আলোর উৎসবের আতঙ্কে তিন পরিবার

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শান্তনু বিশ্বাস, হাবড়াঃ রাজ্যসরকার শব্দবাজি নিষিদ্ধ করার পরেও বিক্রি হচ্ছে সেই শব্দবাজি। আর সেই শব্দবাজির আঘাতে গুরুতর জখম কাশীপুর মধ্যপাড়ার চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র নয়ন বিশ্বাস।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন ৭টা নাগাদ বন্ধুদের সাথে বেরিয়েছিল বছর এগারোর ওই কিশোর। আলোর উৎসবকে কেন্দ্র করে কম বেশি সকলের হাতেই ছিল রংবেরঙের বাজি, হঠাৎই এক বন্ধু বাজার থেকে চকলেট বাজি কিনে আনে বন্ধুরা ফাটাবে। এরপর রাস্তার পাশে কুড়িয়ে পায় একটি সেল বাজির খোল। তার মধ্যে রেখে সলতের মধ্যে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। কিছু সময় কেটে গেলেও চকলেট বাজিটি না ফাটায় উঁকি মেরে দেখতে যায় বছর এগারো নয়ন। আর ঐসময় বাজিটি ফেঁটে নয়নের বাঁ চোখ ঝলসে যায়। সাথে সাথে নয়নকে হাবড়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার প্রাথমিক চিকিৎসার পরে ছেড়ে দিলেও গভীর রাতে চোখের যন্ত্রনা সহ বমি করতে থাকায় ফের ওই রাতে নয়নকে হাবড়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে বারাসাত হাসপাতলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তী কালে উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।

নয়নের মা মনিকা বিশ্বাস বলেন, “এই শব্দ বাজি বন্ধ হোক, আমার ছেলের মত অন্য সন্তানের এমন ক্ষতি যেন না হয়, জানিনা ওকি ঠিক করে আর চোখে দেখতে পারবে”।

অপরদিকে ৮ই নভেম্বর সন্ধ‍্যায় শব্দবাজিতে ঝলসে গেল আরও দুই কিশোর। একজনের বয়স ১২ , বাড়ি হাবড়ার কাশিপুর এলাকায়। বন্ধুদের সাথে চরকি বাজি পোরাচ্ছিল নিত্যানন্দ পাল। তখনই আগুন ছিটকে এসে ঝলসে যায় তার ঘার ও কাছের বেশ কিছুটা জায়গা। এরপর ওই কিশোরকে নিয়ে আসা হয়েছে হাবড়া হাসপাতালে।

হাবড়ার কামারথুবা এলাকায় শব্দবাজির দরুন জখম হয় বছর ৯-এর অসিত মন্ডল নামে এক কিশোর। এদিন না ফাটা চকলেট বাজির সুতলি খুলে তুবরির মত পোরাতে গিয়ে ঝলসে গিয়েছে অসিতের মুখ। তাকেও নিয়ে আসা হয়েছে হাবড়া হাসপাতালে। লক্ষী পুজোর আগে থেকেই শব্দবাজী রুখতে পুলিশের তরফ থেকে নানা পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়। এমনকি গোপনে নজরদারি চালিয়েও উদ্ধারও হয়েছে শব্দবাজী, গ্রেফতারও হয়েছে নিষিদ্ধ শব্দবাজী বিক্রেতারা। কিন্তু কোথাও যেন এখনও প্রশ্ন থেকে গেল পুলিশের এই প্রচার বা ধরপাকরেও সাধারণ মানুষ কি একটুও সচেতন হতে পরেছে?

সম্পর্কিত সংবাদ