কালী পূজায় এবার নতুন ভাবনা ব্যারাকপুরের দুই ক্লাবের

কালী পূজায় এবার নতুন ভাবনা ব্যারাকপুরের দুই ক্লাবের

 

অরিন্দম রায় চৌধুরী, ব্যারাকপুরঃ কলকাতায় বা জেলায় যেখানেই কালী পূজা আয়োজিত হয়ে থাকে সেখানে আজকাল দেখা যায় থিমের প্রভাব। কোথাও গড়া হয়ে সোনা বা রুপো দিয়ে প্রতিমা বা কোথাও বা প্রতিমাকে মুড়িয়ে দেওয়া হয়ে সোনা বা রুপোর গহনা দিয়ে। কোথাও বা বিশালাকায় প্রতিমার চল। এসবের মাঝে এবারের কালী পূজায় ব্যারাকপুরের সদরবাজার নয়াবস্তির মহাবীর সমিতি ও মনিরামপুরের বয়েজ ক্লাবের পূজা যে একেবারে আলাদা তা দেখলেই বোঝা যায়।

সদরবাজার নয়াবস্তি মহাবীর সমিতির এবারের আয়োজন বাস্তবিক ফেলে দেওয়া নারকেলের খোল, জেনেরেটরের পাইপ, ফ্যান, ছোট্ট বাচ্চাদের খাওয়ার ঝিনুক, বেসিনের হোশ পাইপ দিয়ে গড়া প্যান্ডেল। এই সব ফেলে দেওয়া জিনিস দিয়ে নিপুন হাতে তৈরি হয়েছে নানা মডেল যেখানে সিলিং ফ্যান নিয়েছে পাখির রূপ বা নারকেলের খোল নিয়েছে মাথার আকার, বাচ্চাদের খাওয়ার ঝিনুক নিয়েছে মানুষের চোখের আকার ও হোশ পাইপ নিয়েছে মানুষের হাত ও পায়ের আকার। অনবদ্য এই শিল্পকলা না দেখলে অবশ্য এই বিবরণ বোঝা কিছুটা অসুবিধা হতে পারে।

[espro-slider id=13988]

আয়োজক মহাবীর সমিতির সদস্যরা সারা বছরই কিছু না কিছু জনকল্যাণ মূলক কর্মের সাথে যুক্ত থাকে। যেখানে তারা যেমন আয়োজন করে স্বাস্থ থেকে চক্ষু পরীক্ষা শিবিরের যার লাভ নিশ্চিত ভাবেই এলাকার গরীব মানুষরা যে পায় তা বলাই বাহুল্য। এই সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শিবু যাদব অবশ্য এই আয়োজন সম্পর্কে আমাদের বলেন, “দেখুন আমাদের এই নয়াবস্তি এলাকাটা ব্যারাকপুর শহরের একদম শেষ প্রান্তে হওয়ায়ে এখানে বেশীর ভাগ মানুষই হলো গরীব। এই গরীব মানুষদের কথা মাথায় রেখে আমরা সারা বছর কিছু না কিছু করি, যেমন হোলি আগে সবাইকে রং বা আবির উপহার দেই আবার ইদের আগে সবাইকে নতুন জামা কাপড় দিয়ে থাকি। এই দেখুন না পুজোর আগেও আমরা সবার জন্য নতুন জামা কাপড় ও শীত বস্ত্র দিয়েছি।” এবারের কালী পূজা সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিমা এবারে আমরা ত্রিবেণী থকে নিয়ে এসেছি। আর দেখুন সব জায়েগায় তো মানুষ নানান রং চঙ্গের ঠাকুর দেখে অভ্যস্ত, আর আমরা দেখুন মানুষের ফেলে দেওয়া জিনিসপত্র দিয়ে তৈরি করেছি আমাদের মন্ডপ। সাধারণত আমরা আমাদের বাড়ীর বাতিল জিনিসপত্র ফেলে দেই রাস্তার ধারে ডাস্টবিনে যা দেখতে সত্যিই দৃষ্টি কটু লাগে। এই সব আবর্জনাও যে কাজেও লাগতে পারে আর তা সাজালে কত সুন্দর হয়ে ওঠে তা তো আপনারা নিজেরাই দেখছেন। আমি সব দর্শনার্থীকে অনুরোধ করবো আমাদের মণ্ডপে একবার ঘুরে যাওয়ার। দেখুন এলাকায় পড়ে থাকা ফেলে দেওয়া আবর্জনাও যে সুন্দর ভাবে সাজানো যায় তা নিজের চোখে দেখে যাওয়ার জন্য।”

[espro-slider id=13998]

অপরদিকে মনিরামপুর বটতলা স্পোর্টিং ক্লাবের পূজা এবার তাদের প্রাকৃতিক ভারসাম্যের কথা বলছে। তাদের স্লোগান প্ল্যাস্টিক বর্জন করুন, আর তাই তারা মানুষের ফেলে দেওয়া ঠাণ্ডা পানীয় ও জলের বোতল থেকে শুরু করে জার, এই দিয়ে তৈরি করেছে তাদের প্যান্ডেল। তারা মানুষকে বোঝাতে চাইছে এই সব প্লাস্টিকের বোতল বা জার মাটির সাথে একেবারে মিশে যায় না, তা রয়ে যায় অনন্ত কাল ধরে, তা আমাদের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করে। তাই বটতলা স্পোর্টিং ক্লাবের এক কর্মকর্তার কথায়, “দেখুন কালী পূজা তো আলোক রোশনাই এর পূজা তাই আমরা রাস্তায় নানা রং এর আলোর যেমন ব্যাবস্থা রেখেছি তেমনই আবার অপরদিকে আমাদের বার্তা সকল দর্শনার্থীদের উদ্যেশে যে এখনই আমাদের ভাবতে হবে আমরা প্লাস্টিক বর্জন করবো কিনা? এখনই আমাদের ঠিক করতে হবে আমরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে কি সত্যিই উপহার দিতে চাই তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ?”

এই দুই পূজাই ৫ই নভেম্বর সাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে। যেখানে বটতলা স্পোর্টিং ক্লাবের পূজায় এবার তাদের আতিথ্য গ্রহণ করছেন বাংলা রুপোলী পরদার নায়িকা মিমি। আগামী ৬ই নভেম্বর রাত ৮টায় মিমি আসছেন বটতলা স্পোর্টিং ক্লাবের পূজা প্রাঙ্গণে।

You May Share This
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.