বাংলাদেশে কার্তিকেই শীতের আমেজ

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

মিজান রহমান, ঢাকাঃ সারাদেশে এখনই শীতের আমেজ। কুয়াশায় ঢাকা পড়ছে রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে সারা দেশ। সকালে শিশিরে ভেজা ঘাসের ডগা, আর হিম হিম বাতাস প্রকৃতিতে জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। সপ্তাহ জুড়ে থাকা গরমের দাবদাহ বিদায় নিয়ে তাপমাত্রাও বেশ কমছে। ৫ই নভেম্বর মঙ্গলবার থেকেই দেশজুড়ে হিমেল হাওয়া বইছে। আর বুধবার ভোরে ছিল ঘন কুয়াশা। তবে রাজধানীতে মাঝারি ধরনের কুয়াশা থাকলেও পূর্বাঞ্চলে ঘনত্ব বেশি ছিল।

সারাদেশে শীতের আগমন সম্পর্কে জানা যায়, আবহাওয়ার রূপ পরিবর্তনে শেষ রাতে শীতের কাথা-কম্বলে মানুষ ঢেকে নিচ্ছে শরীর। বাইরে কাজে বের হতেও পরছে হালকা শীতের পোশাক। রাস্তাঘাট, বিস্তৃত ধানক্ষেত, মাঠ-প্রান্তরেও সকালের রূপ বদলাতে শুরু করেছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিমের হিমেল হাওয়া দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। ফলে তাপমাত্রা কমে গিয়ে শীতের অনুভূতি বাড়ছে। গত দুই দিনে সারাদেশে সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধানও অনেক কমেছে। গত দুইদিন ধরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে অবস্থান করছে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও ১২ থেকে ১৮ ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। সামনের দিনে এই তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে আরও কমে আসবে। তখন শীত আরও বেড়ে যাবে। তবে হাড়কাঁপানো শীত এখনি আসছে না। মধ্য ডিসেম্বর থেকে শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সুস্পষ্ট লঘুচাপ দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন শ্রীলঙ্কা এবং কোমোরিন সাগরে অবস্থান করছে। লঘুচাপের বর্ধিতাংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এতে সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশ সহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। তবে, খুলনা বিভাগের দুই এক জায়গায় হালকা বা গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের নদী অববাহিকা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, নোয়াখালী, কুমিল্লা এবং বরিশাল অঞ্চল ছাড়াও ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দুই এক জায়গায় পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি/বজ্রসহ অস্থায়ীভাবে ঝড়ো/দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশ সহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।

আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা আবুল কালাম মল্লিক বলেন, “উচ্চ চাপ বলয় বিস্তৃত রয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত। এছাড়া উত্তর-পশ্চিম দিক থেকেও ঠাণ্ডা বাতাস দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। এসব কারণে তাপমাত্রা কমছে। আগামী কয়েক দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। তবে আপাতত শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ডিসেম্বরের আগে তীব্রতা তেমন বাড়বে না।” শীতকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে ভিড় জমেছে পোশাকের দোকানগুলোতে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে সারাদেশের মার্কেট-ফুটপাত সব জায়গায় একই অবস্থা।

শীত প্রতিরোধে বাজারে এসেছে নিত্যনতুন পোশাক। শীতের আগমনী বার্তায় খুলনায় লেপ-তোষক তৈরির ধুম পড়েছে। কারিগররা জানান, তাদের কাছে ক্রেতারা পছন্দমতো লেপ-তোষক তৈরি করতে দিচ্ছেন বেশি। মহানগরীর বড় বাজার, শের-এ-বাংলা রোডের লেপ-তোষকের দোকানে ভিড় বাড়ছে। এম নওয়ার আলী এন্ড সন্সের বিক্রেতা রনজিৎ বলেন, এবার আগেভাগেই মানুষ দোকানে লেপ তোষক এবং জাজিম বানাতে আসছেন। এ চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। আর ক্রেতারা বলছেন, শীতের কারণে ইতিমধ্যে লেপ তোষকের চাহিদা বেড়েছে। দামও অন্যান্য বারের চেয়ে কিছুটা বেশি।

সম্পর্কিত সংবাদ

Leave a Comment