28 C
Kolkata
Thursday, July 18, 2024
spot_img

একের পর এক অগ্নিকান্ড, দায়িত্ব জ্ঞানহীন ব্যবসায়ী, ঘুমন্ত পুরসভা, নির্লিপ্ত প্রশাসন

 

রাজীব মুখার্জী, কলকাতাঃ একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটার পরেও কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই কারও। যখন ঘটনা ঘটে তখন আলোচনা, সুরক্ষা বিধি, দায় চাপানোর চাপান উত্তর চলে। সাম্প্রতিক মেহেতা বিল্ডিং, থেকে শুরু করে ৯ই নভেম্বর রাতের উল্টোডাঙার বেআইনি কারখানায় আগুন লাগার ঘটনা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো কলকাতা আছে কলকাতাতেই। এই রাজ্যে পুজোর অনুমতি নিতে দমকল বিভাগের সার্টিফিকেট নিতে হয় কিন্তু ঘিঞ্জি ব্যবসার জায়গাতে সেই নজরদারির প্রয়োজন পরে না। কয়েকদিন আগেই পার্কস্ট্রিটের এ.পি.জে. বিল্ডিং, বড় দুর্ঘটনা থেকে বেঁচেছিল অগ্নিনির্বাপণের সুব্যবস্থা থাকার জন্য। প্রমাণ দিচ্ছে পুড়ে ছাড়খাড় হয়ে যাওয়া বাগরি মার্কেট চত্বর থেকে শুরু করে উল্টোডাঙ্গার 'বে-আইনি' কারখানা।

সম্প্রতি শহরে একের পর এক আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। বাগড়ি মার্কেটের আগুন সবথেকে ভয়ঙ্কর আকার ধারন করেছিল। পরে মেডিক্যাল কলেজ, ট্যাংরার চামড়া কারখানা, দক্ষিণ ২৪ পরগণার চামড়ার কারখানা , প্রিয়া সিনেমা হল থেকে শুরু করে সন্তোষপুর ত্রিকোণপার্কের পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া দুর্গা মণ্ডপ এবং এদিন রাতে কয়েক ঘন্টার তফাতে পর পর দুটি অগ্নিকান্ড। প্রথমে আনন্দপুরের কারখানায় আগুন পরে উল্টোডাঙ্গার কাগজ কারখানা। একমাত্র এপিজে বিল্ডিং ছাড়া কোনও জায়গাতেই সঠিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছিল না। হাওড়া কদমতলা মার্কেট। বছর দুয়েক আগে পুড়ে ছারখার হয়ে গিয়েছিল।

[espro-slider id=14098]

দুই বছর পরে বাজারের একটি দোকান বাদে কোনও দোকানে অগ্নিনির্বাপণ কোনও ব্যবস্থা নেই। ব্যবসায়ী থেকে বাজার কর্তৃপক্ষের অজুহাত, "আমরা জানি না কিভাবে ফায়ারের সিস্টেম করাতে হয়। কত খরচ হয় জানি না।" এই অজুহাত কি গ্রহণযোগ্য? আইনের ফাঁকি দিয়ে আদতে নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছেন হয়তো এটা কেউ বুঝতে চাইছেন না বা বোঝার চেষ্টাও করছেন না। নির্লিপ্ত পুরসভা।

প্রশাসন কতটা কড়া হচ্ছে তা নিয়েও থেকে যাচ্ছে প্রশ্ন? বাগড়ি মার্কেটের অত বড় অগ্নিকান্ড। বাগড়িদের এখনও সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। এখনও খোলা সম্ভব হয়নি দোকান। বাগড়ির পর থেকে এখনও পর্যন্ত যে কটি আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে শহরে দমকল মন্ত্রী হিসাবে শোভন চট্টোপাধ্যায় বেশিরভাগ স্থানেই হাজির হয়েছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারপর চলে গিয়েছেন। যাবার পথে প্রত্যেকবারই তাঁর বক্তব্য, " আমরা দেখছি। কি কারনে আগুন লাগল খতিয়ে দেখা হবে। সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

গত তিন মাসে কথাগুলি সব ক্ষেত্রেই একই। আদৌ কি পুরসভা চিন্তিত এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে, উঠছে এখন সেই প্রশ্নও। পাশাপাশি এটাও ঘটনা, যে আগুন লাগার হলে শত ব্যবস্থা থাকলেও আগুন লাগবেই। না হলে ইংরেজি বা বাংলা অভিধান থেকে অ্যাকসিডেন্ট বা দুর্ঘটনা কথাটাই উঠে যায়। কিন্তু সঠিক ব্যবস্থা থাকলে , একটু সতর্ক হলে অন্তত দুর্ঘটনা বড় আকার ধারন করে না। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও কিছু কমতে পারে। যার জ্বলন্ত উদাহরণ পার্কস্ট্রিটের এ. পি. জে. বিল্ডিং।

Related Articles

Stay Connected

17,141FansLike
3,912FollowersFollow
21,000SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles