পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে হারিয়ে বিশ্ব ব্যাডমিন্টনে বিস্ময় ছড়ালেন শুভঙ্কর

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

ওয়েব ডেস্ক, বেঙ্গল টুডেঃ   বাবা সরকারি কর্মচারি। ছেলের খেলাধূলার প্রতি প্রবল টান। ছেলের হুজুগে বাবা যে উৎসাহ জোগাননি তা নয়। কিন্তু বাবার ইচ্ছে ছিল, ব্যাডমিন্টন যেন ছেলের সরকারি চাকরি জোগারের আধার হয়। ছেলে সেখানেই বেঁকে বসেছিল। প্রতিভা, পরিশ্রম, উৎসাহ, চেষ্টার মূল্য কখনও সরকারি চাকরির সুখী ঘেরাটোপে আটকে থাকতে পারে না। ছেলে প্রথমে বাবাকে বোঝানোর চেষ্টা করে। বাবা গতানুগতিকতায় গা ভাসানো মানুষ। ছেলের উচ্চাকাঙ্ক্ষা আঁচ করতে পারেননি।

এরপর শুভঙ্কর দে বেলঘরিয়া থেকে দৌড় শুরু করেছিলেন। ডেনমার্ক, জার্মানি, লন্ডন হয়ে এখনও গন্তব্য খুঁজে চলেছেন। থামবার জো নেই। বরং আরও উঁচুতে ওড়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। শুভঙ্করের উড়ানে কোনও গলদ ছিল না। সেটা যেন আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল।

মাত্র ১৬ বছর বয়সে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন স্বপ্নপূরণের নেশায়। সেই নেশাই তাঁকে উড়ানের জ্বালানি জুগিয়ে চলেছে এখনও। কলকাতা ছেড়ে বহু আগে চলে যাওয়া সেই শুভঙ্কর এবার হারালেন পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও দুবারের ওলিম্পিকে সোনা জয়ী লিন ডানকে। বিশ্ব ব্যাডমিন্টনে শুভঙ্কর এখন ৬৪ নম্বরে। লিন ডান ১২। সার লর লাক্স ওপেনে শুভঙ্কর ৪৫ মিনিট হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর হারালেন লিন ডানকে। ২২-২০, ২১-১৯ ম্যাচের ফল।

আর পাঁচজন শাটলার-এর মতো শুভঙ্করের কলকাতা ছেড়ে যাওয়ার কারণও একই। জার্মানি থেকে শুভঙ্কর বলছিলেন, ”হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরুতে ব্যাডমিন্টন অ্যাকাডেমিগুলোতে দুই বেলা ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। কলকাতায় এমন কোনও অ্যাকাডেমি নেই। এখানে আসল সমস্যা হল পরিকাঠামোর অভাব। কলকাতায় থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চের জন্য প্রস্তুতি নেওয়াটা কার্যত অসম্ভব। সেই জন্য আমাকে কলকাতা ছেড়ে বেরোতেই হত। বাবা চেয়েছিল আমি যেন কলকাতাতেই চাকরি নিয়ে থেকে যাই। ১৩ বছর বয়সে আমি স্টেট চ্যাম্পিয়ন হই। তারপর ১৬ বছর বয়স থেকেই এদিক-ওদিক থেকে চাকরির বিভিন্ন প্রস্তাব আসছিল। বাবার বক্তব্য ছিল, বাইরে খেলতে গেলে আমার চোট লাগতে পারে। তাছাড়া বাইরে খেলতে গেলে হাজার রকম ঝক্কি রয়েছে। কিন্তু আমি নিজের কেরিয়ার একটু অন্যভাবে গড়ার কথা ভেবেছিলাম। নিশ্চিন্তে কাটানোর জীবন কখনও চাইনি।”

প্রসঙ্গত মাস কয়েক হল সোদপুরে একখানা রেসিডেন্সিয়াল ব্যাডমিন্টন অ্যাকাডেমি শুরু করেছেন শুভঙ্কর। আপাতত খান চল্লিশেক ছাত্র সেখানে ট্রেনিং করেন। আপাতমস্তক পেশাদারিত্বের মোড়া সেই অ্যাকাডেমি। ঠিক যেমনভাবে হায়দরাবাদের গোপীচাঁদ অ্যাকাডেমি বা বেঙ্গালুরুতে বিমল কুমার অ্যাকাডেমি কাজ করে, শুভঙ্কর সেরকম পেশাদারিত্ব মেপে চলতে চান। তার জন্য সোদপুরে নিজের অ্যাকাডেমিতে ইন্দোনেশিয়ান কোচকেও দায়িত্বে রেখেছেন শুভঙ্কর। দেশের জার্সি গায়ে এবার সৈয়দ মোদি গ্রাঁপ্রিতে নামবেন। তাছাড়া দুবাই ওপেনেও খেলবেন। তার আগে গোটা ডিসেম্বরে নিজের সোদপুরের অ্যাকাডেমিতে থেকেই ট্রেনিং করবেন শুভঙ্কর।

সম্পর্কিত সংবাদ