ক্যালেন্ডারের পাতা ধরে “সেভ ড্রাইভ, সেভ লাইফ ” প্রচার হাওড়া ট্রাফিক পুলিশের

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

রাজীব মুখার্জী, হাওড়াঃ  কলকাতার সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত জেলার মতো হাওড়া জেলাতেও পথ নিরাপত্তা বাড়াতে ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ বা “সামলে চালাও, প্রাণ বাঁচাও” কর্মসূচির প্রচার শুরু করেছিল রাজ্য সরকার ২০১৬ থেকে কিন্তু শুরুর দিকে যানবাহন সামলাতে হাওড়া জেলা পুলিশের ট্র্যাফিক বিভাগের পরিকাঠামো তেমন ছিল না। এই সমস্যার মোকাবিলায় হাওড়া জেলা পুলিশের ট্র্যাফিক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হয়েছিল নবান্ন থেকে। হাওড়া জেলায় ডি. এস. পি. (ট্রাফিক) পদ মর্যাদা তৈরি করে, সেই পদে দক্ষ অফিসারকে নিয়োগ করে তারই নেতৃত্বে দায়িত্বে রেখে শুরুর করা হয়েছিল এই প্রচার। রাস্তার প্রতিটা মোড়ে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা, সিসিটিভি ক্যামেরা-সহ নানা উন্নত যন্ত্র বসানো হয়েছে। নবান্ন থেকে নির্দেশ জারি করা হয়েছিল রাজ্যের সমস্ত পেট্রল পাম্প গুলোতে “হেলমেট ছাড়া তেল নয় “। গতি নিয়ন্ত্রক মিটার, এলকোহল টেস্টার হাতে এসেছে ট্রাফিকের হাতে, ফলশ্রুতি তথ্য বলছে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা কমেছে এই রাজ্যে। একই ছবি ফুটে উঠলো ২রা নভেম্বর হাওড়া শহরের বিভিন্ন জায়গায়।

হাওড়া পুলিশের এক কর্তা এদিন জানালেন, ‘‘আগে একজন ডি.এস.পি. অন্য বিভাগের পাশাপাশি ট্র্যাফিক দেখতেন। তাতে নজরদারির ফাঁক থাকত। সেইটা পূরণ করার জন্য সদ্য প্রশিক্ষণ সাঙ্গ করা অফিসারদেরই মূলত এই পদে নিয়োগ করা হচ্ছে।’’

উচ্চ পদস্থ এক পুলিশ কর্তা জানান, রাজ্য স্তরে ট্র্যাফিক পুলিশের জন্য আই.জি. এ.ডি.জি. পদমর্যাদার অফিসারেরা আছেন এবং জেলার ডি.এস.পি. (ট্র্যাফিক) সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারের অধীনেই থাকবেন। কীভাবে জেলা স্তরে ট্র্যাফিক বিভাগ সামলাতে হবে এবং সেই বিষয়ে সমস্ত তথ্য তারা দেবেন সরাসরি জেলায় এস. পি. কেই.। গোটা রাজ্যের পুলিশের তথ্য যেখানে বলছে, বাংলার ১৫ টি রাজ্য সড়কের দৈর্ঘ্য ৪ হাজার কিলোমিটার। জাতীয় সড়ক রয়েছে প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার। দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়েতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো ও সাংসদ অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের দুর্ঘটনার পরেই নবান্ন রাজ্য ও জাতীয় সড়কে ট্র্যাফিক ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ শুরু করে। কলকাতা পুলিশের ট্র্যাফিক গার্ডের আদলে জেলায় ট্র্যাফিক পুলিশ ফাঁড়ি’ তৈরি করা হয় সব জেলা জুড়ে।

রাজ্য পুলিশের একাংশের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ কর্মসূচি চালু হওয়ার পরে দুর্ঘটনার সংখ্যা আগের থেকে অনেকটাই কমেছে।
প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার হাওড়া ট্রাফিক পুলিশের থেকে “সেভ ড্রাইভ, সেভ লাইফ ” ক্যাম্পেন চালানো হয় প্রচার করার জন্য। তারই অঙ্গ হিসাবে এদিন সকাল থেকে হাওড়া ব্রিজের উপরেই যে ট্রাফিক বুথ টি আছে সেখানে দেখা গেলো তৎপরতা। বিনা হেলমেটের বাইক আরোহী থেকে, পায়ে চালানো সাইকেল বা অসুরক্ষিত অবস্থায় রাস্তা পেরোনো পথচারী কোনোটাই হাওড়া পুলিশের ট্রাফিকের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের নজর এড়ায়নি।

কর্মরত এক ট্রাফিক পুলিশের দাবি, বেপরোয়া গাড়ি চিহ্নিত করতে সি.সি. টি. ভি. ক্যামেরা “অটোম্যাটিক নম্বর প্লেট রেকর্ডিং ক্যামেরা” (এ.এন.পি.আর.) ও “লেজার স্পিডগান” হাতে আসার পরে বিভিন্ন মোড়ের গুরুত্ব অনুযায়ী সেগুলি বসানো হয়েছে এবং এইটা খুব কাজে দিয়েছে।

অপরদিকে এদিন হাওড়া মল্লিক ফটকের সামনে স্থানীয় উর্দু মিডিয়াম স্কুলের ছাত্ররাও অংশগ্রহণ করে এই প্রচার অভিযানে। এদিন সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে প্রায় ১২ টা অব্ধি চলে স্থানীয় উর্দু মিডিয়াম স্কুল এবং হাওড়া পুলিশের যৌথ উদ্যোগে ‘”সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’” প্রচারাভিযান। রাস্তায় স্কুটার, বাইক থামিয়ে কখনো হেলমেটে কখনো বাইকের সামনে স্টিকার লাগানো হয়।

বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির অনুপ্রেরণায় এই প্রকল্পটি চালু হয়েছিল। মানুষের জীবন যাতে রাস্তায় ঝুঁকিপূর্ণ না হয়ে ওঠে, সেই চিন্তা থেকেই মুখ্যমন্ত্রী এই প্রচার অভিযান শুরু করিয়েছিলেন। সেই থেকেই শুরু হয় ‘‌সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’‌ প্রকল্প গোটা রাজ্যের সাথে হাওড়া জেলা জুড়ে। এদিনের এই প্রচার অভিযানে হাজির ছিলেন হাওড়া পুলিশের ট্রাফিকের আধিকারিকরাও। সকলের সহযোগিতায় এই প্রচারাভিযান সফল হয়।

সম্পর্কিত সংবাদ