ক্ষতি পূরণের চেক বাউন্স, অবশেষে এলো ক্ষতি পূরণের টাকা

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

রাজীব মুখার্জী, হাওড়াঃ গত মাসের ২৩ তারিখে সাঁতরাগাছি স্টেশনের ফুট ওভারব্রিজে পদপিষ্ট হওয়া পরিবার পেলো রেলের তরফে ক্ষতিপূরণের টাকা। চলতি সপ্তাহের সোমবার ওই পরিবারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এক লক্ষ পঁচানব্বই হাজার টাকা জমা পড়েছে রেলের দেওয়া চেক ভাঙিয়ে। এই টাকা পেতে সামান্য হলেও অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয় সুকিয়া স্ট্রিটের সাউ পরিবারকে।

পরিবারের কর্তা হনুমন্তের অভিযোগ, “গত ২৯শে নভেম্বর থেকে দু’টি চেকই বেশ কয়েকবার ব্যাঙ্কে জমা করার পরে সেগুলি বাউন্স করেছিল।” প্রসঙ্গত সেদিনের দুর্ঘটনায় ১২ জন আহতের মধ্যে ছিলেন সাউ পরিবারের গৃহকর্তা হনুমন্ত, তাঁর স্ত্রী কিরণ, বছর দশেকের ছেলে অক্ষত এবং সাত বছরের মেয়ে অর্ণা। দক্ষিণ পূর্ব রেলের তরফে ক্ষতিপূরণ বাবদ হনুমন্ত এবং অক্ষতকে এক লক্ষ ৯৫ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়েছিল। ক্ষতিপূরণের অঙ্ক বাবদ কিরণ পান পঞ্চাশ হাজার টাকার আর একটি চেক। এর আগে কয়েক বার রেলের দেওয়া ক্ষতিপূরণের চেক “বাউন্স”করে। তবে চেক “বাউন্স” হওয়ার দায় রেল সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের উপরেই চাপিয়েছে। ব্যাঙ্ক অবশ্য জানিয়েছে, চেক ভাঙানোর জন্য যা করা প্রয়োজন, সবই করা হয়েছিল।

দক্ষিণ-পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সঞ্জয় ঘোষ বলেন, “স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া খড়্গপুর শাখার রেলের অ্যাকাউন্ট থেকে চেকটা দিয়েছিলাম আমরা। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার চেকটি ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাঙ্কের শ্রীমানি মার্কেট শাখায় জমা করার পরে ওই ব্যাঙ্কের উচিত ছিল, সেটা খড়্গপুরে স্টেট ব্যাঙ্কের শাখায় পাঠিয়ে দেওয়া। তা না করে ওই ব্যাঙ্ক চেকটি স্থানীয় ক্লিয়ারিং হাউসে পাঠিয়ে দিয়েছিল”। সঞ্জয়বাবুর আরও যুক্তি, “তাছাড়া ওই চেকের উপরে “অ্যাট পার” কথাটি লেখা ছিল না। ফলে ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাঙ্কের বোঝা উচিত ছিল যে, চেকটি খড়্গপুরেই পাঠাতে হবে। অকারণ ক্ষতিগ্রস্তেরা হয়রানির শিকার হলেন।”

ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাঙ্কের শ্রীমানি মার্কেট শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ক আধিকারিক অবশ্য বলেন, “নিয়ম মেনেই স্থানীয় ক্লিয়ারিং হাউসে চেকটি পাঠানো হয়েছিল। খড়্গপুরের শাখায় পাঠানোর কথা চেকের উপরে লেখা থাকলে সুবিধা হত।” প্রসঙ্গত গত ২৩শে অক্টোবর সাঁতরাগাছি স্টেশনে দুর্ঘটনার মধ্যে পড়ে সুকিয়া স্ট্রিটের সাউ পরিবার। একই সময়ে অনেকগুলি ট্রেন স্টেশনে ঢুকে পড়ায় স্টেশনের ফুট ওভারব্রিজে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় দুই জনের। সাউ পরিবারের এই খবর প্রকাশ্যে আসায় নড়েচড়ে বসে রেল কর্তৃপক্ষ। সরকারি চেক “বাউন্স” করায় শোরগোল পড়ে যায় নানা মহলে। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের তরফে যোগাযোগ করা হয় ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাঙ্কের শ্রীমানি মার্কেট শাখায়। ওই শাখাতেই এক লক্ষ পঁচানব্বই হাজার টাকার ক্ষতিপূরণের চেকটি জমা করেছিলেন হনুমন্ত বাবু।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাঙ্ক বিশেষজ্ঞেরা অবশ্য জানাচ্ছেন, একটি রাজ্যের ব্যাঙ্কের শাখা থেকে দেওয়া চেক ভিন্‌ রাজ্যের কোনও ব্যাঙ্কের শাখায় ভাঙানো হলে দ্বিতীয় ব্যাঙ্ক একটি “ফি” নিয়ে থাকে। ওই “ফি” আগে কেটে নেওয়া হলে তবেই চেকে “অ্যাট-পার” কথাটি লেখা থাকে কিন্তু ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার কেন্দ্রীকরণের পরে এই পদ্ধতি প্রায় উঠেই গিয়েছে। সব চেকই এখন “অ্যাট-পার”।

স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার প্রাক্তন চেয়ারপার্সন অরুন্ধতী ভট্টাচার্যও বলেন, “ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাঙ্ক ভুল কিছু করেছে বলে তো মনে হচ্ছে না। চেকের উপরে আলাদা করে লেখা না থাকলে স্থানীয় ক্লিয়ারিং হাউসেই তো চেক পাঠাবে তারা।” দক্ষিণ পূর্ব রেলের দেওয়া এই চেকে “অ্যাট-পার” কথাটা কেনো প্রিন্ট করা ছিল না এই নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। এই হয়রানির দায় কার, তা নিয়ে বিতর্ক চললেও ব্যাংকে ক্ষতিপূরণের টাকা পাওয়ায় আপাতত খুশি হনুমন্ত সাউয়ের পরিবার।

তিনি জানালেন, “ছেলে অক্ষতের এখনও ফিজিওথেরাপি চলছে গার্ডেনরিচ রেল হাসপাতালে। এখনও চিকিৎসা অনেকটাই বাকি। আমার স্ত্রীরও ওষুধ চলছে। টাকাটার খুবই প্রয়োজন ছিল”। সেই সঙ্গে তাঁর অনুরোধ, “রেল বা ব্যাঙ্ক, দোষ যে তরফেই হয়ে থাক না কেনো দুজনেরই সতর্ক হওয়া উচিৎ ছিল, না হলে আমাদের মতো মানুষের হয়রানি হতে হয়”।

সম্পর্কিত সংবাদ

Leave a Comment