লোকসভা নির্বাচনের আগে বড় প্রকল্পের সূচনা নরেন্দ্র মোদীর

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

ওয়েব ডেস্ক, বেঙ্গল টুডেঃ এগিয়ে আসছে লোকসভা নির্বাচন। আর তাতে পূর্বের দিকেই নজর বিজেপির। এই নির্বাচনে জয়ের জন্য একদিকে উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে শক্তি বজায় রাখার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের মতো নতুন রাজ্যে ক্ষমতা বৃদ্ধিই বিজেপির লক্ষ্য। আর এই লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক বড় পদক্ষেপ করতে চলেছেন।

বারাণসীতে গঙ্গা নদীর উপরে নব-নির্মিত মাল্টি-মোডাল টার্মিনাল জাতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করবেন প্রধানমন্ত্রী। গঙ্গা নদীতে যে তিনটি টার্মিনাল তৈরি হচ্ছে, এটি তার প্রথম। কেন্দ্রীয় সরকারের জলমার্গ বিকাশ প্রকল্পের অঙ্গ হিসাবে এই টার্মিনালগুলি তৈরি হচ্ছে। এর ফলে বারাণসী থেকে হলদিয়া পর্যন্ত ১ নম্বর জাতীয় জলপথে পণ্যবাহী বৃহৎ আয়তনের জলযান চলাচলে সুবিধা হবে।

একই সঙ্গে কেন্দ্রের লক্ষ্য, ১ নম্বর জাতীয় জলপথের বারাণসী থেকে হলদিয়া পর্যন্ত অংশে জলের গভীরতা দুই-তিন মিটার পর্যন্ত বজায় রাখা। এর ফলে গঙ্গার এই অংশে ১,৫০০ থেকে ২,০০০ টন ওজন বিশিষ্ট জলযান চলাচল সম্ভব হবে। এর ফলে, পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে স্বল্প খরচে অভ্যন্তরীণ জলপথের ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে। একই ভাবে, পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে এ ধরনের মাধ্যম অনেক বেশি পরিবেশ-বান্ধব হয়ে উঠবে।

প্রকল্প রূপায়ণের আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছে ৫,৩৬৯ কোটি ১৮ লক্ষ টাকা। এই প্রকল্পের আওতায় বারাণসী, সাহেবগঞ্জ এবং হলদিয়ায় তিনটি মাল্টি-মোডাল টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে। এই প্রকল্পটিতে পাঁচশো জন মানুষের প্রত্যক্ষ এবং ২ হাজারের বেশি মানুষের পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে।

কলকাতা থেকে গত ৩০শে অক্টোবর রওনা দেওয়া পেপসিকো সংস্থার পণ্যবাহী জলযানটিকেও সোমবার বারাণসীতে স্বাগত জানাবেন। এটি ভারতের প্রথম পণ্যবাহী কন্টেনার জলযান। ফেরার সময়ে এই জলযানটি রাষ্ট্রায়ত্ত ইফকো সংস্থার উৎপাদিত সার নিয়ে কলকাতায় ফিরবে। একই দিনে অন্য এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী, ২ টি জাতীয় মহাসড়ক— বাবতপুর-বারাণসী বিমানবন্দর সড়ক এবং বারাণসী রিং রোড প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের বক্তব্য, বাঙালির বার্ধক্যের বারাণসী এখন মোদীর লোকসভা এলাকা। আর সেখানকার সঙ্গে হলদিয়ার মাধ্যমে বাংলার যোগাযোগ গড়ে এক নতুন রাজনৈতিক বার্তাও দিতে চান প্রধানমন্ত্রী। এখানেই শেষ নয়, ইতিমধ্যেই নরেন্দ্র মোদী টুইটের মাধ্যমে জানিয়েছেন, বাঙালির এক কালের ‘সেকেন্ড হোম’ কাশী শহরকেও আধুনিক সাজে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন। কাশীর বাঙালিটোলা সেজে উঠবে নতুন উন্নয়নে। উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতা ধরে রাখা এবং বাংলার রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সোমবারের পদক্ষেপ তাই নিঃসন্দেহে বার্তাবাহী।

সম্পর্কিত সংবাদ

Leave a Comment