গায়ে আগুন মানসিক অবসাদগ্রস্থ যুবকের, অধরা মুখ্যমন্ত্রী

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

রাজীব মুখার্জী, নবান্ন, হাওড়াঃ নবান্নের হাই সিকিউরিটি জোনের সামনেই গায়ে আগুন দিলেন এক ব্যক্তি। ২রা নভেম্বর দুপুর সাড়ে ৩ টে নাগাদ ঘটনাটি ঘটে নবান্নের ভিআইপি গেট থেকে সামান্য দূরে। মূহূর্তের মধ্যে আগুন তাঁর গোটা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। জ্বলন্ত অবস্থাতেই তিনি দৌড়ে যান নবান্নের ভিআইপি গেটের দিকে। গেট থেকে কিছুটা দূরে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় পড়ে যান ওই ব্যক্তি। নবান্নের গেটে থাকা কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা ছুটে যান। তাঁরা ওই ব্যক্তির গায়ের আগুন নিভিয়ে উদ্ধার করতে করতেই তাঁর দেহের একটা বড় অংশ পুড়ে যায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তির নাম বাপন সাহা। বছর চল্লিশের ওই ব্যক্তি হাওড়ার গোলাবাড়ি থানা এলাকার বাসিন্দা। নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভি. ভি.আই. পি. জোনের যাতায়াতের পথেই এই ব্যক্তি গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন। এই ঘটনাকে ঘিরে এদিন বিকেলে রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায় নবান্ন চত্বরে। অগ্নিকাণ্ডের জেরে তার শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়ে গেছে। এদিন বিকেল পৌনে ৪ টে নাগাদ আচমকাই ঘটনাটি কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের নজরে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এদিন ভি.আই.পি. গেট থেকে প্রায় ৫০ মিটার দূরে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়েছিলেন। কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা কিছু বোঝার আগেই হঠাৎ সেই ব্যক্তি একটি প্লাস্টিকের বোতল বার করে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে নেন। তারপরেই “জয় মা কালী” চিৎকার করতে করতে দেশলাইয়ের জ্বলন্ত কাঠি গায়ে দিয়ে দেন। আর ততক্ষণে ওই ব্যক্তির সারা শরীরে আগুন জ্বলে উঠেছে। নবান্নে আপদকালীন পরিস্থিতিতে থাকা অ্যাম্বুলেন্সে চাপিয়েই তাঁকে দ্রুত হাওড়ার লর্ডস নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে পাঠানো হয় এন. আর. এস. এ। তবে ওই ব্যক্তি কেন গায়ে আগুন লাগালেন, তা এখনও জানা যায়নি।

ঘটনার সময় মুখ্যমন্ত্রী নবান্নে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি এদিনই সকালে উত্তরবঙ্গ সফর সেরে ফিরেছেন। যদিও ঘটনার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি নবান্ন থেকে বেরিয়ে দ্বিতীয় হুগলি সেতুতে ওঠার দিকে এই পথ ধরেই দ্বিতীয় হুগলি সেতুতে ওঠে। ইতিমধ্যেই পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

প্রসঙ্গত প্রায় ৪ মাস আগে দিল্লি থেকে বেসরকারি সংস্থার চাকরি ছেড়ে দিয়ে তিনি কলকাতায় ফিরে আসেন। তারপর থেকে তিনি বেকার। তখন থেকেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। সেই অবসাদের জেরেই এই আত্মহত্যার চেষ্টা বলে মনে করছে পুলিশ। এদিনের এই ঘটনায় এখনো স্তম্ভিত নবান্ন এলাকার বাসিন্দারা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বাপনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। দুই দিন ধরে তিনি নিঁখোজ ছিলেন। গোলাবাড়ি থানায় নিখোঁজ ডায়েরিও করেন বাপনের পরিবার। কিন্তু নবান্নের মত হাই সিকিউরিটি জোনের সামনে কীভাবে এক ব্যক্তি এই ঘটনা ঘটালেন তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন?

অপরদিকে নবান্নের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ কর্মী বলেন, “কী ভাবে ঘটনাটি ঘটল তা নিয়ে তদন্ত হবে।”

সম্পর্কিত সংবাদ

Leave a Comment