28 C
Kolkata
Sunday, July 14, 2024
spot_img

স্ত্রীর পরক্রিয়া সম্পর্কের জেরে আত্মঘাতী স্বামী, গ্রেফতার ২

 

শান্তনু বিশ্বাস, হাবড়াঃ হাবড়া থানার অন্তরগর্ত বানীপুর ইতনা মিলন সংঘ ক্লাব এলাকায় স্ত্রীর পরক্রিয়া সম্পর্ক হাতে নাতে ধরে ফেলে স্বামী, পরে স্থানীয় ক্লাবে মিটিং ,সুরাহা না পেয়ে ও সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে গাঁয়ে কেরাসিন তেল ঢেলে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা স্বামীর। অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়ি ভাঙচুর উত্তেজিত জনতার।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতো সুজয় পাল তার স্ত্রী সোমা পাল এবং তাদের ছয় বছরের মেয়ে সুতিষ্না পাল। পাশেই আর একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন সুজয়ের মা ও বাবা। সুজয় বাবু পেশায় সেলাই কারিগর। প্রতিবেশীদের অভিযোগ, দীর্ঘ প্রায় দুবছর ধরে পাশের বাড়ির আয়কর দপ্তরের কর্মী তপন দাসের সাথে অবৈর্ধ সম্পর্কে লিপ্ত হয়ে পরে সোমা পাল। এই নিয়ে পাড়াতে কানাঘুষো চলতো সব সময়। রবিবার সুজয় কাজ থেকে আসার পর স্ত্রীর সঙ্গে তপন দাসের সাথে ফোনে কথা বলতে দেখে ফেলে এই নিয়ে সোমার সাথে সুজয়ের অশান্তি বাধে। অবশেষে বাধ্য হয়ে মিমাংসা করার জন্য ক্লাবের দারস্থ হয় সুজয়।

এরপর রবিবার রাতেই ক্লাবে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করে। কিন্তু গভীর রাত পর্যন্ত আলোচনা করেও ক্লাব এই ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। সোমাও ওইদিনই বামনগাছিতে তাঁর বাপের বাড়িতে চলে যায়। অপরদিকে নিজেকে অপমানিত বোধ করতে থাকে সুজয়। আর তারপরই ৫ই নভেম্বর রাত সাড়ে ৭ টা নাগাদ নিজের ঘরে গাঁয়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন দেয় এবং অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় ঘর থেকে বাইরে বেড়িয়ে আসে ।

যদিও ঘটনার পর সাথে সাথে প্রতিবেশীরা উদ্ধার করে প্রথমে হাবড়া হাসপাতাল পরে বারাসাত এবং পরে তাঁর শারীরিক অবনতি হওয়ায় বাঙুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ৬ই নভেম্বর সকাল ৮ টা নাগাদ মারা যায় সুজয়। অন্যদিকে সোমবার রাতে ঘটনার কথা জানাজানি হতেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে এলাকায় , উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত তপন দাসের বাড়ি ভাঙচুর করে। পরে ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাবড়া থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশি সুত্রে জানা যায়, সুজয়ের দিদি হাবড়া থানায় সুজয়ের স্ত্রী সোমা পাল , তার প্রেমিক তপন দাস এবং তপনের স্ত্রী মঞ্জুলা দাসের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ দায়ের করে। সেইমত তপন দাস এবং তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে এখনও পর্যন্ত অধরা সোমা দাস। এছাড়া আরও জানা যায়, ধৃত দম্পতীকে ৬ই নভেম্বর বারাসাত আদালতে পাঠানো হয়েছে। গোটা ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বর্তমানে পুরো ঘটনার তদন্তে হাবড়া থানার পুলিশ।

Related Articles

Stay Connected

17,141FansLike
3,912FollowersFollow
21,000SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles