হাওড়া পুরসভা ব্যস্ত ব্যক্তিগত পরিষেবাতে, বঞ্চিত সাধারণ মানুষ

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

রাজীব মুখার্জী, ব্রাহ্মণ পাড়া, জগাছা, হাওড়াঃ  ৪ ঠা নভেম্বর রবিবার, বেলা প্রায় ১টা। ছুটির দিনে কেউ বাড়িতে কেউ পাড়ার চায়ের দোকানে আড্ডায় মগ্ন। কোথাও নেই ব্যাস্ততার চিহ্ন। এরই মধ্যে হঠাৎ করে উপস্থিত কর্পোরেশনের জঞ্জাল বিভাগের বেশ বড় একটি দল। তাদের দেখে এলাকার মানুষও অবাক। অনেকের মনে কৌতূহল। সেই দল সোজা গিয়ে ঢুকলো ভোলানাথ ব্যানার্জী, ধারসা ব্রাহ্মণ পাড়া, জি. আই. পি. কলোনী, থানা – জগাছা, হাওড়া -৭১১১১২- র বাড়িতে। এই বাড়ির ভেতরের জমা জঞ্জাল সাফাইয়ের কাজ শুরু করলো দলটি। এলাকার মানুষও অবাক এই দুপুর বেলায় পৌরসভার এই তৎপরতায়। বিষয়টি নজরে আসতেই আমরাও হাজির হই কি ঘটছে জানার জন্য। কথা বলে জানতে পারি এই দল এই বসত বাড়ির মধ্যে জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করতে এসেছে।

প্রসঙ্গত এই ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডেই কর্পোরেশন এর দৈনন্দিন কাজে দীর্ঘ দিন ধরেই অবহেলিত বলে আগেও অভিযোগ উঠেছিল শিবপুরের বর্ষীয়ান
বিধায়ক জটু লাহিড়ীর কন্যা ও ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের পৌরপ্রতিনিধি মুনমুন মুখার্জীর বিরুদ্ধে। আমরাও এর আগে প্রতিবেদন করেছিলাম এলাকার পৌরসভার কাজ কর্ম নিয়ে। এই ধারসা ব্রাহ্মণ পাড়া এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, এখানকার রাস্তার বেহাল অবস্থা নিয়ে, নিত্য দিনের জঞ্জাল সাফাই নিয়ে, ড্রেনেজ ব্যাবস্থার খারাপ হাল নিয়ে।

এমনকি এই এলাকার বাসিন্দা শ্যামল ব্যানার্জী বলেন ” এই এলাকাতে আমার জন্ম, সেই জন্ম থেকে দেখছি আজ পঞ্চাসের উপরে বয়স হয়েছে আমার, বিশেষ কিছু পরিবর্তন হয়নি। এখনো অল্প বৃষ্টিতেই জল জমে যায়, জুতো হাতে নিয়ে যেতে হয়। রাস্তা ভাঙা চোরা, বেহাল অবস্থা ড্রেনেজ ব্যবস্থার, পানীয় জলের সমস্যা, সন্ধ্যের দিকে রাস্তার আলো ঠিক মতো জ্বলে না। তবু রাজনৈতিক দলগুলো ভোটের সময় হাত জোর করে ভোট চাইতে ঠিক চলে আসে.”


এছাড়া আরো অভিযোগের পাহাড় জমে আছে হাওড়া পুরসভার ৪৮ নম্বর পৌর প্রতিনিধি মুনমুন মুখার্জীর বিরুদ্ধে। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেক বাসিন্দা অমিয় বাবু উত্তেজিত ভাবে বলছিলেন “এই বর্ষা গেলো, রাস্তা এখনো খানা খন্দে ভর্তি। অনেক দিন টোটো অব্দি উল্টে গেছে। একটু বৃষ্টি হলেই ভুগতে হয় নিত্যযাত্রী থেকে এলাকার বাদিন্দাদের। ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের জয়চণ্ডীতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধাড়সা প্রাথমিক বিদ্যালয়, জাগাছা হাই স্কুলের বাচ্ছাদের যেতে হয় এই রাস্তা দিয়েই। টোটো ও স্কুল ভ্যান উল্টে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। রাস্তায় জল জমলে এই রাস্তা বাদ দিয়ে প্রায় ৩ কিলোমিটার ঘুরে স্কুল যেতে হয় বাচ্ছাদের। এ বিষয়ে কাউন্সিলরকে জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি। কোনো উদ্যোগ নেই ওয়ার্ডের পৌর প্রতিনিধি মুনমুন মুখার্জী বা এলাকার বিধায়ক জটু লাহিড়ীর। যেমন কার তেমনই অবস্থা। আমরা ট্যাক্স দি, ভোট দি, তাহলে পরিষেবা কেনো পাবো না? “

এই এলাকার দীর্ঘদিনের বাসিন্দা ও এলাকার কংগ্রেসের নেতা স্বরূপ মুখার্জী সরাসরি অভিযোগের আঙ্গুল তুললেন পৌরসভার বিরুদ্ধে। আমাদের প্রতিনিধিকে তিনি বলেন, ” পুর পরিষেবা নেই বললেই চলে এই ওয়ার্ডে। এদিন যে বাড়িটিতে পৌরসভার জঞ্জাল বিভাগের কর্মীরা এসেছে এই বাড়িটি একটি ডিসপিউটেড সম্পত্তি। এ নিয়ে মামলা আজও চলছে। দিনের পর দিন এই বাড়িতে জঞ্জাল জমছে তার থেকে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে তার দিকে এতো দিন পুরসভার কোনো নজর পরেনি। তবে আজ হঠাৎ পুরসভার কেন এই উদ্যোগ তা বোঝা যাচ্ছে না।”

তিনি আরো বলেন, ” এই বাড়ির এক সদস্য হাওড়া পুরসভার মেয়র পরিষদ সদস্য ছিল বলে বোধহয় হয় পৌরসভা নিশ্চুপ ছিল “। পেশায় উকিল স্বরূপ বাবু জানান, ” এটা ব্যক্তিগত জমি এখানে পৌরসভা পরিষ্কারের কাজ করতে পারে না নিজের ইচ্ছা মতো। পৌরসভা আইনের ১১৪ নম্বর ধারায় পরিষ্কার বলা আছে যে ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে বিশেষ পরিষেবা পেতে পুরসভাকে বিশেষ লেভি প্রদানের মাধ্যমে এই পরিষেবা পাওয়া যেতে পারে কিন্তু যিনি সুপারভাইজার ছিলেন তিনি কোনো ‘ওয়ার্ক অর্ডার ‘ দেখাতে পারলেন না। “

আরো বেশ কিছু প্রশ্ন তিনি তুলে ধরলেন, “এতো বছর ধরে এই বাড়ির মধ্যে জঞ্জাল জমা হয়ে যাচ্ছে একবারও তো পৌরসভা থেকে আইন অনুযায়ী ২৩৭ নম্বর ধারাতে বাড়ির মালিককে কোনো নোটিশ কেনো দেওয়া হলো না? যেখানে সি. আর. পি. সি. এর ১৩৩ এর ধারার অনুচ্ছেদ নম্বর ডি – তে বলা আছে যে বসত বাড়িতে এভাবে জঞ্জাল জমা করা যায় না। সেখানে তাহলে কেনো পুরসভা কোনো পদক্ষেপ নিলো না?
আমরাও সরেজমিনে এলাকায় ঘুরে মানুষের অভিযোগ গুলো খুঁটিয়ে দেখার চেষ্টা করেছিলাম। আমাদের ক্যামেরাতে উঠে এসেছে একই চিত্র।

এই ওয়ার্ডের পৌরপ্রতিনিধি জানান ” এলাকায় যথেষ্ট কাজ হয়েছে, আরো কাজ হবে, কাজ না হওয়ার যে অভিযোগ উঠছে তা মিথ্যা ও উদেশ্য প্রনোদিত।” রাজনীতির তর্ক্য বিতর্ক যাই থাক, পুর পরিষেবা পাওয়ার অধিকার এটা রাজনীতির ঊর্ধ্বের একটি বিষয়। এখানে মানুষের সেই অধিকার খর্ব হচ্ছে। ক্ষোভ জমছে মানুষের মনে কিন্তু সেই ক্ষোভ শোনার মতো কাউকে হাতের কাছে খুঁজে পান না এলাকার বাসিন্দারা। একটা ভোট পর্ব মিটলে নেতাদের প্রতিশ্রুতি ও নেতারা কর্পূরের মতো উবে যায়। ভোটে নেতাদের ভাগ্য বদলে গেলেও বদলায়না এলাকার ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার দুর্ভোগের ছবি।

সম্পর্কিত সংবাদ