুরের মূর্ছনা ভাঙলো গানের শেষে। মঞ্চে ডেকে নেওয়া হলো উপস্থিত সমবায় মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, উপজাতি কল্যাণ মন্ত্রকের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী রাজীব ব্যানার্জী, হাওড়ার জেলা শাসক চৈতালি চক্রবর্তী , মেয়র রথীন চক্রবর্তী, হাওড়ার মাননীয় এম. পি. প্রসূন ব্যানার্জী, ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ দফতরের প্রতিমন্ত্রী লক্ষী রতন শুক্লা। বালির বিধায়ক মাননীয়া বৈশালী ডালমিয়া।
অনুষ্ঠান তাঁর নিজস্ব ছন্দে এগিয়ে চলছিল।

উদ্বোধনী বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন এই পুর আয়োজন যার পরিকল্পনার সৃজনে সৃজিত সেই হাওড়া কমিশনারেটের নগরপাল মাননীয় তন্ময় রায়চৌধুরী ” এই কৃতিত্ব সেই মানুষগুলোর যারা দুর্গা পুজোয় ১২ থেকে ১৪ ঘন্টা নিজেদের কর্তব্য করে গেছেন পুলিশের পোশাক পড়ে, অতন্দ্র প্রহরীর মতো তারা নিজেদের পরিবার ছেড়ে তাদের থেকে দুরে থেকে হাওড়ার মানুষদের নির্বিঘ্নে, নিশ্চিন্তে, নির্ভয়ে ঠাকুর দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন, সেই মানুষগুলো কৃতিত্ব এটা। এই বছরে কোনো বড়ো গন্ডগোল তো দুরে থাক, কোনো মহিলার প্রতি কটূক্তির মতো ঘটনাও ঘটেনি এই মানুষ গুলোর নিরলস প্রচেষ্টায়। এই সাফল্য এরাই তৈরি করেছেন নিজেদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় “।


বক্তব্য রাখেন হাওড়ার মাননীয় সাংসদ প্রসূন ব্যানার্জী, তিনি বলেন, ” হাওড়ার মানুষের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ, তারা আমাকে সাংসদ করেছেন। এই রকম একজনকে নগরপাল হিসাবে পাওয়া সত্যি গর্বের, অভিনন্দন পুলিশের প্রতি সদস্যকে, যেভাবে তারা কাজ করেছেন সেটি সত্যিই প্রশংসনীয়, বাঙালির তেরো মাসের চোদ্দ পার্বন নয়, বাঙালির প্রতি চার বছরে চোদ্দটি পার্বন। আর সেটি হলো ফুটবল বিশ্বকাপ। সংগঠকদের কেও শুভেচ্ছা জানাই”।

লক্ষীরতন শুক্লা বলেন, “পুলিশ প্রশাসন কে ধন্যবাদ, হাওড়ার মানুষদের সেই মহালয়া থেকে এই রকম সেবা দেওয়ার জন্য। সমস্ত উৎসব খুবই সুন্দর ভাবে, সুস্থ ভাবে হয়েছে আর যাদের জন্য সম্ভব হয়েছে এটা তাদের কে অসংখ্য ধন্যবাদ। দূর্গা পূজার থেকে জগদ্ধাত্রী পুজো অব্দি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আমাদের অটুট আমরা দেখিয়ে দিয়েছি। এটা সম্ভব হয়েছে হাওড়ার পুলিশের অসাধ্য সাধনের জন্যই, তাদেরকে ধন্যবাদ”।

রাজীব ব্যানার্জী মঞ্চ থেকে বলেন, ” এই পরিবেশে এরম মনোরম অনুষ্ঠান যে হতে পারে তা এখানে না এলে জানতেই পারতাম না। আমরা দেখিয়ে দিয়েছি এই রাজ্যে যে উৎসব পালন করে দেখাতে পারে বাংলা, কিভাবে উৎসব পালন করতে হয় সেটাও জানে বাংলা। হাওড়া জেলায় মানুষকে স্যালুট যেভাবে হাওড়ার মানুষ সবাইকে সাথে নিয়ে জেলাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। একটিও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এই পুজোর মরশুমে। আমরা ছুটি কাটিয়েছি কিন্তু এনারা অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করে গেছেন, ক্লাব সংগঠনের মানুষেরাও অসাধারণ কাজ করেছেন পুলিশের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। সাধারণ মানুষ সতর্ক ছিলেন এবং তাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন পুলিশ প্রশাসনের সাথে। যে সব উদ্যোগতারা অংশগ্রহণ করেছিলেন তারা সকলেই পুরস্কারের যোগ্য কিন্তু আমরা সবাইকে পুরস্কৃত করতে পারিনি তাঁর মানে এটা নয় যে তারা এটা পেতে পারেন না। প্রতিযোগিতা খুব কঠিন ছিল। বিচারকরাও খুব কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন বাছাই করার ক্ষেত্রে। আগামী দিনেও এভাবেই সবাই সহযোগিতা করবেন”।

অরূপ রায় তাঁর ভাষণে বলেন, ” আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি সিটি পুলিশের সকল সদস্যকে এই অনুষ্ঠানের জন্য। মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্ব এই রাজ্যকে যে নতুন দিশা দেখিয়েছেন তাঁর দেখানো পথে আমরা বাংলার সংস্কৃতিকে নতুন ভাবে আমরা তুলে ধরছি সেই ভাবেই। আবার এক বছরের অপেক্ষা। গর্বের বিষয় যে এইটা আমরা নিশ্চিন্তে এবং নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পেরেছি। কমিশনারেট হওয়ার পর থেকেই অভূতপূর্ব ভাবেই উন্নতি করেছে হাওড়া জেলা। এখন আমাদের বাড়ির মেয়েরা নির্বিঘ্নে রাস্তায় বেরোন, রাতে কাজ থেকে ফেরেন সম্মানের সাথে, এইটা আমাদের কাছে গর্বের বিষয়। পুলিশের প্রতিটি সদস্যের ভূমিকা প্রশংসনীয় তারা নিজেদের আনন্দ ত্যাগ করে হাওড়ার মানুষকে সাহায্য করেছেন। তাদের মঙ্গল হোক তাদের পরিবার সুখে থাকুক। ক্লাবের সংগঠকদেরকেও অভিনন্দন। মা সকলের মঙ্গল করুন”।

এরপর ধীরে ধীরে অনুষ্ঠানের অভিমুখ হয় ” শারদ সন্মান ও দীপ সন্মান ২০১৮ ” এই প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত পুজো সংগঠকদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার কাজে। এই বছরে অনেক বিভাগ বেছে নেওয়া হয়েছিল এই প্রতিযোগিতায় তাঁর মধ্যে মুখ্য ছিল যে পুরস্কার গুলো, সেই পুরস্কার গুলো পুজো সংগঠকদের হাতে তুলে দেন মঞ্চে উপবিষ্ট অতিথিরা।

এই বছরে হাওড়া জেলায় “সেরা আলো” পুরস্কারে সম্মানিত হয় স্বামীজি স্পোর্টিং ক্লাব। তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মন্ত্রী অরূপ রায়। এরপরে পালা ছিল “সেরা থিম” বিভাগে সেরা নির্বাচিত ইছাপুর শিবাজী সংঘের সংগঠকদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া, সেই কাজটি করেন মন্ত্রী রাজীব ব্যানার্জী। “সেরা মণ্ডপ” জিতে নেন বালি দেশবন্ধু ক্লাবের সংগঠকরা, তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বালির বিধায়ক বৈশালী ডালমিয়া। “সেরা প্রতিমা” বিভাগে পুরস্কার জিতে নেন রামকৃষ্ণ স্বামীজি স্মৃতি সংঘ, তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মন্ত্রী রাজীব ব্যানার্জী। এই প্রতিযোগিতায় একটি বিশেষ বিভাগ রাখা হয়েছিল ” সেভ ড্রাইভ সেভ লাইফ ” এই বিভাগে সেরা “সেভ ড্রাইভ সেফ লাইফ” থিম গড়ে পুরস্কার নেয় বাণী মন্দির ক্লাব দাশ নগর, এই পুরস্কার কমিটির লোকেদের হাতে তুলে দেন হাওড়ার নগরপাল নিজেই। “সেভ ড্রাইভ সেফ লাইফ” সেরা ডিসপ্লে পুরস্কার জিতে নেয় স্বরস্বতী ক্লাবের সংগঠকেরা, তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সংসদ ও মেয়র যৌথভাবে। এর সাথেই সেরা সচেতনতা “সেভ ড্রাইভ সেফ লাইফ” সচেতনতা প্রচারের জন্য পঞ্চানন তলা কমিটি পি. এস. বেলুড়। এই পুরস্কার নেন বেলুড় থানার আই. সি. নিজেই। “সেরা সামাজিক দায়িত্ব বোধ” বিভাগে পুরস্কার জিতে নেয় এ. জে. সি রোড বি. গার্ডেন। তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপস্থিত সকল অতিথিরা একত্রে।

এদিনের এই অনুষ্ঠান এক নতুন মাত্রা যোগ করলো হাওড়াতে, শুরু হলো এক অনন্য সংস্কৃতি যা পুলিশের প্রতিটি সদস্যের সাথে সাধারণ মানুষের যোগসূত্রের মাধ্যম হিসাবে। হাওড়ার নগরপালের নেতৃত্বে এই ভাবনা আগামীদিনে হাওড়ার পুলিশকে আরো সাহসিকতা, আরো যত্নের সাথে, আরো দায়বদ্ধতার সাথে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড় করাবে নতুন এক ঐতিহ্য নিয়ে ,নতুন এক সংস্কৃতি নিয়ে, নতুন কর্ম দক্ষতা নিয়ে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

সম্পর্কিত সংবাদ

Leave a Comment